BREAKING:
নববর্ষে আল মোস্তফা মিশনে ছাত্রীদের সংবর্ধনা ও উৎকর্ষ বাংলা কর্মসূচি মুর্শিদাবাদের রানিনগর, ডোমকল, জলঙ্গি তিন আসনেই তৃণমূল হারবে: বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক দৈনিক ‘নতুন পয়গাম’ সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যা প্রকাশ শর্ত সাপেক্ষে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের অনুমতি এসআইআর: সবার ভোটাধিকার ফেরাতে লড়াই জোরালো হবে কালিয়াচকে ওয়াইসি, মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ সামসেরগঞ্জে জনজোয়ার, রাহুলের সভায় গর্জে উঠল কংগ্রেস বিজেপি-আরএসএস  দেশের সংবিধান ধ্বংস করতে ব্যস্ত: রাহুল গান্ধি গ্রাম থেকে শহর, পাড়ায় পাড়ায় লাল মিছিল রোডম্যাপ ঈদসংখ্যা প্রকাশ ও সেমিনার সম্পন্ন, সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন “আক্রান্ত সাধারণের শিক্ষা, এসো গড়ি প্রতিরোধ” শীর্ষক আলোচনা সভা  হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় ত্রিমুখী লড়াই, ইস্যুতে সেতু, পানীয় জল ও নদীভাঙন রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি পরিবার ব্যান্ডেলে অভিষেকের সভায় সদলবলে তৃণমূলে যোগ দিলেন চুঁচুড়ার দাপুটে বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ গান্ধীজিকে কটূক্তির প্রতিবাদে ধূপগুড়িতে রাস্তা অবরোধ  এসআইআর বাতিলের দাবিকে জোরালো করতেই ১৪ তারিখ মহাসমাবেশ ঘোষণা  বিজেপির যোগ দান কর্মসূচি কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সাগরদিঘীতে তৃণমূল বনাম এসডিপিআই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ১০০ বছরের অধিক সময় ধরে মাদুর তৈরি করে চলেছেন শিল্পীরা বসিরহাটের মহাকুমায় কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন মনোনয়ন ঘিরে শক্তি প্রদর্শন নবীনচন্দ্র বাগের কান্দিতে শক্তি বাড়িয়ে প্রচারে ঝড় মিম পার্টির হুগলির বলাগড়ের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে সরকারের জনমুখী প্রকল্পের কথা প্রয়াত গনি খানের ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী চার তারিখ যখন ভোট বাক্স খুলবে তখন পদ্মফুলের নেতারা চোখে সর্ষে ফুল দেখবে: অভিষেক সুতিতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের নিয়ে নির্বাচনী সভা, ইমানী বিশ্বাসের সমর্থনে জনসমাগম ইলামবাজার থানার পক্ষ থেকে জঙ্গলমহলে রুটমার্চ  প্রান্তিক কিন্নর সমাজের অবহেলিত জীবনের কথা, অন্তরালে’র প্রদর্শনীতে ভিড় উপচে পড়ল নন্দনে চুঁচুড়ায় বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই প্রার্থী বললেন ঘরের মাঠে লড়াই করবেন বিধানসভা নির্বাচনঃ হুগলি জেলা নির্বাচনী দপ্তরের উদ্যোগে সর্বদলীয় বৈঠক সম্পন্ন হল উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতি– উত্তরবঙ্গে অভিষেকের জনসভায় রাজনৈতিক বার্তা ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন, তৃণমূলকে সমর্থনের বার্তা  নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি, বসিরহাটে দরবারে জিয়ারত ডঃ শহিদুল হকের ১ বুথে ৪২৭ ভোটারের নাম বাদ, ক্ষোভে মালদহ রাজ্য সড়ক অবরোধ  দুবরাজপুর বিধানসভাকে পাখির চোখ করে জনসভা মুখ্যমন্ত্রীর ভোট প্রচার ছেড়ে দ্রুত রক্তদানের