ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া যাবে না, চালু হল ই-সাইন ব্যবস্থা
বিরোধীদের তোপের মুখে টনক নড়ল নির্বাচন কমিশনের
নতুন পয়গাম নতুন দিল্লী, ২৪ সেপ্টেম্বর: নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় তথ্য সংশোধন এবং নাম তোলা বা বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করতে নতুন ‘ই-সাইন’ ব্যবস্থা চালু করেছে। এই পদক্ষেপ এসেছে এমন সময়ে যখন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা ‘ভোটচুরি’-র অভিযোগে সরব ছিলেন। তিনি একযোগে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে তোপ দাগছেন।
আগে ভোটার তালিকায় নাম তোলা, বাদ দেওয়া বা তথ্য সংশোধনের জন্য ভোটারকে নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করতে হতো এবং এপিক নম্বর দেখালেই কাজ সম্পন্ন হতো। তখন কোনও অতিরিক্ত যাচাই প্রক্রিয়া ছিল না। ফলে কংগ্রেসের অভিযোগ অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে ভোটারদের নাম অবৈধভাবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় ফর্ম পূরণের সময় ভোটারের আধার কার্ডের সঙ্গে সংযুক্ত মোবাইল নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফর্ম জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘ই-স্বাক্ষর’ পোর্টাল খোলা হবে। আবেদনকারীকে প্রথমে আধার নম্বর দিতে হবে এবং তারপর মোবাইল নম্বরে ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) পাঠানো হবে। এই ওটিপি সঠিকভাবে দেওয়ার পরই আবেদন জমা পড়বে। এতে ভুয়ো বা অবৈধ আবেদন এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার সুযোগ অনেকটাই কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১৮ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনে কর্নাটকের আলন্দ বিধানসভায় ৬ হাজার ভোটারের নাম তালিকা থেকে অবৈধভাবে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন রাহুল গান্ধী। এছাড়া মহারাষ্ট্রের রাজুরাতে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেছেন। নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ খারিজ করেছে এবং জানিয়েছে, আলন্দ ও রাজুরাতে এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের আশাবাদ, নতুন ই-সাইন পদ্ধতি ভোটারের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং ভোটার তালিকায় অনিয়ম ও দূর্নীতি কমাবে। আধার কার্ড ও মোবাইল OTP-এর মাধ্যমে যাচাই প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় হওয়ায়, আর কোনও পক্ষই অবৈধভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে ফেলার সুযোগ পাবে না।
এই ব্যবস্থা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভোটারদের জন্য নিরাপত্তা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করবে। কমিশন আশাবাদী, আগামী নির্বাচনে এই ই-সাইন প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে কাজ করবে এবং ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।








