BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে আমেরিকার আপত্তি কেন?

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দুপুর ৩:৩৪ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দুপুর ৩:৩৪

আবু হুরাইরাহ

নতুন পয়গাম:

ইসরাইল ও ফিলিস্তিন দ্বন্দ্ব-সংঘাত বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ ও সবচেয়ে সহিংস। এর সূত্রপাত একশ বছরেরও বেশি আগে। দীর্ঘ এই সময়ে ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে কয়েক দফা যুদ্ধ বেধেছে। হয়েছে ফিলিস্তিনিদের ইসরাইলবিরোধী অভ্যুত্থান ‘ইন্তিফাদা’, হয়েছে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে পাল্টা ইসরায়েলি প্রতিশোধ ও দমনাভিযান। ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্র গঠন ও স্বাধীনতার অধিকার নিয়ে ঐতিহাসিক এই বিবাদেরই পরিণতি গাজায় চলা যুদ্ধ।

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার স্বপ্ন বহু দশক ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়াও চলছে বহু দশক ধরে। ১৯৪৫ সালের পর রাষ্ট্রসংঘের ১৫১টি সদস্য দেশে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি বা মর্যাদা দিয়েছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনো দেয়নি। তার এই অবস্থান শুধু ইসরাইল–ফিলিস্তিন সম্পর্ককেই নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত ভূ-রাজনীতি, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
আমেরিকার অবস্থান মূলত ‘দুই রাষ্ট্র সমাধান’ নীতির ওপর নির্ভরশীল। এর অর্থ হল, ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি পক্ষের মধ্যে সরাসরি আলোচনা ও চুক্তির মাধ্যমে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য দাবির পক্ষে পদক্ষেপ না করা, সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরাইলকে সব দিক থেকে সমর্থন, সহায়তা ও মদদ দেওয়া মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিবন্ধক।
ওয়াশিংটনের এই পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থান বিভাজন বাড়িয়েছে, শান্তি প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করেছে এবং ফিলিস্তিনিদের আন্তর্জাতিক মর্যাদা সীমিত করেছে। বিপরীতে, ইসরাইলকে রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে শক্তিশালী, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একগুঁয়ে ও বেপরোয়া রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
২০১২ সালে রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে ‘সদস্য বহির্ভূত পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র’ করা হয়। ২০১৫ সালের মধ্যে ১৩৮টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়। তারপর থেকে গত এক দশকে আরো কয়েকটি দেশ স্বীকৃতি দেয়। রবিবার ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পরদিন পর্তুগাল মিলিয়ে মোট ১৫১ দেশ স্বীকৃতি দিল। কিন্তু তবুও ফিলিস্তিন স্বাধীন রাষ্ট্র হয়নি। ২০২৪ সালের এপ্রিলে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদ অর্জনের প্রস্তাব নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করা হয়, কিন্তু আমেরিকা তা ভেটো দিয়ে থামায়। পরের মাসেই সাধারণ অধিবেশনে এক প্রস্তাব পাস হয়, যা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রসংঘের পূর্ণ সদস্য হওয়ার যোগ্য হিসেবে নিরাপত্তা পরিষদকে পুনর্বিবেচনা করতে বলে।
আমেরিকা সব সময় বলে এসেছে, ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে হতে হবে, একতরফা বা আন্তর্জাতিক চাপের মাধ্যমে নয়। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা, ১৯৬৭ সালে ছয় দিনের যুদ্ধ ও ১৯৯৩ সালের অসলো শান্তিচুক্তি — সব মিলিয়ে ‘দুই রাষ্ট্র সমাধানের’ রূপরেখা তৈরি হয়েছে। কিন্তু তবুও আমেরিকাই তাদের মস্তিষ্কপ্রসূত এই নীতিকে বাস্তবায়িত হতে দিচ্ছে না। এই নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের ৬ বার ভেটো দিল তারা।
আমেরিকার ফিলিস্তিন-নীতি প্রায়ই তার ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক দিয়ে প্রভাবিত। ১৯৪৮ সাল থেকে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর মার্কিন সেনা সাহায্য, উন্নত অস্ত্র সরবরাহ, গোয়েন্দা তথ্য ও কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে এসেছে দেশটিকে। শুধু মার্কিন অস্ত্র নয়; ইসরাইলকে সাইবার নিরাপত্তা, গোয়েন্দা সহযোগিতা, সামরিক প্রশিক্ষণ সবকিছু দিয়ে চলেছে আমেরিকা। আমেরিকা যাতে সবসময় ইসরাইলের পাশে থাকে, সে জন্য মার্কিন মুলুকে অতি সক্রিয় ভূমিকা নেয় ইহুদি যায়নবাদী লবি। এদের নাম ‘আইপ্যাক’। এদের লম্বা হাত হোয়াইট হাউস থেকে ওভাল অফিস পর্যন্ত। এই ইহুদি লবিই আমেরিকার বিদেশনীতি এবং বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক নীতিমালা তৈরিতে প্রধান ভূমিকা রাখে।
ফিলিস্তিন যাতে কখনো ঐক্যবদ্ধ হয়েে স্বাধীন রাষ্ট্র হতে না পারে, সেজন্য এই ইহুদি লবি ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক বা পশ্চিম তীরে ফাতাহ এবং গাজা উপত্যকায় হামাসকে বিভক্ত করে রেখেছে। হামাস ও ফাতাহের মধ্যে দ্বন্দ্ব বা বিভাজন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পথে আরেক অন্তরায়। হামাসকে আমেরিকা, ইউরোপ এবং ইসরাইল সন্ত্রাসী তকমা দিয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে। নরমপন্থী ফাতাহকে পশ্চিমারা এতটা খারাপ নজরে দেখে না। তাই ফাতাহ সরকার দ্বারা নিয়‌ন্ত্রিত পশ্চিম তীরে তারা সচরাচর হামলা করে না। যা কিছু হামলা, আক্রমণ, আগ্রাসন সবই হয় মূলত হামাস প্রভাবিত গাজায়।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালত আইসিজে-র ২০২৪-এর পরামর্শমূলক রায় হল, ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরাইলের ফিলিস্তিনি অঞ্চল (গাজা, পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম) দখল করা অবৈধ। ইসরাইলকে এসব দখলীকৃত এলাকা ছাড়তে হবে। দখল করা স্থানে ইহুদি বসতি নির্মাণ, এর সম্প্রসারণ ও শিক্ষানীতি বৈধ নয়। এদিকে ২০১৫ সালে ‘রোম সনদ’-এ সই করেছে ফিলিস্তিন। এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইসিসি-কে গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তের এখতিয়ার দিয়েছে। এসব আইনি ভিত্তি শক্তিশালী হলেও ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাধা এবং মূলত আমেরিকার সদিচ্ছার অভাব স্পষ্ট।

আরও পড়ুন:

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি শুধু মার্কিন বিদেশনীতি নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি এই স্বীকৃতির বিরুদ্ধে। আবার ডেমোক্র্যাট পার্টিও প্রায় একই নীতি নিয়ে চলে। তবে তাদের মধ্যে প্রগতিশীলেরা স্বীকৃতির পক্ষে। কিন্তু ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতৃত্ব এ ব্যাপারে সতর্ক।
অন্যদিকে মিসর, জর্ডান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আমেরিকার ঘনিষ্ঠতা মধ্যপ্রাচ্যের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলে। অনেক মুসলিম দেশ ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে হলেও নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দেয় তারা। স্বভাবতই তারা নিজেদের স্বার্থে আমেরিকা ইসরাইলের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারে না। মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর এই সুবিধাবাদী নীতিকে কাজে লাগাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মুসলিম দেশগুলো ইসরাইলের সঙ্গে চুক্তি করলেও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার ব্যাপারে অতটা মাথা ঘামায় না।
এদিকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনের পক্ষে আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন অনেক বেশি। কিন্তু আমেরিকার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থান, ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, হামাস-ফাতাহ বিভাজন, এবং মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূ-রাজনীতি এবং সর্বোপরি মুসলিম বিশ্বের সুবিধাবাদী নীতি সম্মিলিতভাবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করছে। এইসব ফ্যাক্টরকে সামনে রেখেই নেতানিয়াহু বলছেন, ইউরোপের দেশগুলো যতই স্বীকৃতি দিক, ফিলিস্তিনকে তারা কখনোই স্বাধীন রাষ্ট্র হতে দেবে না। যারা স্বীকৃতি দিচ্ছে, তারাও নেহাৎ চক্ষুলজ্জা বা মুখরক্ষার জন্য এটা করছে। এরাই আবার ইসরাইলকে অর্থ ও অস্ত্র সহযোগিতা দিয়ে চলেছে। শান্তির পূজারী সাজলেও এরা আসলে যুদ্ধ ব্যাপারী।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder