শাবাহার বন্দর ব্যবহারে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা
চাপের কূটনীতি নিয়ে জল মাপছে ভারত-চীন
নতুন পয়গাম, ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি,
১৯ সেপ্টেম্বর: সম্প্রতি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছিলেন, এর আগে এমন মার্কিন প্রেসিডেন্ট দেখিনি। ইংগিত ছিল ট্রাম্পের হঠকারিতার দিকে। তিনি কখন যে কী বলেন, আর কখন কী করে বসেন, তার ঠাহর করা খুব মুশকিল। সকালে এক কথা বলেন, আর বিকেলে পাল্টিক খান। আবার বিকেলে যা বলেন, রাত পেরলো সেখান থেকে ডিগবাজি খান। এবার তার চিরাচরিত পল্টুরাম ভাবমূর্তির আরেক নজির রাখলেন ট্রাম্প। শাবাহার বন্দর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিলেন ভারতকে।
মুখে বন্ধুত্বের কথা বলছেন, আবার পরক্ষণেই শত্রুতা করছেন। ভারতকে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বন্ধু বলে ভূয়সী প্রশংসা করার মাত্র কয়েকদিন পরেই নিষেধাজ্ঞার ভবিষ্যদ্বাণী করলেন। বৃহস্পতিবার ব্রিটেন সফররত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, তিনি ভারত ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। দুই দেশের সম্পর্কও খুব ভাল। অথচ তারপরেই ভারতের উপর চাপ তৈরি করল ট্রাম্প প্রশাসন। ২০১৮ সালে ইরানের শাবাহার বন্দর ব্যবহারে ছাড়পত্র দিয়েছিল আমেরিকা। কিন্তু এবার রেড সিগনাল দেখাল। ওয়াশিংটন প্রশাসন জানিয়েছে, পরমাণু ইস্যুতে তারা ইরানকে একঘরে করতে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করতে চাইছে। সে জন্যই এই সিদ্ধান্ত। এখন থেকে কোনও দেশ শাবাহার বন্দর ব্যবহার করলে তাদের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে।
পাকিস্তানকে এড়িয়ে জলপথে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় পণ্য সরবরাহের জন্য শাবাহারের উপর নির্ভর করে দিল্লি। যৌথ উদ্যোগে এই বন্দরের একাংশ ভারত নিয়ন্ত্রণ করে। তাই আমেরিকার নয়া নির্দেশিকায় ভারতের বাণিজ্য পরিকল্পনা ধাক্কা খেতে পারে।
সম্প্রতি রাশিয়া থেকে তেল কেনার দায়ে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান ট্রাম্প। এবার ইরানকে জব্দ করার অজুহাতে ভারতের ওপর শাবাহার বন্দর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিলেন ট্রাম্প। অন্যদিকে দুই দফায় মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে রীতিমতো ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন ট্রাম্প। ভারত ছাড়া এত বিপুল অংকের শুল্ক চাপানো হয়েছে ব্রাজিলের ওপর। কিন্তু আমেরিকার সবথেকে বড় শত্রু রাশিয়া, চীন, ইরান, উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলোর ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপাননি ট্রাম্প।
অটলবিহারী বাজপেয়ীর আমলে শাবাহার বন্দরের আধুনিকীকরণের জন্য ইরানের সঙ্গে চুক্তি করে দিল্লি। কিন্তু মার্কিন চাপে সেই চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য হয় ভারত। ২০২৪ সালে শাবাহার নিয়ে ফের চুক্তি করে দিল্লি। ভারত সরকার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দও করে। ভারতীয় সংস্থা ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড শাবাহারের আংশিক নিয়ন্ত্রণ পায়। এখনও পর্যন্ত ওই টার্মিনালে ৮০ লক্ষ টনের বেশি পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়েছে। কয়েক লক্ষ কন্টেনারও ওই টার্মিনালের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে গিয়েছে।
শাবাহার বন্দরের মাধ্যমেই আফগানিস্তানে ত্রাণ পাঠিয়েছিল দিল্লি। এখন শাবাহার বন্দর ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিলেন ট্রাম্প। উল্লেখ্য, ভৌগোলিক দিক থেকে এই বন্দর ভারতের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই একে অত্যাধুনিক বন্দর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হলে বৈদেশিক ক্ষেত্রে ভারতের প্রভাব অনেকটা বাড়বে। কিন্তু ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞা চাপালে ভারত দুর্বল হবে, আর ওই অঞ্চলে চীনের প্রভাব বাড়বে বলেই অনুমান বিশ্লেষকদের।








