১০৮ বছর আগের পাপের প্রায়শ্চিত্য করল ব্রিটেন
মুদাসসির নিয়াজ
কুখ্যাত বেলফোর ডিকলারেশন-এর ১০৮ বছর পর শতাব্দী প্রাচীন পাপের প্রায়শ্চিত্য করল ব্রিটেন। ১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর তদানীন্তন ব্রিটিশ বিদেশমন্ত্রী জেমস আর্থার বেলফোর ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইল রাষ্ট্র গঠনের লিখিত প্রস্তাব ঘোষণা করেছিলেন। তারপর সেই ঘোষণা মোতাবেক ১৯৪৮ সালের ১৪ মে রাষ্ট্রসংঘে প্রস্তাব পাস করিয়ে ইসরাইলকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে দিয়েছিল আমেরিকা, ব্রিটেন-সহ পশ্চিমারা। কিন্তু ৭৭ বছর পরেও ফিলিস্তিনকে আজো স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয়নি রাষ্ট্রসংঘ বা পশ্চিমারা। এখন ১০৮ বছর পর বাম হাতে মনসা পুজো দেওয়ার মতো করে নামমাত্র আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়ে সেই পাপের প্রায়শ্চিত্য করল ব্রিটেন সরকার।
যদিও ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে ব্রিটেন রাষ্ট্রসংঘে যে ভূমিকা নিয়েছিল, ফিলিস্তিনের ব্যাপারে তার ভগ্নাংশও ভূমিকা নেয়নি। আজ ব্রিটেন, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার এই স্বীকৃতিতে ফিলিস্তিন স্বাধীন রাষ্ট্র হবে না। কিন্তু এই নিয়ে ১৪০ টারও বেশি দেশ স্বীকৃতি দিল, যা আমেরিকা, ইসরাইল তথা আন্তর্জাতিক মহলের ওপর চাপ তো বটেই। সেই নিরিখে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ দিনটা মাইলস্টোন হয়ে থাকবে। কারণ, এই মুহূর্তে আমেরিকা এবং ইসরাইল একযোগে গাজা উপত্যকাকে ধ্বংস ও গণহত্যা করে পুরোপুরি দখল করে নিতে চাইছে। সেই লক্ষ্যেই তারা এবার আকাশপথের পাশাপাশি ট্যাঙ্ক, কামান নিয়ে স্থলপথেও পাশবিক হামলা চালাচ্ছে। গত প্রায় দুই বছরে নিরীহ নারী, শিশু-সহ অন্তত ২ লক্ষ ফিলিস্তিনিকে তারা হত্যা করেছে। সুদীর্ঘ সাড়ে সাত দশক ধরে এমন পৈশাচিক হামলা চালিয়ে যাওয়ার পরও পশ্চিমারা আজো ইসরাইলকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র বলে তকমা দেয়নি। উল্টে তারা সবাই ইসরাইলকে অর্থ ও অস্ত্র সহযোগিতা দিয়ে চলেছে। আর হামাসকে বলছে সন্ত্রাসী।
অথচ ২০২৩ এর ৭ অক্টোবরের আগে হামাস কখনও ইসরাইলে হামলা চালায়নি। তারা বরাবরই ইসরাইলি হামলা প্রতিরোধের চেষ্টা করে মাত্র। হামাসের একমাত্র অপরাধ হল, তারা গাজা উপত্যকা-সহ ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা চায়। তাদের মূল দাবি হল, ১৯৬৭ সালের আগে মানচিত্র অনুযায়ী ইসরাইলকে জবরদখল করা ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে হবে এবং ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিতে হবে। এটাই তাদের অপরাধ। উল্লেখ্য, হামাস এখনও পর্যন্ত একজনও ইসরাইলি নেতা-মন্ত্রীকে হত্যা করেনি। ইসরাইল কিন্তু দীর্ঘকাল ধরে এই কুকর্ম করে চলেছে। সম্প্রতি হামাস ও হিজবুল্লাহর একঝাঁক শীর্ষনেতাকে হত্যা করেছে। ফিলিস্তিনের পাশাপাশি সিরিয়া, লিবিয়া, লেবানন, ইরাক, ইরান, কাতারের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বিমান হামলা ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালিয়েই যাচ্ছে দীর্ঘকাল ধরে। তবুও তারা পশ্চিমাদের নজরে মানবতাবিরোধী বা যুদ্ধাপরাধী নয়। এই দ্বিচারিতার অবসান হলে তবেই মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফিরবে। তখন নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প মনোনীত হতে পারেন। তার আগে বায়না করুন, তদ্বির করুন, চাপ দিন, শিকে ছিঁড়বে বলে মনে হয় না।








