বানভাসির দায় তৃণমূল ও সিইএসসি-র: সেলিম
এটা ম্যানমেড বন্যা নয়? প্রশ্ন সুজন চক্রবর্তীর
নতুন পয়গাম,
কলকাতা, ২৩ সেপ্টেম্বর: সোমবার রাত থেকে টানা প্রায় ৬ ঘণ্টার বৃষ্টির জেরে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিংবা অতিবৃষ্টির কারণে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সকাল পেরিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত মঙ্গলবার কলকাতার বহু রাস্তা জলমগ্ন ছিল। এর আগেও প্রাকৃতিক দুর্যোগে কলকাতা শহরে ছেঁড়া তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তা থেকে শিক্ষা নেয়নি রাজ্য সরকার, বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা, পৌরসভা, পুলিশ প্রশাসন — এই অভিযোগ সিপিএমের।
রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, এত নিরীহ মানুষের মৃত্যুর দায় কার? সিইএসসি-র মালিক গোয়েঙ্কাদের, নাকি তাদের থেকে নির্বাচনী বন্ডে ৩৫০ কোটি টাকা নেওয়া তৃণমূলের? পুজোর মুখে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা জলের তলায়, হকার ও ছোট দোকানদারদের বিপুল ক্ষতি হল। কলকাতা পুরসভাকে অবিলম্বে সব ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে হুমকি দেন সেলিম। তিনি আরও বলেন, শুধু ক্ষতিপূরণ দিয়ে এতগুলো মৃত্যুর দায় এড়াতে পারে না রাজ্য সরকার। যদিও এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বলেন, এতবড় দুর্যোগের পূর্বাভাস সেভাবে ছিল না। তাছাড়া নিহতদের পরিবারের একজন করে সদস্য ক্ষতিপূরণ বাবদ চাকরি দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
জলমগ্ন কলকাতায় পুর প্রশাসন ও সিইএসসি’র অবহেলায় বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে দশজনের মৃত্যুর প্রতিবাদে কাল বুধবারই কলকাতার রাস্তায় প্রতিবাদ বিক্ষোভে নামবে বামপন্থীরা। বিকেল ৪টায় ধর্মতলার লেনিনমূর্তির সামনে থেকে কলেজ স্কোয়ার পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করবে বলে জানিয়েছে তারা। রাজ্য সরকার, কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতার বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থা সিইএসসি-র গাফিলতি ও উদাসীনতায় দশ জনের মৃত্যুর প্রতিবাদেই এই সভা ও মিছিল হবে।
সিপিএম নেতা সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, এর দায় রাজ্য সরকার এবং কলকাতা পুরসভার। তাদের অবহেলাতেই এই দুর্ঘটনা। এথ প্রাণহানি হয়েছে, দিনভর যানবাহন বন্ধ হয়ে মানুষের জীবন জীবিকা স্তব্ধ হয়ে গেছে। বিপন্ন মানুষের পাশে সিপিএম তথা বামফ্রন্টের নেতা-কর্মী, সব বামপন্থী ও সামাজিক কর্মীদের দাঁড়াতে আহ্বান জানা তিনি। এও বলেন, রেড ভলান্টিয়াররা বিপন্ন মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে যথাসাধ্য কাজ করছেন। সুজন আরো বলেন, এর আগে যখন এমন বিপর্যয় হয়েছে তখন মুখ্যমন্ত্রী ম্যানমেড বন্যা বলতেন। আর মুখ্যমন্ত্রী হয়ে থেকে তিনি বিপর্যয়ের দায় কখনো ডিভিসির ওপর, কখনো প্রকৃতির ঘাড়ে চাপিয়ে তিনি দায় এড়িয়েছেন! কলকাতার চারপাশের জলাভূমি দখল হয়ে গেছে। নিকাশি নালা সব বন্ধ। জলাভূমি বুজিয়ে নির্মাণ হয়েছে। গড়ে উঠছে আকাশচুম্বি আবাসন। কর্পোরেশনের নিকাশী পাম্প অকেজো।








