BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

পশ্চিমারা কি মুখ রক্ষা করতে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, রাত ১২:০৮ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, রাত ১২:০৮

নতুন পয়গাম, বিশেষ প্রতিবেদন:

আরও পড়ুন:

নতুন পয়গাম: ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগাল। গাজায় ইসরাইলি যুদ্ধ ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে দখলদারির বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিক্রিয়া হিসেবে রবিবার ইউরোপের ৪ দেশ এই স্বীকৃতি দেয়। চলতি সপ্তাহেই ফ্রান্স-সহ আরো কয়েবকটি দেশ স্বীকৃতি দেবে। ইসরাইল এই স্বীকৃতির তীব্র নিন্দা করে বলেছে, এই স্বীকৃতি হাস্যকর। এটি সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করবে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর অধিকৃত পশ্চিম তীরে গিয়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দম্ভভরে বলেন, ফিলিস্তিন নামে কোনো রাষ্ট্র হবে না। আমরা কখনোই এটা হতে দেব না। কারণ, ফিলিস্তিন স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হলে, তা হবে ইসরাইলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি ও চ্যালেঞ্জ।
ইসরাইলি আগ্রাসনে চরম দুর্দশায় জীবন কাটছে ফিলিস্তিনিদের। এই স্বীকৃতি কি তাঁদের দুর্দশা লাঘব করবে বা অবসান ঘটাবে? আদৌ কোনো বাস্তবসম্মত পরিবর্তন কি আসবে? বিশ্লেষকেরা আশাবাদী হলেও সংশয়ে রয়েছেন। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের অবৈধ দেশ ইসরাইল কারো তোয়াক্কা করে না। ইউনিসেফ থেকে আন্তর্জাতিক আদালত কেউ ইসরাইলের বিরুদ্ধে কিছু বললেই, আমেরিকা সেই সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বা বয়কট করে। এদিকে ইসরাইল সরকার হুমকি দিয়েছে, তারা পুরো গাজা অঞ্চল দখল করে নিজেদের দেশের সঙ্গে যুক্ত করে নেবে। ট্রাম্পও সম্প্রতি একই কথা বলেছিলেন। পানামা, গ্রীনল্যান্ডের পাশাপাশি গাজা উপত্যকাকেও গায়ের জোরে দখল করে নেওয়ার হুমকি দেন।
মাঝেমধ্যেই দেখা যাচ্ছে, কিছু দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। এ পর্যন্ত ১৫১টা দেশ এটা করেছে। এর খুব বেশি প্রভাব বা গুরুত্ব না থাকলেও, নিঃসন্দেহে আন্তর্জাতিক মহলে একটা পরোক্ষ চাপ বাড়াচ্ছে। কিন্তু ওইসব দেশগুলো শুধুমাত্র মৌখিক বা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দিয়ে বরং পাশাপাশি ইসরাইলকে বয়কট বা নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করা, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নো-ফ্লাই জোন বাস্তবায়নের মতো কার্যকর পদক্ষেপ না করা পর্যন্ত কাজের কাজ কিছুই হবে না। সুতরাং বলাবাহুল্য, পশ্চিমারা কেবলমাত্র মুখ রক্ষার খাতিরে মাঝে মাঝে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়ে চলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূলত লোকদেখানো স্বীকৃতি। তারা আন্তর্জাতিক স্তরে ক্রমবর্ধমান চাপ এবং নিজ নিজ দেশবাসীর চাপের মুখে এই পদক্ষেপ করছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তবুও এই স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে ফিলিস্তিন সরকার ওইসব দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে এবং রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত করতে পারবে। এরই মধ্যে ব্রিটেন ঘোষণা করেছে, তারা হুসাম জোমলটকে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত হিসেবে স্বীকৃতি দেবে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের বড় একটি অংশ ইতিমধ্যেই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সম্প্রতি আরও কিছু স্বীকৃতি যোগ হয়েছে। কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, হাতেগোনা কিছু ইউরোপীয় ও বাল্টিক দেশ, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান-সহ কয়েকটি দেশ এখনো ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়নি।
অবশ্য বেশিরভাগ দেশের স্বীকৃতি পেলেও রাষ্ট্রসংঘের সদস্য হতে পারেনি ফিলিস্তিন। মার্কিন সহায়তা ছাড়া এসব স্বীকৃতির বলে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রসংঘের কোনো সুযোগ-সুবিধা পাবে না। নতুন করে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যও হতে পারবে না। ফিলিস্তিন বর্তমানে রাষ্ট্রসংঘের সদস্য নয়, তারা পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র মাত্র। পূর্ণ সদস্য হতে হলে নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশ পেতে হবে এবং রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেতে হবে। কিন্তু সবকিছু হলেও শেষমেষ আমেরিকা ভেটো দিলে সব পণ্ড হয়ে যাবে। এটাই হচ্ছে যুগ যুগ ধরে। মার্কিন ভেটোর কারণে বারে বারে প্রস্তাব পাস হলেও কার্যকর হচ্ছে না।
অন্যদিকে গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করতে ইসরাইলের ওপর ঘরে-বাইরে চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে ইউরোপ থেকে চাপ জোরালো হচ্ছে। গতিশীল হচ্ছে ইসরাইলকে বর্জন বা বয়কটের প্রচারও। ফলে ইউরোভিশন ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাগুলো থেকে ইসরাইলকে বাদ দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্প্রতি কিছু ইসরাইলি পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি এবং দেশটির কয়েকজন নেতা-মন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়েও আলোচনা করেছে। আন্তর্জাতিক আদালত কয়েকমাস আসে পরোয়ানা জারি করেছে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী, ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নামে। তাদের অর্থমন্ত্রী ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলেছেন, কয়েক মাস ধরে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা করলেও কিছু পশ্চিমা দেশ মূলত গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে। একদিকে প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিক দলগুলোর সঙ্গে জড়িত ইসরাইলি লবি বা গোষ্ঠীগুলোর চাপ, অন্যদিকে জাতিগত গণহত্যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জনগণের ক্রমবর্ধমান দাবি, দেশের ভেতরে এমন নানামুখী চাপের কারণেই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছে কয়েকটি দেশ। ইউরোপের উদার-বামপন্থী সরকারগুলোর ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে এই স্বীকৃতি। আসলে কিছুই বদলায়নি। ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণকে খুশি রাখতে এটি হল কম ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ। তাঁরা আসলে নিজেদের মুখ বাঁচাতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গত জুলাইয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছিলেন, গাজায় যুদ্ধ বন্ধে ইসরাইল কার্যকর পদক্ষেপ না করলে তিনি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবেন। শেষমেষ‌ ২১ সেপ্টেম্বর তিনি স্বীকৃতি দিলেন। এই পথেই হাঁটল কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং পরদিন পর্তুগাল।
এদিকে শিগগিরই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে বলে জানিয়েছে ইউরোপের প্রভাবশালী দেশ ফ্রান্স। এটি হলে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশের মধ্যে চারটিরই স্বীকৃতি পাবে ফিলিস্তিন। তথ্য বলছে, রাষ্ট্রসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশের স্বীকৃতি পেয়েছে ফিলিস্তিন। এখন প্রশ্ন হলো, এ স্বীকৃতির অর্থ কী বা এটি কি বাস্তবে ফিলিস্তিনের জনগণের জন্য কোনো পরিবর্তন আসবে?
ফিলিস্তিন এমন একটি রাষ্ট্র, যার অস্তিত্ব আছে বাস্তবের মাটিতে। কিন্তু বিশ্বের দরবারে খাতায় কলমে কিছু নেই। বিভিন্ন দেশে ফিলিস্তিনের কূটনৈতিক মিশন আছে। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ফিলিস্তিনের সীমানা, রাজধানী বা সেনাবাহিনী কিছুই নেই। অলিম্পিকের মতো ক্রীড়া প্রতিযোগিতায়ও অংশ নেয় ফিলিস্তিন। রাষ্ট্রসংঘের স্থায়ী সদস্য না হলেও পর্যবেক্ষক সদস্য দেশ।
১৯১৭ সালে বেলফোর ঘোষণায় ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইহুদিদের জন্য আবাসভূমি গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই ঘোষণায় এই প্রতিশ্রুতিও ছিল যে, ইহুদি বাদে এই ভূখণ্ডে অন্য সম্প্রদায়ের যেসব লোকজন বসবাস করেন, তাঁদের মৌলিক, নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমন কিছু করা হবে না। যদিও ইসরাইল বলে, বেলফোর ঘোষণায় ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কিছু বলা হয়নি। এমন জটিলতার মধ্যে ফিলিস্তিনিদের সমস্যার সমাধান আজো হয়নি। ৭৭ বছর আগে ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইল রাষ্ট্র গড়ে উঠলেও ফিলিস্তিনকে আদো স্বাধীন রাষ্ট্র করা হয়নি। দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের প্রস্তাব অনুযায়ী ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের আগে পশ্চিম তীর ও গাজার যে সীমানা ছিল, তা নিয়ে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা ছিল। যার রাজধানী হওয়ার কথা ছিল পূর্ব জেরুজালেম।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইসরাইল রাষ্ট্র গঠনে মুখ্য ভূমিকা ছিল ব্রিটেনের। কারণ, তখন ফিলিস্তিন ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে। তাই ব্রিটেনের এই স্বীকৃতির অবশ্যই তাৎপর্য ও গুরুত্ব রয়েছে। পাশাপাশি এবার যদি ফ্রান্সও ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে নিরাপত্তা পরিষদে ফিলিস্তিনের অবস্থান আরও মজবুত হবে। এর আগে ১৯৮৮ সালে অন্য দুই স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীন এই স্বীকৃতি দিয়েছিল। ফলে স্থায়ী পাঁচ সদস্যের মধ্যে একমাত্র আমেরিকাই হবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি না দেওয়া দেশ।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder