BREAKING:
জোড়াসাঁকোয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মহোৎসবে কলম শিল্পী গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ খোশবাগ বাসস্ট্যান্ডের কাছে পথ দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন দন্ত চিকিৎসক বসিরহাট দরবার শরিফে হুমায়ুন কবীর, পেলেন উষ্ণ অভ্যর্থনা লাল বালির চড়া দাম, গ্রামবাসীদের ভরসা পাথরের গুড়ো   রমজানে অসহায়দের পাশে আল হোসাইনী হেল্প ফাউন্ডেশন সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা হুগলি জেলায় এসআইআর এর প্রথম পর্যায়ের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেন জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি  বন্যপ্রাণীর উপদ্রব রুখতে তৎপর বনদপ্তর উত্তাপহীন ডার্বিতে মহামেডানকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান মরণবাঁচন ম্যাচে আজ সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিততেই হবে ভারতকে রাজনগরে চাঞ্চল্য: গাংমুড়ি গ্রামে বাড়ির ভিতর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মোবাইল গেম খেলতে খেলতেই নিভে গেল ২১ বছরের তরতাজা প্রাণ  মুর্শিদাবাদের মুকুটে নতুন দুই পালক, বিশ্ববিদ্যালয় ও কাটরা মসজিদের তোরণ প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম! রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিশটি আসনে লড়বে পুকুর খনন করার সময় প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হল পান্ডুয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা। রানে ফিরলেন অভিষেক, জয়ে ফিরলো ভারত; বেঁচে রইলো সেমির স্বপ্ন এসআইআর  ইস্যুতে আতঙ্ক নয়, আইনি পথে আপিলের আহ্বান মিল্লি ঐক্য মঞ্চের কালিয়াচক আবাসিক মিশনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পন্ন, উৎসাহ চোখে পড়ার মতো পরীক্ষার দিন আচমকা মৃত্যু অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের, শোকস্তব্ধ সোনারপুর নাবালিকাকে বিবাহের অভিযোগে জয়নগরে গ্রেপ্তার যুবক জয়নগরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, আহত তিন শ্রমিক নেতা মহম্মদ ওয়েস এর নেতৃত্বে বড়জোড়ায় বিরাট মিছিল কুলতলির বিধায়কের উপস্থিতিতে ঢালাই রাস্তার কাজের সূচনা হলো নলগোড়ায় ঘুটিয়ারীশরিফে পুলিশের তৎপরতায় ৫৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে উদ্যোগ সুন্দরবনে বাঘের হামলায় ফের মৃত্যু, সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি এসআইও নিয়ে মিথ্যা মন্তব্যের প্রতিবাদে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন জামাআতে ইসলামী হিন্দের ইফতার সামগ্রী বিতরণ বই হোক সই, বইয়ের জন্য করিমপুরে পথে হাঁটল শত শত মানুষ রমজান মাসে ৩০০ দুস্থ পরিবারের পাশে সমাজসেবী হাফেজ নজরুল ইসলাম অবশেষে ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনে বাংলা স্থান পেল  মুর্শিদাবাদে দুই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাঙড়ে ২৮ টি তাজা বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার দুই জন্মদিনে অবহেলিত ভূদেব মুখোপাধ্যায়, তালাবন্ধ গ্রীলে মালা ঝুলিয়ে জন্মদিন পালন করল বিজেপি বালিভর্তি ট্রাক চলাচল ঘিরে উত্তেজনা, সোনামুখীতে গ্রামবাসীর রাতভর বিক্ষোভ বসিরহাটে দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, তৃণমূলের সভায় বহু নেতার যোগদান ভোটের আগে বিরোধী শিবিরে বড় ভাঙন কুলতলীতে কালিয়াচকের বাহাদুরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড চুঁচুড়ায় সোমবার সাতসকালে পথ দুর্ঘটনা, জখম যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক নিহত সেনা জওয়ানের মরদেহ পৌঁছাল শেখপাড়ার বাড়িতে ব্লক প্রাণিসম্পদ বিকাশ দিবস পালিত জয়নগরে অনলাইন বাণিজ্যের প্রসারে ক্ষুদ্র ব্যবসা চাপে: মত বড়জোড়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে ফের পরিযায়ী শ্রমিকের উপর হামলা উত্তরলক্ষীপুরের গর্ব: প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চলেছেন ডা: মোবারাক হোসেন পুনরাবৃত্তি চায় ভারত, দক্ষিন আফ্রিকা চায় প্রত্যাবর্তন; সুপার এইটে আজ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই টানা দুই ম্যাচে জয় ইস্টবেঙ্গলের, দুই ম্যাচেই জোড়া গোল ইউসুফের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ আজ শুরু সুপার এইটের লড়াই, প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি পাক বনাম নিউজিল্যান্ড আজ ইস্টবেঙ্গলের সামনে স্পোর্টিং দিল্লি, ভরসার নাম ইউসুফ আজ্জেরি প্রত্যাশিত হার, ঘরের মাঠে মহামেডান বধ এফসি গোয়ার ১৫ বছরেও শেষ হয়নি বক্সীপুর ব্রিজ নির্মাণ কাজ, জনস্বার্থ মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে করিমপুর এলাকাবাসীকে বহরমপুর যেতে আর পেরুতে হবেনা বিপদ সংকুল রাস্তা এসআইআর এর চাপ, শ্রীরামপুরে মাঝ গঙ্গায় ঝাঁপ বিএলও’র ছেলেধরা সন্দেহে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় বলাগড়ে ২৫ জন দোষীকে সাজা শোনালো চুঁচুড়ার ফার্স্ট ট্রাক কোর্ট বেআইনি মাটির গাড়ির ধাক্কায় ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে জি-প্লটের আদিবাসী শিশুরা  জল্পনার অবসান, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাম যুব নেতা প্রতীক উর রহমান কনকচূড় ধানের চাল পেল জাতিসংঘের ঐতিহ্য স্বীকৃতি, খুশির হাওয়া জয়নগর জুড়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন-এনজিওর যৌথ উদ্যোগে সচেতনতা শিবির ঘোড়ামারা দ্বীপ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের, গঠিত হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি শেষ সময় ঘনাতেই যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম জমায় দীর্ঘ হচ্ছে লাইন পখন্না রামকৃষ্ণ আশ্রমে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথি উদ্‌যাপন বড়জোড়া কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত সায়েম চৌধুরী ওরফে বাবু: সংগঠন, সংগ্রাম ও সেবার রাজনীতি সোনার প্রতিমার প্রলোভনে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা ঘুঁটিয়ারীশরিফে পুলিশের সাফল্য: ২৪ চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে খাদ্য সুরক্ষা মেলা’য় সুষম খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ  উলুবেড়িয়ায় ১৫ টিয়া উদ্ধার, আন্তরাজ্য পাখি পাচারচক্রের সদস্য গ্রেফতার সরকারি জমি দখল ও নয়নজুলি ভরাটের অভিযোগে চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে কাবিলপুর হাই স্কুলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস ঘটা করে উদযাপন পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঠিক আগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ জয়নগরে ২০২৬ নির্বাচন ঘিরে ফারাক্কায় জোর চর্চায় রেহেনা ইয়াসমিন  পিতা-মাতার স্মৃতিতে আট দিনব্যাপী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন পুলিশকর্মী ছেলের উদ্যোগে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের মৃত্যু মিছিল থামছেই না, সরকারি ক্ষতিপূরনের দাবি মাটি, মানুষ ও সংগঠন: রাবিউল ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন দুবে ঝড়ে উড়ে গেল নেদারল্যান্ডস, বোলিংয়ে নায়ক বরুণ হঠাতই ব্যাটিং বিপর্যয়, রঞ্জি থেকে বিদায় বাংলার ফারহানের দুরন্ত সেঞ্চুরি, সুপার এইটে পাকিস্তানও ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে আজ নামিবিয়ার মুখোমুখি পাকিস্তান সামির ৮ উইকেটেও, ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের মুখে বাংলা চুঁচুড়ায় প্রার্থী ঘোষণার আগেই দেওয়াল লিখনে জোর তৃণমূল, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির কুলতলিতে আয়ুষ মেলা: বিকল্প চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ রানীনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভা ও জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে উপচে পড়া ভিড়  কৃষকদের সমস্যা সমাধানে চালু ‘ভারত বিস্তার’ এআই টুল গোবর্ধনডাঙ্গায় তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের কর্মী সভা কাবিলপুরে মানব সেবা ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু মালদা জেলায় হাই মাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন পা দিয়ে লিখেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা মানকুন্ডুতে সারা বাংলা একদিনের দাবা প্রতিযোগিতা মেরা যুব ভারতের উদ্যোগে মগরাহাটে জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অপসংস্কৃতির স্রোতের বিপরীতে নাট্যচর্চার বার্তা – বাগনানে তিনদিনের নাট্য উৎসবে নজর কাড়ল বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব দ্বীপাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ: আমতায় নির্মীয়মাণ কংক্রিটের সেতুতে বাড়ছে আশার আলো মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কলকাতায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট কর্মশালা জীবনে কিছু জায়গা থেকে চুপচাপ সরে আসতে হয় ১৪ই ফেব্রুয়ারি: ভালবাসার দিন হিসেবে কেন পালিত হয়? সুদ, মাদক ও জুয়ার অদৃশ্য জোট: সমাজ ধ্বংসের নীরব চক্রান্ত আদ্রায় ‘বিনা পয়সার বাজারে’ উপচে পড়া ভিড়, হাসি ফিরল অসংখ্য মুখে মেডিকেল ভর্তিতে কাট অফ বিতর্কে তোলপাড় দেশ হবু ডাক্তারদের মান, মেধা ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন কেরালার আদালতে নতুন অধ্যায় রচিত দৃষ্টিহীন তরুণী বিচারক গড়লেন নজির

পশ্চিমারা কি মুখ রক্ষা করতে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, রাত ১২:০৮ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, রাত ১২:০৮

নতুন পয়গাম, বিশেষ প্রতিবেদন:

আরও পড়ুন:

নতুন পয়গাম: ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগাল। গাজায় ইসরাইলি যুদ্ধ ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে দখলদারির বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিক্রিয়া হিসেবে রবিবার ইউরোপের ৪ দেশ এই স্বীকৃতি দেয়। চলতি সপ্তাহেই ফ্রান্স-সহ আরো কয়েবকটি দেশ স্বীকৃতি দেবে। ইসরাইল এই স্বীকৃতির তীব্র নিন্দা করে বলেছে, এই স্বীকৃতি হাস্যকর। এটি সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করবে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর অধিকৃত পশ্চিম তীরে গিয়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দম্ভভরে বলেন, ফিলিস্তিন নামে কোনো রাষ্ট্র হবে না। আমরা কখনোই এটা হতে দেব না। কারণ, ফিলিস্তিন স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হলে, তা হবে ইসরাইলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি ও চ্যালেঞ্জ।
ইসরাইলি আগ্রাসনে চরম দুর্দশায় জীবন কাটছে ফিলিস্তিনিদের। এই স্বীকৃতি কি তাঁদের দুর্দশা লাঘব করবে বা অবসান ঘটাবে? আদৌ কোনো বাস্তবসম্মত পরিবর্তন কি আসবে? বিশ্লেষকেরা আশাবাদী হলেও সংশয়ে রয়েছেন। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের অবৈধ দেশ ইসরাইল কারো তোয়াক্কা করে না। ইউনিসেফ থেকে আন্তর্জাতিক আদালত কেউ ইসরাইলের বিরুদ্ধে কিছু বললেই, আমেরিকা সেই সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বা বয়কট করে। এদিকে ইসরাইল সরকার হুমকি দিয়েছে, তারা পুরো গাজা অঞ্চল দখল করে নিজেদের দেশের সঙ্গে যুক্ত করে নেবে। ট্রাম্পও সম্প্রতি একই কথা বলেছিলেন। পানামা, গ্রীনল্যান্ডের পাশাপাশি গাজা উপত্যকাকেও গায়ের জোরে দখল করে নেওয়ার হুমকি দেন।
মাঝেমধ্যেই দেখা যাচ্ছে, কিছু দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। এ পর্যন্ত ১৫১টা দেশ এটা করেছে। এর খুব বেশি প্রভাব বা গুরুত্ব না থাকলেও, নিঃসন্দেহে আন্তর্জাতিক মহলে একটা পরোক্ষ চাপ বাড়াচ্ছে। কিন্তু ওইসব দেশগুলো শুধুমাত্র মৌখিক বা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দিয়ে বরং পাশাপাশি ইসরাইলকে বয়কট বা নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করা, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নো-ফ্লাই জোন বাস্তবায়নের মতো কার্যকর পদক্ষেপ না করা পর্যন্ত কাজের কাজ কিছুই হবে না। সুতরাং বলাবাহুল্য, পশ্চিমারা কেবলমাত্র মুখ রক্ষার খাতিরে মাঝে মাঝে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়ে চলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূলত লোকদেখানো স্বীকৃতি। তারা আন্তর্জাতিক স্তরে ক্রমবর্ধমান চাপ এবং নিজ নিজ দেশবাসীর চাপের মুখে এই পদক্ষেপ করছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তবুও এই স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে ফিলিস্তিন সরকার ওইসব দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে এবং রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত করতে পারবে। এরই মধ্যে ব্রিটেন ঘোষণা করেছে, তারা হুসাম জোমলটকে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত হিসেবে স্বীকৃতি দেবে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের বড় একটি অংশ ইতিমধ্যেই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সম্প্রতি আরও কিছু স্বীকৃতি যোগ হয়েছে। কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, হাতেগোনা কিছু ইউরোপীয় ও বাল্টিক দেশ, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান-সহ কয়েকটি দেশ এখনো ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়নি।
অবশ্য বেশিরভাগ দেশের স্বীকৃতি পেলেও রাষ্ট্রসংঘের সদস্য হতে পারেনি ফিলিস্তিন। মার্কিন সহায়তা ছাড়া এসব স্বীকৃতির বলে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রসংঘের কোনো সুযোগ-সুবিধা পাবে না। নতুন করে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যও হতে পারবে না। ফিলিস্তিন বর্তমানে রাষ্ট্রসংঘের সদস্য নয়, তারা পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র মাত্র। পূর্ণ সদস্য হতে হলে নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশ পেতে হবে এবং রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেতে হবে। কিন্তু সবকিছু হলেও শেষমেষ আমেরিকা ভেটো দিলে সব পণ্ড হয়ে যাবে। এটাই হচ্ছে যুগ যুগ ধরে। মার্কিন ভেটোর কারণে বারে বারে প্রস্তাব পাস হলেও কার্যকর হচ্ছে না।
অন্যদিকে গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করতে ইসরাইলের ওপর ঘরে-বাইরে চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে ইউরোপ থেকে চাপ জোরালো হচ্ছে। গতিশীল হচ্ছে ইসরাইলকে বর্জন বা বয়কটের প্রচারও। ফলে ইউরোভিশন ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাগুলো থেকে ইসরাইলকে বাদ দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্প্রতি কিছু ইসরাইলি পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি এবং দেশটির কয়েকজন নেতা-মন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়েও আলোচনা করেছে। আন্তর্জাতিক আদালত কয়েকমাস আসে পরোয়ানা জারি করেছে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী, ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নামে। তাদের অর্থমন্ত্রী ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলেছেন, কয়েক মাস ধরে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা করলেও কিছু পশ্চিমা দেশ মূলত গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে। একদিকে প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিক দলগুলোর সঙ্গে জড়িত ইসরাইলি লবি বা গোষ্ঠীগুলোর চাপ, অন্যদিকে জাতিগত গণহত্যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জনগণের ক্রমবর্ধমান দাবি, দেশের ভেতরে এমন নানামুখী চাপের কারণেই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছে কয়েকটি দেশ। ইউরোপের উদার-বামপন্থী সরকারগুলোর ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে এই স্বীকৃতি। আসলে কিছুই বদলায়নি। ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণকে খুশি রাখতে এটি হল কম ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ। তাঁরা আসলে নিজেদের মুখ বাঁচাতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গত জুলাইয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছিলেন, গাজায় যুদ্ধ বন্ধে ইসরাইল কার্যকর পদক্ষেপ না করলে তিনি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবেন। শেষমেষ‌ ২১ সেপ্টেম্বর তিনি স্বীকৃতি দিলেন। এই পথেই হাঁটল কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং পরদিন পর্তুগাল।
এদিকে শিগগিরই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে বলে জানিয়েছে ইউরোপের প্রভাবশালী দেশ ফ্রান্স। এটি হলে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশের মধ্যে চারটিরই স্বীকৃতি পাবে ফিলিস্তিন। তথ্য বলছে, রাষ্ট্রসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশের স্বীকৃতি পেয়েছে ফিলিস্তিন। এখন প্রশ্ন হলো, এ স্বীকৃতির অর্থ কী বা এটি কি বাস্তবে ফিলিস্তিনের জনগণের জন্য কোনো পরিবর্তন আসবে?
ফিলিস্তিন এমন একটি রাষ্ট্র, যার অস্তিত্ব আছে বাস্তবের মাটিতে। কিন্তু বিশ্বের দরবারে খাতায় কলমে কিছু নেই। বিভিন্ন দেশে ফিলিস্তিনের কূটনৈতিক মিশন আছে। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ফিলিস্তিনের সীমানা, রাজধানী বা সেনাবাহিনী কিছুই নেই। অলিম্পিকের মতো ক্রীড়া প্রতিযোগিতায়ও অংশ নেয় ফিলিস্তিন। রাষ্ট্রসংঘের স্থায়ী সদস্য না হলেও পর্যবেক্ষক সদস্য দেশ।
১৯১৭ সালে বেলফোর ঘোষণায় ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইহুদিদের জন্য আবাসভূমি গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই ঘোষণায় এই প্রতিশ্রুতিও ছিল যে, ইহুদি বাদে এই ভূখণ্ডে অন্য সম্প্রদায়ের যেসব লোকজন বসবাস করেন, তাঁদের মৌলিক, নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমন কিছু করা হবে না। যদিও ইসরাইল বলে, বেলফোর ঘোষণায় ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কিছু বলা হয়নি। এমন জটিলতার মধ্যে ফিলিস্তিনিদের সমস্যার সমাধান আজো হয়নি। ৭৭ বছর আগে ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইল রাষ্ট্র গড়ে উঠলেও ফিলিস্তিনকে আদো স্বাধীন রাষ্ট্র করা হয়নি। দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের প্রস্তাব অনুযায়ী ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের আগে পশ্চিম তীর ও গাজার যে সীমানা ছিল, তা নিয়ে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা ছিল। যার রাজধানী হওয়ার কথা ছিল পূর্ব জেরুজালেম।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইসরাইল রাষ্ট্র গঠনে মুখ্য ভূমিকা ছিল ব্রিটেনের। কারণ, তখন ফিলিস্তিন ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে। তাই ব্রিটেনের এই স্বীকৃতির অবশ্যই তাৎপর্য ও গুরুত্ব রয়েছে। পাশাপাশি এবার যদি ফ্রান্সও ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে নিরাপত্তা পরিষদে ফিলিস্তিনের অবস্থান আরও মজবুত হবে। এর আগে ১৯৮৮ সালে অন্য দুই স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীন এই স্বীকৃতি দিয়েছিল। ফলে স্থায়ী পাঁচ সদস্যের মধ্যে একমাত্র আমেরিকাই হবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি না দেওয়া দেশ।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder