BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে আমেরিকার আপত্তি কেন?

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দুপুর ৩:৩৪ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দুপুর ৩:৩৪

আবু হুরাইরাহ

নতুন পয়গাম:

ইসরাইল ও ফিলিস্তিন দ্বন্দ্ব-সংঘাত বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ ও সবচেয়ে সহিংস। এর সূত্রপাত একশ বছরেরও বেশি আগে। দীর্ঘ এই সময়ে ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে কয়েক দফা যুদ্ধ বেধেছে। হয়েছে ফিলিস্তিনিদের ইসরাইলবিরোধী অভ্যুত্থান ‘ইন্তিফাদা’, হয়েছে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে পাল্টা ইসরায়েলি প্রতিশোধ ও দমনাভিযান। ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্র গঠন ও স্বাধীনতার অধিকার নিয়ে ঐতিহাসিক এই বিবাদেরই পরিণতি গাজায় চলা যুদ্ধ।

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার স্বপ্ন বহু দশক ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়াও চলছে বহু দশক ধরে। ১৯৪৫ সালের পর রাষ্ট্রসংঘের ১৫১টি সদস্য দেশে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি বা মর্যাদা দিয়েছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনো দেয়নি। তার এই অবস্থান শুধু ইসরাইল–ফিলিস্তিন সম্পর্ককেই নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত ভূ-রাজনীতি, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
আমেরিকার অবস্থান মূলত ‘দুই রাষ্ট্র সমাধান’ নীতির ওপর নির্ভরশীল। এর অর্থ হল, ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি পক্ষের মধ্যে সরাসরি আলোচনা ও চুক্তির মাধ্যমে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য দাবির পক্ষে পদক্ষেপ না করা, সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরাইলকে সব দিক থেকে সমর্থন, সহায়তা ও মদদ দেওয়া মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিবন্ধক।
ওয়াশিংটনের এই পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থান বিভাজন বাড়িয়েছে, শান্তি প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করেছে এবং ফিলিস্তিনিদের আন্তর্জাতিক মর্যাদা সীমিত করেছে। বিপরীতে, ইসরাইলকে রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে শক্তিশালী, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একগুঁয়ে ও বেপরোয়া রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
২০১২ সালে রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে ‘সদস্য বহির্ভূত পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র’ করা হয়। ২০১৫ সালের মধ্যে ১৩৮টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়। তারপর থেকে গত এক দশকে আরো কয়েকটি দেশ স্বীকৃতি দেয়। রবিবার ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পরদিন পর্তুগাল মিলিয়ে মোট ১৫১ দেশ স্বীকৃতি দিল। কিন্তু তবুও ফিলিস্তিন স্বাধীন রাষ্ট্র হয়নি। ২০২৪ সালের এপ্রিলে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদ অর্জনের প্রস্তাব নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করা হয়, কিন্তু আমেরিকা তা ভেটো দিয়ে থামায়। পরের মাসেই সাধারণ অধিবেশনে এক প্রস্তাব পাস হয়, যা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রসংঘের পূর্ণ সদস্য হওয়ার যোগ্য হিসেবে নিরাপত্তা পরিষদকে পুনর্বিবেচনা করতে বলে।
আমেরিকা সব সময় বলে এসেছে, ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে হতে হবে, একতরফা বা আন্তর্জাতিক চাপের মাধ্যমে নয়। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা, ১৯৬৭ সালে ছয় দিনের যুদ্ধ ও ১৯৯৩ সালের অসলো শান্তিচুক্তি — সব মিলিয়ে ‘দুই রাষ্ট্র সমাধানের’ রূপরেখা তৈরি হয়েছে। কিন্তু তবুও আমেরিকাই তাদের মস্তিষ্কপ্রসূত এই নীতিকে বাস্তবায়িত হতে দিচ্ছে না। এই নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের ৬ বার ভেটো দিল তারা।
আমেরিকার ফিলিস্তিন-নীতি প্রায়ই তার ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক দিয়ে প্রভাবিত। ১৯৪৮ সাল থেকে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর মার্কিন সেনা সাহায্য, উন্নত অস্ত্র সরবরাহ, গোয়েন্দা তথ্য ও কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে এসেছে দেশটিকে। শুধু মার্কিন অস্ত্র নয়; ইসরাইলকে সাইবার নিরাপত্তা, গোয়েন্দা সহযোগিতা, সামরিক প্রশিক্ষণ সবকিছু দিয়ে চলেছে আমেরিকা। আমেরিকা যাতে সবসময় ইসরাইলের পাশে থাকে, সে জন্য মার্কিন মুলুকে অতি সক্রিয় ভূমিকা নেয় ইহুদি যায়নবাদী লবি। এদের নাম ‘আইপ্যাক’। এদের লম্বা হাত হোয়াইট হাউস থেকে ওভাল অফিস পর্যন্ত। এই ইহুদি লবিই আমেরিকার বিদেশনীতি এবং বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক নীতিমালা তৈরিতে প্রধান ভূমিকা রাখে।
ফিলিস্তিন যাতে কখনো ঐক্যবদ্ধ হয়েে স্বাধীন রাষ্ট্র হতে না পারে, সেজন্য এই ইহুদি লবি ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক বা পশ্চিম তীরে ফাতাহ এবং গাজা উপত্যকায় হামাসকে বিভক্ত করে রেখেছে। হামাস ও ফাতাহের মধ্যে দ্বন্দ্ব বা বিভাজন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পথে আরেক অন্তরায়। হামাসকে আমেরিকা, ইউরোপ এবং ইসরাইল সন্ত্রাসী তকমা দিয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে। নরমপন্থী ফাতাহকে পশ্চিমারা এতটা খারাপ নজরে দেখে না। তাই ফাতাহ সরকার দ্বারা নিয়‌ন্ত্রিত পশ্চিম তীরে তারা সচরাচর হামলা করে না। যা কিছু হামলা, আক্রমণ, আগ্রাসন সবই হয় মূলত হামাস প্রভাবিত গাজায়।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালত আইসিজে-র ২০২৪-এর পরামর্শমূলক রায় হল, ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরাইলের ফিলিস্তিনি অঞ্চল (গাজা, পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম) দখল করা অবৈধ। ইসরাইলকে এসব দখলীকৃত এলাকা ছাড়তে হবে। দখল করা স্থানে ইহুদি বসতি নির্মাণ, এর সম্প্রসারণ ও শিক্ষানীতি বৈধ নয়। এদিকে ২০১৫ সালে ‘রোম সনদ’-এ সই করেছে ফিলিস্তিন। এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইসিসি-কে গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তের এখতিয়ার দিয়েছে। এসব আইনি ভিত্তি শক্তিশালী হলেও ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাধা এবং মূলত আমেরিকার সদিচ্ছার অভাব স্পষ্ট।

