গাজায় নতুন আতঙ্ক: ইসরাইলের বিস্ফোরক রোবট
নতুন পয়গাম,
গাজা,২৪ সেপ্টেম্বর: গাজা শহরে ইসরাইলি বাহিনীর নতুন ধ্বংসাত্মক অস্ত্র নিয়ে তীব্র ভয়ের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা একে বলছে ‘বুবি-ট্র্যাপ রোবট’। পুরোনো সামরিক যানকে বিপুল বিস্ফোরকে ভরে রিমোট কন্ট্রোলে চালানো হচ্ছে, যা আবাসিক এলাকায় রেখে মুহূর্তেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এর প্রভাব অনেক সময় বিমান হামলার চেয়েও মারাত্মক।
এক বাসিন্দা জানান, “পুরোনো ট্যাঙ্ক বা সাঁজোয়া গাড়ি হঠাৎ রাস্তায় ফেলে রাখা হয়। কয়েক মিনিট পরই তীব্র বিস্ফোরণে আকাশ লাল হয়ে ওঠে। আশপাশে যদি কেউ থাকে, তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না।”
অন্যরা বলছেন, প্রতিটি বিস্ফোরণে প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ বর্গমিটার এলাকা ধ্বংস হয়ে যায়। বহু ভবন মাটির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে, পরিবারগুলো ভেতরে চাপা পড়ে রয়েছে। আল-জায়তুন, শেখ রাদওয়ান ও জাবালিয়ার মতো এলাকায় এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছে অসংখ্য মানুষ।
হামাস-নিয়ন্ত্রিত সরকারি মিডিয়া জানায়, ১৩ আগস্ট থেকে ইসরাইল স্থল অভিযান শুরু করার পর এ পর্যন্ত অন্তত ১,১০০ জন নিহত ও ছয় হাজারের বেশি আহত হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে একশ’র বেশি বিস্ফোরক রোবট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমও জানিয়েছে, এসব বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী যে ৭০ কিলোমিটার দূরের তেল আবিবেও এর অভিঘাত টের পাওয়া যায়।
গাজার বাসিন্দা নিদাল ফাওজি প্রশ্ন তোলেন, “গাজা কি তবে নতুন অস্ত্র পরীক্ষার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে? আমি নিজ চোখে দেখেছি, রাতে সামরিক যান টেনে এনে দেয়ালের পাশে রাখা হয়। কিছুক্ষণ পরই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ১০০ মিটার দূর থেকেও মানুষ শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেছে।”
নিরাপত্তা বিশ্লেষক অধ্যাপক হানি আল-বাসৌসের মতে, সেনাদের সরাসরি ঝুঁকি কমাতে এবং দ্রুত ধ্বংসযজ্ঞ চালাতেই ইসরাইল এই রোবট ব্যবহার করছে। এগুলো বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক বহন করতে সক্ষম, যা টানেল, বহুতল ভবন ও আবাসিক ব্লক ধ্বংসে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ড. মুনির আল-বুরশ দাবি করেন, প্রতিটি রোবট প্রায় সাত টন বিস্ফোরক বহন করতে পারে। প্রতিদিনই সাত থেকে দশটি বিস্ফোরণ ঘটছে, যার ফলে পশ্চিম গাজায় তীব্র বাস্তুচ্যুতি দেখা দিয়েছে।
তিনি সতর্ক করেন, “এই রোবট অব্যাহতভাবে ব্যবহার করা হলে তা গণহত্যা ও গাজার আবাসিক অবকাঠামোর সম্পূর্ণ ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে। অবরোধের কারণে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”








