ট্রাম্পের নতুন মধ্যস্থতাকারী প্রস্তাবনায় গাজা: নেতানিয়াহু ও হামাসের মধ্যে মতবিরোধ
নতুন পয়গাম,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি গাজা যুদ্ধ বন্ধের জন্য নতুন একটি মধ্যস্থতাকারী প্রস্তাবনা পেশ করেছেন। তবে এই প্রস্তাবনার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা নিয়ে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম স্কাই নিউজ সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রাথমিক আলোচনা ফলপ্রসূ হলেও এই মতানৈক্য চুক্তি হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
প্রস্তাবনাটির মূল উদ্দেশ্য হলো গাজা উপত্যকার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, শহরের পুনর্গঠন করা, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাঠামোগত পরিবর্তন আনা এবং উপত্যকার ভবিষ্যত রাজনীতি নির্ধারণে একটি সমন্বিত রূপ দান করা। তবে সমস্যা দেখা দিয়েছে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ এবং প্রশাসনে অন্তর্ভুক্ত না করার ধারা নিয়ে। এছাড়া ফিলিস্তিনি বিভাজন এবং নাগরিক জটিলতা বজায় রেখে একটি বিকল্প প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করার প্রস্তাবও নেতানিয়াহুর জন্য অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্তব্য (ফক্সনিউজ):
“হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ সম্পর্কিত ধারাটি অস্পষ্ট। বিশেষ করে আক্রমণাত্মক অস্ত্রের সংজ্ঞায়নেও অস্পষ্টতা রয়েছে। এই অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়েই পরে হামাস ইসরাইলি নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করবে।”
“যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর হামাস নেতাদের উপত্যকায় ফেরার বিষয়েও আমার আপত্তি রয়েছে। একইসাথে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারাকেও আমি প্রত্যাখ্যান করি। দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ইসরাইলের আদর্শের সাথে যায় না।”
সূত্র জানিয়েছে, নতুন প্রস্তাবনাটি কাগজে-কলমে বেশ বিস্তৃত মনে হচ্ছে। এতে উপত্যকার পুনর্গঠন, নিরাপত্তা কাঠামো, প্রশাসনিক সংস্কার এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সংশোধনসহ ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কাঠামো সংক্রান্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে সমস্যা বিশেষ করে হামাসকে প্রশাসনের বাইরে রাখার ধারা এবং উপত্যকায় শান্তি বজায় রাখার জন্য নতুন কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রক্রিয়ায় দেখা দিয়েছে।
ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসও কিছু ধারায় আপত্তি জানিয়েছে। তারা বিশেষ করে প্রস্তাবনার এমন অংশ নিয়ে অসন্তুষ্ট যে, যেখানে ফিলিস্তিনি বিভাজন বজায় রেখে প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির কথা বলা হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, হামাস উপত্যকার প্রশাসনে সরাসরি অংশগ্রহণ করবে না, যা তাদের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, নেতানিয়াহু এখনো পশ্চিমতীরের কিছু অংশকে ইসরাইলের সঙ্গে একীভূত করার ওপর জোর দিচ্ছেন। তবে আন্তর্জাতিক চাপের কারণে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, এই পদক্ষেপকে ওয়াশিংটন কখনো অনুমোদন করবে না। নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মার্কিন দূত স্টিভ উইকভের সঙ্গে চারবার বৈঠক করেছেন। বৈঠকে গাজা যুদ্ধের পরিস্থিতি এবং প্রস্তাবনার ধারাগুলোর নানা ফাঁকফোকর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
সূত্র আরও জানিয়েছে, চুক্তির গঠন এখনও কিছু মৌলিক মতবিরোধ রাখে। প্রত্যেকটি ধারা এখনো চূড়ান্তভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। নেতানিয়াহু কিছু পরিবর্তন যোগ করার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং আশা করছেন, আলোচনার মাধ্যমে প্রস্তাবনার দুর্বল ধারা সংশোধন সম্ভব হবে।
প্রাথমিক কূটনৈতিক ধারণা:
“নতুন প্রস্তাবনা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তবে এই মতানৈক্য চুক্তি হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ধারাটিকে প্রস্তাবে রাখা হয়েছে মূলত দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সুবিধার কারণে। এর মাধ্যমে ইসরাইল ও আরব রাষ্ট্রগুলো, বিশেষ করে সৌদি আরব, সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ খোলা থাকে। তবে ইসরাইলের বর্তমান প্রশাসন এবং নেতানিয়াহু পশ্চিমতীরের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।
চুক্তি চূড়ান্ত করতে গেলে এখনও বেশ কিছু প্রশাসনিক, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক বিষয়ের সমাধান আবশ্যক। বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজর এখন ট্রাম্পের মধ্যস্থতাকারী প্রস্তাবনার ফলাফল এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিনি দুই পক্ষের প্রতিক্রিয়ার ওপর।








