মৃত্যুপুরী গাজা উপত্যকায় উদ্বাস্তুর স্রোত
নতুন পয়গাম, গাজাসিটি,
১৮ সেপ্টেম্বর: বৃহস্পতিবার আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি নাগরিককে হত্যা করেছে ইসরাইলি সেনারা। পাশাপাশি এদিন অন্তত ২২৮ জন গুরুতর আহত হয়েছে। এরা সবাই অসহায় অবস্থায় ত্রাণ নিতে লাইনে দাঁড়িয়েছিল। এবার পুরোপুরি গাজা উপত্যকাকে দখল করে নিতে মরিয়া ইসরাইল। প্রাণের হুমকি দিয়ে তাড়ানো হচ্ছে বাসিন্দাদের। লক্ষ লক্ষ গাজাবাসী দক্ষিণাঞ্চলের দিকে পালিয়ে যাচ্ছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই এক উদ্বাস্তুর স্রোতের ছবি দেখা গিয়েছে। মাথায় পুঁটলিতে জামা-কাপড় বাসনপত্র; কোলে বাচ্চা, আর পিঠে ঘরকন্নার সামগ্রী বোঝাই করে নিয়ে চড়া রোদে সপরিবারে অজস্র মানুষ মাইলের পর মাইল হেঁটে চলেছেন। গন্তব্য অজানা। কেঁদে কেঁদে তারা বলেছেন, ‘‘আমাদের রক্তের কোনও দাম নেই, আমাদের চোখের জলের দাম নেই, আমাদের জীবনের কোন মূল্য নেই। আমাদের কেবল ঘরবাড়ি কেড়ে নেওয়া হয়নি, সব কিছু কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। মানবতা বলে আর কিছু নেই। আমাদের বেঁচে থাকারও অধিকার নেই।’’
গাজা এখন মৃত্যুপুরী নয়, বরং হত্যাপুরী। বিশ্বময় নিন্দা, ধিক্কারের মুখে আমেরিকা ও ইসরাইল। কিন্তু তারা দেদার ধ্বংস ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। শিশু, নারী, যুবক কাউকেই রেয়াত করছে না। ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু কসাই বা জল্লাদের ভূমিকা নিয়েছে। গাজাবাসী আতঙ্কে, অনাহারে। বহু মানুষের মৃত্যু হচ্ছে অনাহারে, অপুষ্টিতে ভুগে। শয়ে শয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে একরত্তি শিশুরা। এমনকি হাসপাতালে সদ্যোজাতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই।
প্রাণে বাঁচতে স্রোতের মতো মানুষ পালাচ্ছে চোদ্দ পুরুষের ভিটে-মাটি ছেড়ে।
ইতিমধ্যেই প্রায় ৪ লক্ষ মানুষ গাজা সিটি ছেড়ে দক্ষিণের উপকূলবর্তী এলাকা আল-মাওয়াসির দিকে চলে যাচ্ছেন। ইসরাইল সরকার দাবি করছে, অর্থনৈতিক সঙ্কটের জেরে খেতে না পেয়ে মানুষ গাজা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। গাজায় মানুষের ন্যূনতম প্রয়োজন খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান কঠিন প্রশ্নের মুখে। জানা গিয়েছে, ২০২৩ এর ৭ অক্টোবরের পর থেকে একাধিক বার ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র পালিয়েছে বহু পরিবার। কার্যত এরা যাযাবরের জীবন কাটাচ্ছে।








