মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার এখনই সময়
বিশেষ প্রতিবেদন
নতুন পয়গাম:
ফিলিস্তিন ও গাজা পৃথিবীর মজলুম জনপদের অন্যতম নাম। ফিলিস্তিনে যায়নবাদী ইহুদিদের সামরিক হামলায় গাজা আজ বিধ্বস্ত। অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল এখানে প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। আন্তর্জাতিক আদালতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা চলছে। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত আইসিজে-তে ইসরাইলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলায় পক্ষভুক্ত হয়েছে ব্রাজিলও। মামলায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের গাজায় ‘জাতিগত নিধন’ চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের বিবৃতিতে বলা হয়, ব্রাজিল আইসিজে বিধির ৬৩ নম্বর অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে মামলায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রসংঘের যেকোন সদস্য দেশ মামলায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, যদি মামলাটি এমন কোনো চুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, যেটির পক্ষ তারা নিজেও।
ব্রাজিল এই অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে বলেছে, ইসরাইল ১৯৪৮ সালের জেনোসাইড কনভেনশন লঙ্ঘন করছে। ইসরাইলের গণহত্যার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় প্রবল থেকে প্রবলতর হচ্ছে। রাষ্ট্রসংঘের ৮০তম বার্ষিক অধিবেশন শুরুর আগে থেকেই সারা বিশ্ববাসী নতুন করে জেগে উঠেছে। ইতিমধ্যে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে প্রায় ১৬০টি দেশ। বাকি রইল আর ৩৫টার মতো দেশ। এদের মধ্যে কয়েকটা দেশ চলতি বছরের মধ্যেই স্বীকৃতি দেবে বলে জানিয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের ৮০তম অধিবেশনটি শুরুর আগেই প্রভাবশালী ও শক্তিধর দেশের এসব স্বীকৃতিকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ ও বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ।
আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রতিদিন ফিলিস্তিনের নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি পাশবিকতা ও নির্মমতার চিত্র আসছে। ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠী মারণাস্ত্র ব্যবহারের সাথে সাথে নির্লজ্জভাবে ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। গুলি-বোমার আঘাতে নিহত ও ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পারা মানুষের মৃত্যুমিছিল বাড়ছে। ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণও মিলেছে। তারা জনপদ এলাকায় আক্রমণ এবং ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি, গাজায় পানি, খাদ্য এবং ওষুধ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া, হাসপাতাল এবং চিকিৎসা কেন্দ্র ধ্বংস করছে। এমতাবস্থায় বিবেকবান কারো পক্ষেই ইসরাইলকে সমর্থন করা সম্ভব নয়। ধর্ম-বর্ণ, ভৌগোলিক সীমানার বিভেদ ভেঙে গাজাবাসীর পক্ষে দাঁড়ানোকে তাদের মানবিক দায়িত্ব বলে মনে করছে।
প্রতিটি মুসলিম দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সাধারণ জনগণের এখন আর বসে থাকার সময় নেই। স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা সময়ের অপরিহার্য দাবি এবং ঈমানী তাকাজা। এই দাবি পূরণে মুসলিম বিশ্ব ব্যর্থ হলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না। ফিলিস্তিন আর গাজার নারী, শিশু ও অসহায় মানুষের অভিশাপে পৃথিবী তার ভারসাম্য হারাবে। যারা আজ নিরাপদে আছেন ভেবে চুপ করে আছেন, তাদের এ শাস্তি দায়ী হবে না। যা কারো কাম্য নয়। তাই যার যার অবস্থান থেকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সধ্যমতো ভূমিকা রাখার বিকল্প নেই।








