তিন সংখ্যালঘু প্রধান জেলায় নজর তৃণমূলের
নতুন পয়গাম, কলকাতা, ২৪ সেপ্টেম্বর:
বামফ্রন্টের পর তৃণমূল কংগ্রেসও সংখ্যালঘুদের সমর্থনকে একচেটিয়া পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করে একের পর এক নির্বাচনে জিতে আসছে। গত দেড় দশক ধরে মা মাটি মানুষের সরকারকে একতরফা ভোট দিয়ে চলেছে সংখ্যালঘু মুসলিমরা। ইদানীং কিছু সংগত কারণে এই ভোট ব্যাঙ্কে কিছুটা ধস নেমেছে। এটা আঁচ করেই এবার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলোকে পাখির চোখ করে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামছে ক্ষমতাসীন ঘাসফুল শিবির।
পরিসংখ্যান বলছে, মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুর জেলার সংখ্যালঘু সমর্থন কমতে শুরু করেছে। এক সময় কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল এই জেলাগুলো। কিন্তু কংগ্রেসের শক্তি ক্রমে হ্রাস পাওয়ায় তৃণমূল এই তিন জেলায় শূন্যস্থান পূরণ করতে সক্ষম হয়। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে এই তিন জেলাতেই দল বিশেষ নজর দিতে চাইছে।
মুর্শিদাবাদ প্রশাসনিকভাবে একটি জেলা হলেও সাংগঠনিকভাবে বহরমপুর ও জঙ্গিপুর – এই দুই ভাগে পরিচালনা করা হয়। সম্প্রতি ব্লক স্তরে রদবদলের সময় বহরমপুরের ভরতপুর ব্লক এবং জঙ্গিপুরের সাগরদিঘি ব্লকে দলের সভাপতির নাম ঘোষণা করা হয়নি। পরিবর্তে কোর কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশেষ করে সাগরদিঘি, যেখানে ২০২৩ সালে উপনির্বাচনে কংগ্রেসের বাইরন বিশ্বাস তৃণমূলকে হারিয়ে জিতেছিলেন, সেই প্রেক্ষাপটে কোর কমিটি তৈরি করা হয়েছে, যাতে ব্লক স্তরে গোষ্ঠীকোন্দল নিয়ন্ত্রণ করা যায়। লালগোলাতেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।
মালদহে ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের শোচনীয় ফলাফল এবং ২০১৯ সালের লোকসভায় কংগ্রেস-বিজেপি বিজয়, ২০২১ সালের বিধানসভায় পুনরুদ্ধার, এই সবই জেলা রাজনীতির জটিলতা। তৃণমূলের মধ্যে গোষ্ঠীকোন্দলও এখানে প্রবল, যা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত সমাধান করার নির্দেশ দিয়েছেন।
উত্তর দিনাজপুরেও বিভিন্ন নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সংঘাত রয়েছে। বিশেষ করে রায়গঞ্জ ও কালিয়াগঞ্জের নির্বাচনী ফলাফল এবং সংখ্যালঘু ভোটে বিজেপির ভাগ বসানো এই জেলাকে সতর্ক করেছে। অভিষেক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে রায়গঞ্জের ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এই তিন জেলায় কিছু অভিন্ন বিষয় লক্ষ্য করা যায়। প্রথমত, ধর্মীয় মেরুকরণ তীব্র। দ্বিতীয়ত, শাসকদলের সংগঠনে অন্যান্য জেলার তুলনায় গোষ্ঠীকোন্দল বেশি। তৃতীয়ত, বিরোধী দল বাম ও কংগ্রেস শূন্য থেকে খাতা খোলার উদ্দেশ্যে এই জেলাগুলিকে উর্বর মনে করছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১১ সালে পালাবদলের পরও ২০১৩-১৬ সালের ভোট পর্যন্ত সংখ্যালঘু সমর্থন মূলত বাম-কংগ্রেসের দিকে ছিল। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় কিছু পরিবর্তন ঘটে। ২০২১ সালে সংখ্যালঘুদের সার্বিক সমর্থন তৃণমূলের দিকে চলে যায়। আবার ধর্মীয় মেরুকরণ কাজে লাগিয়ে বিজেপিও এই জেলাগুলিতে ভাল ভোট পেয়েছে।
এই সব হিসাব মাথায় রেখেই তৃণমূল এখন বিশেষ নজর দিচ্ছে তিন জেলার দিকে। ব্লক স্তরে পদক্ষেপ, কোর কমিটি গঠন এবং সাংগঠনিক রদবদল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে হচ্ছে। দলীয় সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এতে আনুষ্ঠানিক সিলমোহর দিয়েছেন। লক্ষ্য একটাই মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরে সংখ্যালঘু সমর্থন ধরে রাখা এবং বিরোধীদের ভোট ব্যাঙ্কে ধস নামানো।