ব্যবস্থা করলেন বড়জোড়ার সিপিআইএম প্রার্থী হুগলি জেলা নির্বাচন দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ভোটার সচেতনতা র‍্যালি  আরো এক ধাপ এগিয়ে মধ্যমগ্রামের প্রতিবিম্ব ফাউন্ডেশন  ভোট প্রচারে পখন্না এলাকায়  তৃণমূল প্রার্থী  গৌতম মিশ্র  লরির ধাক্কায় স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু, উত্তেজনায় অবরুদ্ধ এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ ইসলামিক জ্ঞানের আন্তঃরাজ্য প্রতিযোগিতা: করনদীঘীর জামিয়া আল ফুরকানের উদ্যোগে হুগলি জেলার সবকটি বিধানসভা নির্বাচনে ঘরের জন্য ইভিএম ও ভিভিপ্যাট পরীক্ষা করা হল এল পি জি সংকটের মধ্যে সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের বদলে জল বেরোনোর অভিযোগ, উত্তেজনা পোলবায় পথে পথে ভালোবাসা, সিউড়িতে অভিনব জনসংযোগে বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সিউড়ি আদালতে হাজিরা দিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল  “গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব নয়” মোথাবাড়িতে বামদের কড়া বার্তা বাতাবারির চার্চে উষ্ণ অভ্যর্থনা, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে জাঁকজমকপূর্ণ বাসন্তী পুজোর সূচনা ভাঙড়ে ভোটের আগে ‘বারুদ-ছায়া’ ইন্দাসে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী রায় বাগদী তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারের ঝড় জামালপুরে পাথর প্রতিমায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সভায় জনসমুদ্র এস ভি আই এস টি কলেজ ক্যাম্পাসে শুরু হলো আন্ত স্কুল স্পোর্টস টুর্নামেন্ট সুন্দরবনে তৈরি হলো ম্যানগ্রোভ রিসোর্স হাব আরণ্যক এস‌আইআর বিরোধী প্রতিবাদ সপ্তাহে ভগৎ সিং স্মরণ রাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা ঈদগাহে কুলতলিতে বিরোধী শিবিরে বড়সড় ধাক্কা ১৫০০ কর্মী-সমার্থক তৃণমূলে যোগদান প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে হুগলি জেলায় সুষ্ঠুভাবে পালিত হল ঈদের নামাজ ‘তিনদিনের যোগী’ বলে সাংসদ রচনাকে কটাক্ষ অসিত মজুমদারের মালদহে আরও চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করলো আম জনতা উন্নয়ন পার্টি অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষে বিপর্যয়, ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকদের আর্তি গ্রেফতার তৃণমূল ছাত্রনেতা: মেলায় জুয়া খেলার অভিযোগে চাঞ্চল্য থেমে নেই মানবিকতার লড়াই – বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবনে আলো জ্বালাচ্ছেন রামপুরহাটের শিক্ষিকা বর্ণালী রুজ উদ্যোক্তা সুব্রত মিদ্যার গ্রাম থেকে গ্লোবাল হওয়ার গল্প বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসের প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর ঘোষ  আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল বসিরহাটের কন্যা, আরাধ্যা কুণ্ডুর সাফল্যে গর্বিত ক্রীড়ামহল বহরমপুরে লাল কেল্লার থিমে জমজমাট ঈদ উদযাপন রাজ্যে অলিখিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে বলে অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমোর  নিম্নমানের রাস্তার কাজের অভিযোগে বিক্ষোভ, কাজ বন্ধ করলেন গ্রামবাসীরা ! আস সুফ্ফাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণে মানবিক দৃষ্টান্ত নির্বাচন ঘোষণা হতেই তৎপর প্রশাসন, ব্যান্ডেল জংশন স্টেশনে জোর তল্লাশি খাটিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ মিছিল হয়ে গেল জয়নগরে তৃনমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে প্রার্থী ঘোষণা হতেই প্রচারে সিপিআইএম প্রার্থী নিরঞ্জন রায় চা বাগানে ফের খাঁচাবন্দি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ, এলাকায় চাঞ্চল্য  সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চাকুলিয়ায় নজিরবিহীন ইফতার মাহফিল ভিক্টরের, ২০ হাজার মানুষের ঢলে রেকর্ড ভাঙল সমাগম ভোট ঘোষণা হতেই তৃণমূল ত্যাগ সাসপেন্ডেড নেতা আরাবুল ইসলাম মালদহে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন বিভিন্ন গণসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে মালদহে মানবতার ছোঁয়া, দুস্থদের পাশে বিদেশের মসজিদ মুর্শিদাবাদে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ‘বিচারাধীন’, স্মারকলিপি সদভাবনা মঞ্চের জাহাজের ধাক্কায় সুমুদ্রে ট্রলার ডুবিতে গুরুতর জখম ৯ নিখোঁজ ২  আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিচারাধীন বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় রাখার দাবিতে ডেপুটেশন মহেশতলায় নির্যাতিতার পাশে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল হুগলির পোলবায় অবৈধ পোস্ত চাষের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ১০৭টি অসহায় পরিবারের পাশে আলোর মানবিক সংস্থা মোথাবাড়ির ভূমিপুত্র নজরুল ইসলামের উদ্যোগে হাজারো দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ উত্তরপাড়া এখন চোরেদের আঁতুরঘর, রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী  মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, গ্যাস আতঙ্কে ইনডাকশন ওভেন কেনার ধুম চুলাই মদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান, নষ্ট করা হলো সরঞ্জাম সরকারি উদ্যোগে আলু সংরক্ষণ শুরু, ন্যায্যমূল্যের আশায় খুশি কৃষকরা মালদহে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে উঠেছে ‘স্বাধীনোত্তর ভারতে নারীর অধিকার ও মর্যাদা’ শীর্ষক সেমিনার কলকাতায় ডিজিটাল আসক্তি বনাম বইমুখী সংস্কৃতি: লাইব্রেরি কি হারিয়ে যাচ্ছে? ভোটাধিকার রক্ষায় জেলা শাসকের দপ্তরে হাজারো মানুষের জমায়েত ও ডেপুটেশন হুমায়ুনের হেতমপুরে তৃণমূলের কোর কমিটি ঘিরে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পদত্যাগের হুঁশিয়ারি একাংশ নেতার সিউড়ির হাটজনবাজারে রেল লেভেল ক্রসিং বন্ধ ঘিরে বিক্ষোভ, মানুষের চাপে সিদ্ধান্ত বদল রেলের ভোটার তালিকা নিয়ে মুর্শিদাবাদে ক্ষোভ, জেলাশাসককে স্মারকলিপি মিল্লি ঐক্য মঞ্চের মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান সংগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধন হাওড়ার আমতায় জলকষ্টের অবসান, মাজুরিয়া আদিবাসী পাড়ায় নতুন পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন ভাবতা আজিজিয়া হাই মাদ্রাসার ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে আমেরিকার আপত্তি কেন?

