নিঃসন্তান মহিলার সম্পত্তি পাবে শ্বশুরবাড়ির লোকেরাই: শীর্ষ কোর্ট
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি, ২৪ সেপ্টেম্বর:
নিঃসন্তান হলে বা উত্তরাধিকারী না থাকলে বিবাহিত হিন্দু মহিলাদের সম্পত্তির ভাগ পাবেন স্বামীর উত্তরাধিকারীরা। ওই মহিলার বাপের বাড়ির কেউ ওই সম্পত্তি দাবি করতে পারবে না। কারণ, বিয়ের সময় হিন্দু মহিলাদের গোত্র বদলে যায়। ১৯৫৬ সালের হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, কোনও হিন্দু মহিলা যদি স্বামী-সন্তানহীন অবস্থায় মারা যান এবং তাঁর কোনও উইল বা ইচ্ছাপত্র না করা থাকে, তাহলে তাঁর সম্পত্তি পাবে স্বামীর উত্তরাধিকারীরা। এই ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া মামলার শুনানি চলাকালে এই মন্তব্য করেছেন বিচারপতি বি.ভি নাগারত্না। বুধবার তিনি সাফ বলেন, বিয়ের পর মেয়েদের দায়িত্ব স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকদের। ফলে তাঁর সম্পত্তিতে অধিকারও শ্বশুরবাড়ির লোকদের।
এই মর্মে মামলার পর্যবেক্ষণে এদিন বিচারপতি নাগরত্ন বলেন, হিন্দু মেয়েদের বিয়ে হলে বা কন্যাদানের সময় নাম-গোত্র বদলে যায়। আর এই গোত্র বদলের সঙ্গে সঙ্গেই মহিলাদের যাবতীয় দায়-দায়িত্ব চলে যায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির ওপর। স্বভাবতই তাঁর সম্পত্তিও শ্বশুরবাড়িরই লোকদেরই পাওয়া উচিত। সুদার্ঘকাল ধরে চলে আসা পরম্পরা বা রীতিকে আইনের মাধ্যমে বদলে দেওয়া যায় না।
তিনি আরো বলেন, একজন বিবাহিত মহিলা তো তারা বাবা-মা কিংবা ভাই-বোনদের কাছে ভরণপোষণের জন্য টাকা পয়সা চান না। আবার কখনও খোরপোষের জন্য কোনও মহিলা তার বাবা কিংবা ভাই-দাদার কাছে টাকা চান না অথবা তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন না। পরিস্থিতি এমন হলে সেটা হয় স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির লোকদের বিরুদ্ধেই। তবে শেষমেষ বিচারপতি নাগারত্না বলেন, শ্বশুরবাড়ির লোক ছাড়া অন্য কাউকে সম্পত্তি দিতে চাইলে সেই মহিলাকে এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট উইল করে যেতে হবে।








