কৃষ্ণনগর পুলিশের আধুনিকীকরণ: যোগ হল ছ’টি ইলেকট্রিক গাড়ি
নতুন পয়গাম, কৃষ্ণনগরঃ
জ্বালানির খরচ কমানো এবং টহলদারির কাজকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশের ফ্লিটে যোগ হল ছ’টি ইলেক্ট্রিক গাড়ি। সোমবার নদীয়া-মুর্শিদাবাদ রেঞ্জের ডিআইজি ওয়াকার রেজা আনুষ্ঠানিকভাবে এই গাড়িগুলোর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস, কৃষ্ণনগর পুলিশের এসপি অমরনাথ কে, জেলা পরিষদের সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মিরসহ অন্যান্য পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
এটি মুর্শিদাবাদ-নদীয়া রেঞ্জে প্রথমবারের মতো পুলিশের কাজে ইলেক্ট্রিক গাড়ি ব্যবহারের উদ্যোগ। আপাতত এই গাড়িগুলি নবদ্বীপ, কোতোয়ালি, ধুবুলিয়া, নাকাশিপাড়া এবং কালীগঞ্জ থানাকে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও ছটি গাড়ি বিতরণ করা হবে। এদিন ধুবুলিয়া থানার নতুন ভবনেরও উদ্বোধন করা হয়।
পূর্বে থানার টহলদারির জন্য পেট্রল ও ডিজেল চালিত গাড়ি ব্যবহার করা হতো। এতে জ্বালানির খরচ বেড়ে যেত এবং বরাদ্দ শেষ হলে পুলিশ কর্মীরা সমস্যায় পড়তেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা পুলিশ নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করে। ব্যাটারি চালিত এই ছ’টি গাড়ি মূলত ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে টহলদারির কাজে ব্যবহৃত হবে।
ডিআইজি ওয়াকার রেজা বলেন, নদীয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় জাতীয় সড়ক বিস্তৃত। নতুন গাড়ি চালু হওয়ার ফলে দুর্ঘটনা বা অপরাধের খবর পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। গাড়িগুলো ইলেক্ট্রিক চালিত, রিফ্লেকটিভ স্টিকারসহ, যাতে দূর থেকে সহজে চিহ্নিত করা যায়।
কৃষ্ণনগর পুলিশের এসপি অমরনাথ কে জানিয়েছেন, পূর্বে প্রতি গাড়ি চালানোর খরচ ছিল প্রায় ৪০ হাজার টাকা। ইলেক্ট্রিক গাড়ি ব্যবহারের ফলে খরচ কমে ২০–২২ হাজার টাকায় হবে। এর ফলে টহলদারি আরও সঠিক ও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই উদ্যোগ শুধু খরচ কমানোতেই সীমাবদ্ধ নয়। আধুনিক টহলদারি ব্যবস্থা, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং জেলার বিভিন্ন থানার পর্যবেক্ষণ আরও সহজ হবে। জেলা পুলিশ আশা করছে, নতুন গাড়িগুলো অপরাধ ও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।