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দুপুর ৩:৩৪ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দুপুর ৩:৩৪

আবু হুরাইরাহ

নতুন পয়গাম:

ইসরাইল ও ফিলিস্তিন দ্বন্দ্ব-সংঘাত বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ ও সবচেয়ে সহিংস। এর সূত্রপাত একশ বছরেরও বেশি আগে। দীর্ঘ এই সময়ে ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে কয়েক দফা যুদ্ধ বেধেছে। হয়েছে ফিলিস্তিনিদের ইসরাইলবিরোধী অভ্যুত্থান ‘ইন্তিফাদা’, হয়েছে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে পাল্টা ইসরায়েলি প্রতিশোধ ও দমনাভিযান। ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্র গঠন ও স্বাধীনতার অধিকার নিয়ে ঐতিহাসিক এই বিবাদেরই পরিণতি গাজায় চলা যুদ্ধ।

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার স্বপ্ন বহু দশক ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়াও চলছে বহু দশক ধরে। ১৯৪৫ সালের পর রাষ্ট্রসংঘের ১৫১টি সদস্য দেশে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি বা মর্যাদা দিয়েছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনো দেয়নি। তার এই অবস্থান শুধু ইসরাইল–ফিলিস্তিন সম্পর্ককেই নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত ভূ-রাজনীতি, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
আমেরিকার অবস্থান মূলত ‘দুই রাষ্ট্র সমাধান’ নীতির ওপর নির্ভরশীল। এর অর্থ হল, ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি পক্ষের মধ্যে সরাসরি আলোচনা ও চুক্তির মাধ্যমে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য দাবির পক্ষে পদক্ষেপ না করা, সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরাইলকে সব দিক থেকে সমর্থন, সহায়তা ও মদদ দেওয়া মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিবন্ধক।
ওয়াশিংটনের এই পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থান বিভাজন বাড়িয়েছে, শান্তি প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করেছে এবং ফিলিস্তিনিদের আন্তর্জাতিক মর্যাদা সীমিত করেছে। বিপরীতে, ইসরাইলকে রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে শক্তিশালী, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একগুঁয়ে ও বেপরোয়া রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
২০১২ সালে রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে ‘সদস্য বহির্ভূত পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র’ করা হয়। ২০১৫ সালের মধ্যে ১৩৮টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়। তারপর থেকে গত এক দশকে আরো কয়েকটি দেশ স্বীকৃতি দেয়। রবিবার ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পরদিন পর্তুগাল মিলিয়ে মোট ১৫১ দেশ স্বীকৃতি দিল। কিন্তু তবুও ফিলিস্তিন স্বাধীন রাষ্ট্র হয়নি। ২০২৪ সালের এপ্রিলে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদ অর্জনের প্রস্তাব নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করা হয়, কিন্তু আমেরিকা তা ভেটো দিয়ে থামায়। পরের মাসেই সাধারণ অধিবেশনে এক প্রস্তাব পাস হয়, যা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রসংঘের পূর্ণ সদস্য হওয়ার যোগ্য হিসেবে নিরাপত্তা পরিষদকে পুনর্বিবেচনা করতে বলে।
আমেরিকা সব সময় বলে এসেছে, ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে হতে হবে, একতরফা বা আন্তর্জাতিক চাপের মাধ্যমে নয়। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা, ১৯৬৭ সালে ছয় দিনের যুদ্ধ ও ১৯৯৩ সালের অসলো শান্তিচুক্তি — সব মিলিয়ে ‘দুই রাষ্ট্র সমাধানের’ রূপরেখা তৈরি হয়েছে। কিন্তু তবুও আমেরিকাই তাদের মস্তিষ্কপ্রসূত এই নীতিকে বাস্তবায়িত হতে দিচ্ছে না। এই নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের ৬ বার ভেটো দিল তারা।
