ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি সংঘাত: ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনায় পশ্চিম তীরের বসতি স্থাপনকারীদের উদ্বেগ
নতুন পয়গাম,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি সংঘাত নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করছে। এবারের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন পশ্চিম তীরের বসতি স্থাপনকারীদের নেতা ইয়োসি দাগান, যিনি প্রকাশ করেছেন গভীর উদ্বেগ। তাঁর মতে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে এগোতে পারে, যা ইসরায়েলের জন্য ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনতে পারে।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে নেতানিয়াহু এবং পশ্চিম তীরের কিছু বসতি স্থাপনকারী নেতা অংশ নেন। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে দাগান বলেন, আলোচনায় দীর্ঘ সময় ব্যয় হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি ও তার সহকর্মীরা গভীর উদ্বেগ নিয়ে বেরিয়ে এসেছেন।
দাগানের বক্তব্য:
“আমার মূল উদ্বেগ হলো সরকার হয়তো স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে অনুমোদন দিতে পারে। যদি তা ঘটে, তাহলে ইসরায়েল আবারও ৭ অক্টোবরের মতো এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে।”
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীর দখলে ইসরায়েল ক্রমাগত জোর দিয়েছে। একের পর এক নতুন বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়েছিল, যা কার্যকর করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক চাপের কারণে এই প্রকল্পগুলো স্থগিত রাখা হয়েছে।
বৈঠকে দাগান এবং তার সহকর্মীরা উক্ত স্থগিতাদেশের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং জানতে চেয়েছেন, কবে নাগাদ এই স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হবে। বৈঠকে নেতানিয়াহু তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন, তবে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।
দাগান বলেন:
“নেতানিয়াহু আমাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন, কিন্তু স্পষ্ট কোনো সময়সীমা দেননি। এই অনিশ্চয়তা বসতি স্থাপনকারীদের মধ্যে সন্দেহ আরও বৃদ্ধি করেছে। আমরা আশঙ্কা করছি, সরকার ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অনুমোদনপত্রে স্বাক্ষর করে ফেলবে।”
দাগান জানান, বর্তমান পরিস্থিতি একটি জটিল সমীকরণ তৈরি করেছে। একদিকে ইসরায়েলি সরকার আন্তর্জাতিক চাপের ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণের জন্য চাপের মধ্যে রয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, যদি সরকার ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে অনুমোদন দেয়, তবে পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা এবং জনগণ সংঘাত ও সহিংসতার সম্ভাব্য নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে।
এই বৈঠক আন্তর্জাতিকভাবে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে কারণ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়টি পশ্চিমা এবং মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক রাষ্ট্রগুলো এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া longstanding দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের অংশ। কিন্তু ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং বসতি স্থাপনকারীদের চাপ এই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইসরায়েলি সরকার একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছে, যেখানে আন্তর্জাতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ সমর্থকদের প্রত্যাশার মধ্যে সঠিক সমন্বয় করতে হবে। তবে দাগানের মন্তব্য এবং বসতি স্থাপনকারীদের উদ্বেগ এটি স্পষ্ট করে যে, সরকার যদি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় এগোতে চায়, তা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং নতুন রাজনৈতিক চাপের জন্ম দিতে পারে।
দাগানের আরও বক্তব্য:
“আমাদের আশঙ্কা আছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। আমাদের লক্ষ্য হলো আমাদের জনগণ ও বসতি স্থাপনকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা।”
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইসরায়েলি সরকার যখন আন্তর্জাতিক চাপ ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবে, তখন রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে। বসতি স্থাপনকারীদের উদ্বেগ, দাগানের মতামত এবং আন্তর্জাতিক চাপ—এই সব মিশিয়ে একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকার ভবিষ্যত রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।








