স্ত্রীকে ‘নারী’ প্রমাণ করতে কোর্টে ফরাসি প্রেসিডেন্ট
নতুন পয়গাম,প্যারিস,
১৯ সেপ্টেম্বর: স্ত্রী ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ যে একজন নারী, তা প্রমাণ করতে মার্কিন আদালতে যাচ্ছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সেখানে ব্রিজিতকে নারী প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় সব বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আদালতে উপস্থাপনের পরিকল্পনা করছেন এই দম্পতি। জানা গেছে, তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন একজন প্রভাবশালী মার্কিন ডানপন্থী ব্যক্তিত্ব ক্যান্ডেস ওয়েন্সের বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে প্রথমবার ওয়েন্স প্রকাশ্যে দাবি করেন, ব্রিজিত আসলে একজন পুরুষ। তিনি এও বলেন, এই দাবির পেছনে আমি আমার পুরো ক্যারিয়ার বাজি রাখছি।
এরপর ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে তিনি একটি আট-পর্বের পডকাস্ট সিরিজ প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি ম্যাক্রোঁ দম্পতির ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবন নিয়ে নানান বিতর্কিত ও ভিত্তিহীন দাবি তুলে ধরেন। এই ধারাবাহিক প্রচারের ফলেই ম্যাক্রোঁ দম্পতি ২০২৫ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ওয়েন্সের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রে খ্যাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করতে হলে প্রমাণ করতে হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছেন। এর অংশ হিসেবে আদালতে বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্য উপস্থাপন করার পাশাপাশি ব্রিজিতের গর্ভবতী অবস্থার ছবি ও সন্তানদের লালন-পালনের প্রমাণও উপস্থাপন করা হবে।
পুরো আইনি প্রক্রিয়াকে ‘ব্যক্তিগতভাবে অস্বস্তিকর’ বলে মনে করেন ব্রিজিত। তিনি জানান, ‘যদি এ অস্বস্তি ও আত্মউন্মোচনই সত্য প্রতিষ্ঠার পথ হয়, তাহলে আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সে বোঝা বহন করতে।’
ম্যাক্রোঁ দম্পতির আইনজীবী টম ক্লেয়ার বলেন, ‘এ অভিযোগ ব্রিজিতের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক এবং প্রেসিডেন্টের জন্যও এটি একটি বিভ্রান্তিকর বিষয়। যখন আপনার পরিবার আক্রমণের শিকার হয়, তখন সেটি আপনার ওপর প্রভাব ফেলে, যদি আপনি যদি একটি দেশের প্রেসিডেন্টও হন।’
তিনি আরও জানান, ‘আদালতে বিশেষজ্ঞ সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হবে এবং দম্পতি সম্পূর্ণভাবে প্রমাণ করতে প্রস্তুত যে এ অভিযোগ মিথ্যা।’ তবে, ওয়েন্সের আইনজীবীরা মামলাটি খারিজের আবেদন করেছেন। তাদের মতে, মামলাটি ডেলাওয়ারের আদালতের দায়ের করা অনুচিত হয়েছে। এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, তাদের মক্কেল বসবাস করেন টেনেসি রাজ্যে। সেখানে মামলার বিচার হলে অর্থনৈতিক ও পরিচালনাগতভাবে গুরুতর ক্ষতি হবেন তিনি।
এই মামলার পেছনে দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, যার সূত্রপাত ২০২১ সালে দু’জন ফরাসি ব্লগারের একটি ইউটিউব ভিডিও থেকে। ফ্রান্সে এ অভিযোগের বিরুদ্ধে ম্যাক্রোঁ দম্পতি একটি মামলা জিতেছিলেন। যদিও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ভিত্তিতে পরে আপিলে রায়টি বাতিল হয়। কিন্তু সত্যের ভিত্তিতে ম্যাক্রোঁ দম্পতি আবার আপিল করেছেন।
এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ফরাসি ম্যাগাজিন ‘প্যারিস ম্যাচ’-এ বলেন, ‘এটি আমার সম্মান রক্ষার বিষয়। এটি এমন একজনের কাজ, যিনি জানতেন তার তথ্য মিথ্যা এবং তা ছড়িয়েছেন উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে, একটি মতাদর্শের সেবায় এবং চিহ্নিত কট্টর ডানপন্থী নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে।’