আরও পড়ুন:

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি শুধু মার্কিন বিদেশনীতি নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি এই স্বীকৃতির বিরুদ্ধে। আবার ডেমোক্র্যাট পার্টিও প্রায় একই নীতি নিয়ে চলে। তবে তাদের মধ্যে প্রগতিশীলেরা স্বীকৃতির পক্ষে। কিন্তু ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতৃত্ব এ ব্যাপারে সতর্ক।
অন্যদিকে মিসর, জর্ডান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আমেরিকার ঘনিষ্ঠতা মধ্যপ্রাচ্যের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলে। অনেক মুসলিম দেশ ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে হলেও নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দেয় তারা। স্বভাবতই তারা নিজেদের স্বার্থে আমেরিকা ইসরাইলের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারে না। মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর এই সুবিধাবাদী নীতিকে কাজে লাগাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মুসলিম দেশগুলো ইসরাইলের সঙ্গে চুক্তি করলেও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার ব্যাপারে অতটা মাথা ঘামায় না।
এদিকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনের পক্ষে আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন অনেক বেশি। কিন্তু আমেরিকার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থান, ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, হামাস-ফাতাহ বিভাজন, এবং মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূ-রাজনীতি এবং সর্বোপরি মুসলিম বিশ্বের সুবিধাবাদী নীতি সম্মিলিতভাবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করছে। এইসব ফ্যাক্টরকে সামনে রেখেই নেতানিয়াহু বলছেন, ইউরোপের দেশগুলো যতই স্বীকৃতি দিক, ফিলিস্তিনকে তারা কখনোই স্বাধীন রাষ্ট্র হতে দেবে না। যারা স্বীকৃতি দিচ্ছে, তারাও নেহাৎ চক্ষুলজ্জা বা মুখরক্ষার জন্য এটা করছে। এরাই আবার ইসরাইলকে অর্থ ও অস্ত্র সহযোগিতা দিয়ে চলেছে। শান্তির পূজারী সাজলেও এরা আসলে যুদ্ধ ব্যাপারী।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder