রেল কর্মীদের বোনাস বাড়েনি এক দশক
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ফুঁসছে সেইল কর্মী, অফিসাররাও
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি ও কলকাতা, ২৫ সেপ্টেম্বর:
পুজো কিংবা ঈদে বোনাস পায় কেন্দ্র এবং রাজ্য উভয় সরকারের কর্মচারীরাই। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, কেন্দ্র সরকারের হাতে থাকা রেল মন্ত্রক তাদের কর্মীদের পুজো-বোনাস এক দশক ধরে একই আছে, একটুও বাড়েনি। ২০১৪ সাল থেকে সেই একই হারে ৭৮দিনের বোনাস দিয়ে চলেছে রেল মন্ত্রক। যা নিয়ে রেলের শ্রমিক, কর্মচারী ও অফিসার মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
তাদের অভিযোগ, ন্যূনতম বেতন ৭ হাজার টাকা ধরে রেলমন্ত্রক বোনাস নির্ধারণ করে। ৭৮দিনের বোনাস দিয়েও সর্বোচ্চ বোনাস হবে ১৭,৯৫০ টাকা। কর্মীদের দাবি, ২০১৪ সাল থেকে কেন্দ্র একই হারে বোনাস দিয়ে যাচ্ছে। অথচ জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় খরচ বাড়ছে। বাজারমূল্য হু হু করে বাড়ছে। অথচ কেন্দ্র সরকার বা রেলমন্ত্রক কর্মীদের বোনাস বাড়াচ্ছে না। প্রতি বছর রেলের মুনাফা বাড়ছে। তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বোনাসও বাড়ার কথা। কিন্তু তাদের ন্যায়সংগত দাবি-দাওয়ায় কর্ণপাত করছে না রেলমন্ত্রক।
২০০৬ সালের পে কমিশন অনুযায়ী রেলকর্মীদের ন্যূনতম বেতন ছিল ৭০০০টাকা। ২০১৬ সালে নতুন পে কমিশনের বেতন কাঠামো বহু বছর আগেই লাগু হয়েছে। সেখানে ন্যূনতম বেতন করা হয়েছে ১৮ হাজার টাকা। ২০২৬ সালে প্রধানমন্ত্রী অষ্টম পে কমিশনের ঘোষণা করেছেন। অথচ এখনও সেই ষষ্ঠ পে কমিশনের বেতন কাঠামো ধরেই বোনাস নির্ণয় করছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। ফলে বোনাস নিয়ে প্রবল অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে রেল কর্মীদের মধ্যে।
রেল কর্মী ইউনিয়নের দাবি, বোনাস হিসেবের ক্ষেত্রে ২০১৬ সালের পে কমিশনের সুপারিশ মেনে বেতন ন্যূনতম ২৫ হাজার টাকা ধরে বোনাস দেওয়া হোক। কিন্তু তা না করায় বিষয়টিকে বিজেপির শ্রমিক শোষণ নীতির নমুনা বলছে ইউনিয়ন। রেলের
পাশাপাশি বোনাস নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে আরেক কেন্দ্রীয় সংস্থা সেইল-এর কর্মীরাও। ২০২২ সালে তাদের বোনাস ছিল ৪০ হাজার ৫০০টাকা। অথচ ২০২৫ সালে তাঁদের জন্য বোনাস বরাদ্দ হয়েছে ২৯ হাজার ৫০০টাকা। অথছ শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে বৈঠকে কর্তৃপক্ষ ৩১ হাজার টাকা বোনাসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু তখন ইউনিয়নগুলো ৩২ হাজার ৫০০টাকার দাবিতে অনড় থাকায় বৈঠক ভেস্তে যায়।
এরপর দেখা যায়, শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে ২৯ হাজার ৫০০টাকা বোনাস এসেছে। ইউনিয়নের তরফে জানানো হয়েছে, এর প্রতিবাদে শুক্রবার কর্মীরা সবাই কালো ব্যাচ করে সেইলের অফিস বা কারখানায় যাবেন। অধিকর্তাদেরকে ঘেরাও করার হুমকিও দেয় ইউনিয়ন।








