রাজ্যের দাবিতে অগ্নিগর্ভ লেহ
হিংসার জন্য দায়ী ওয়াংচুক: কেন্দ্র
নতুন পয়গাম, লাদাখ, ২৪ সেপ্টেম্বর:
জম্মু কাশ্মীরের পর এবার লেহ-লাদাখকেও রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে তীব্র আন্দোলন শুরু হল। যদিও লেহ বা লাদাখ কখনো রাজ্য ছিল না। ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা তুলে দিয়ে উপত্যকাকে ভেঙে দুই টুকরো করে জম্মু কাশ্মীর এবং লাদাখ নামে দুটো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বানায় নরেন্দ্র মোদি সরকার। এবার লেহতে পৃথক রাজ্যের মর্যাদার দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তাকর্মী ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত চার জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৭০ জন জখম হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লেহতে জরুরি ভিত্তিতে কার্ফু জারি করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, লেহতে হিংসার জন্য দায়ী এই আন্দোলনের নেতা সোনম ওয়াংচুকের উস্কানিমূলক বক্তব্য। ওয়াংচুকের অনশন এবং উসকানিমূলক বক্তৃতা বিক্ষোভকারীদের উত্তেজিত করছে। যার জেরে সরকারি অফিসে তাণ্ডব হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও সিআরপিএফ-এর অন্তত ৩০ জন কর্মী আহত হয়েছেন। কেন্দ্রের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ওয়াংচুক অনশন মঞ্চ ত্যাগ করে উস্কানিমূলক বক্তৃতা দেন। তারপরেই বিক্ষোভকারীরা রাজনৈতিক দলের কার্যালয় এবং লেহ-র সিইসি অফিসে হামলা চালায়।
লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার দাবি নিয়ে লেহতে জোরদার আন্দোলন শুরু হয়েছে। অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালীন বিজেপির পার্টি অফিসে ভাঙচুর এবং পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগানো হয়। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পুলিশ লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।
ওয়াংচুক অবশ্য বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “এটি দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভের স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ।” তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি কোনো হিংসাত্মক আন্দোলনকে সমর্থন করেন না। কিন্তু কেন্দ্র দাবি করছে, ওয়াংচুক হিংসার সময় অনশন ভেঙে অ্যাম্বুলেন্সে চড়ে গ্রামে চলে যান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেননি।
লাদাখকে পৃথক রাজ্যের স্বীকৃতির দাবিতে লেহ অ্যাপেক্স বডি (LAB) বহুদিন ধরে আন্দোলন চালাচ্ছিল। ১০ সেপ্টেম্বর থেকে অনশনে বসেন সংগঠনের দুই শীর্ষনেতা। মঙ্গলবার তাঁদের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে LAB-এর সদস্যরা। কেন্দ্র এবং প্রশাসন তাদের দাবি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বুধবার পুরো এলাকাজুড়ে অশান্তি শুরু হয়।
এদিকে, লাদাখের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কেন্দ্র সরকারের বৈঠক আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই বৈঠক লাদাখে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আন্দোলনকারীদের দাবি-দাওয়া সম্পর্কিত সমাধান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে এবং এখান থেকে সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের অনুমান।