আমেরিকার ফিলিস্তিন-নীতি প্রায়ই তার ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক দিয়ে প্রভাবিত। ১৯৪৮ সাল থেকে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর মার্কিন সেনা সাহায্য, উন্নত অস্ত্র সরবরাহ, গোয়েন্দা তথ্য ও কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে এসেছে দেশটিকে। শুধু মার্কিন অস্ত্র নয়; ইসরাইলকে সাইবার নিরাপত্তা, গোয়েন্দা সহযোগিতা, সামরিক প্রশিক্ষণ সবকিছু দিয়ে চলেছে আমেরিকা। আমেরিকা যাতে সবসময় ইসরাইলের পাশে থাকে, সে জন্য মার্কিন মুলুকে অতি সক্রিয় ভূমিকা নেয় ইহুদি যায়নবাদী লবি। এদের নাম ‘আইপ্যাক’। এদের লম্বা হাত হোয়াইট হাউস থেকে ওভাল অফিস পর্যন্ত। এই ইহুদি লবিই আমেরিকার বিদেশনীতি এবং বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক নীতিমালা তৈরিতে প্রধান ভূমিকা রাখে।
ফিলিস্তিন যাতে কখনো ঐক্যবদ্ধ হয়েে স্বাধীন রাষ্ট্র হতে না পারে, সেজন্য এই ইহুদি লবি ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক বা পশ্চিম তীরে ফাতাহ এবং গাজা উপত্যকায় হামাসকে বিভক্ত করে রেখেছে। হামাস ও ফাতাহের মধ্যে দ্বন্দ্ব বা বিভাজন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পথে আরেক অন্তরায়। হামাসকে আমেরিকা, ইউরোপ এবং ইসরাইল সন্ত্রাসী তকমা দিয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে। নরমপন্থী ফাতাহকে পশ্চিমারা এতটা খারাপ নজরে দেখে না। তাই ফাতাহ সরকার দ্বারা নিয়‌ন্ত্রিত পশ্চিম তীরে তারা সচরাচর হামলা করে না। যা কিছু হামলা, আক্রমণ, আগ্রাসন সবই হয় মূলত হামাস প্রভাবিত গাজায়।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালত আইসিজে-র ২০২৪-এর পরামর্শমূলক রায় হল, ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরাইলের ফিলিস্তিনি অঞ্চল (গাজা, পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম) দখল করা অবৈধ। ইসরাইলকে এসব দখলীকৃত এলাকা ছাড়তে হবে। দখল করা স্থানে ইহুদি বসতি নির্মাণ, এর সম্প্রসারণ ও শিক্ষানীতি বৈধ নয়। এদিকে ২০১৫ সালে ‘রোম সনদ’-এ সই করেছে ফিলিস্তিন। এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইসিসি-কে গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তের এখতিয়ার দিয়েছে। এসব আইনি ভিত্তি শক্তিশালী হলেও ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাধা এবং মূলত আমেরিকার সদিচ্ছার অভাব স্পষ্ট।

আরও পড়ুন:

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি শুধু মার্কিন বিদেশনীতি নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি এই স্বীকৃতির বিরুদ্ধে। আবার ডেমোক্র্যাট পার্টিও প্রায় একই নীতি নিয়ে চলে। তবে তাদের মধ্যে প্রগতিশীলেরা স্বীকৃতির পক্ষে। কিন্তু ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতৃত্ব এ ব্যাপারে সতর্ক।
অন্যদিকে মিসর, জর্ডান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আমেরিকার ঘনিষ্ঠতা মধ্যপ্রাচ্যের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলে। অনেক মুসলিম দেশ ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে হলেও নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দেয় তারা। স্বভাবতই তারা নিজেদের স্বার্থে আমেরিকা ইসরাইলের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারে না। মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর এই সুবিধাবাদী নীতিকে কাজে লাগাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মুসলিম দেশগুলো ইসরাইলের সঙ্গে চুক্তি করলেও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার ব্যাপারে অতটা মাথা ঘামায় না।
এদিকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনের পক্ষে আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন অনেক বেশি। কিন্তু আমেরিকার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থান, ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, হামাস-ফাতাহ বিভাজন, এবং মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূ-রাজনীতি এবং সর্বোপরি মুসলিম বিশ্বের সুবিধাবাদী নীতি সম্মিলিতভাবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করছে। এইসব ফ্যাক্টরকে সামনে রেখেই নেতানিয়াহু বলছেন, ইউরোপের দেশগুলো যতই স্বীকৃতি দিক, ফিলিস্তিনকে তারা কখনোই স্বাধীন রাষ্ট্র হতে দেবে না। যারা স্বীকৃতি দিচ্ছে, তারাও নেহাৎ চক্ষুলজ্জা বা মুখরক্ষার জন্য এটা করছে। এরাই আবার ইসরাইলকে অর্থ ও অস্ত্র সহযোগিতা দিয়ে চলেছে। শান্তির পূজারী সাজলেও এরা আসলে যুদ্ধ ব্যাপারী।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder