সামতাবেড়ের আঙিনায় শরৎচন্দ্রের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী
অতসী মণ্ডল, নতুন পয়গাম, হাওড়া:
সামতাবেড়ের শান্ত সকালে রঙে রঙে ভরে উঠল এক অন্যরকম উৎসব। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫—মানবতাবাদী কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর বাসভবনে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। জন্মদিনের আনুষ্ঠানিকতার বাইরে এটি ছিল শরৎচন্দ্রের সাহিত্য ও চিরন্তন মানবিক মূল্যবোধকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক আন্তরিক প্রচেষ্টা।
দিনটি শুরু হয় সকাল ১০টা থেকে অঙ্কন প্রতিযোগিতা ও “যেমন খুশি সাজো” প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে। শরৎচন্দ্রের গল্পের চরিত্র ও দৃশ্যকে কেন্দ্র করে শিশুদের কল্পনা আর সৃজনশীলতা যেন মুক্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে কাগজ ও রঙের আঁচড়ে। প্রতিটি রেখা যেন সাহিত্যের প্রাণকে স্পর্শ করছিল।
বিকেল ৪টায় শরৎচন্দ্রের বাসভবনে শরৎচন্দ্র জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটির উদ্যোগে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। মাল্যদান, সংগীত ও আবৃত্তির মাধ্যমে সাহিত্যিকের কীর্তি ও মানবিক দর্শনকে স্মরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন প্রাক্তন শিক্ষক আশীষ ব্যানার্জি। কমিটির সম্পাদক অধ্যাপক ইমন কল্যাণ মিশ্র উদ্বোধনী ভাষণে শরৎচন্দ্রের জীবন ও মূল্যবোধের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।
প্রধান বক্তা বনমালী পণ্ডা বলেন, “আজ সমাজজুড়ে যে মূল্যবোধের অবক্ষয়, নারী নির্যাতন, দারিদ্র্য আর স্বার্থপরতার বিস্তার দেখা যাচ্ছে, তা কেবল সাহিত্য আর মনীষার আলো দিয়েই প্রতিহত করা সম্ভব। শরৎচন্দ্রের জীবন ও সাহিত্য আমাদের সেই আলো দেখায়।”
এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শরৎচন্দ্রের প্রপৌত্র জয় চট্টোপাধ্যায়, মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়, প্রবীণ চিকিৎসক বিশ্বনাথ পড়িয়া, বিভিন্ন এলাকার শিক্ষক ও অসংখ্য সাহিত্যপ্রেমী।
উদযাপনের সমাপ্তি ঘটে শরৎচন্দ্রের ছোটগল্প মেজদিদি-র নাট্যরূপ পরিবেশনের মাধ্যমে। মঞ্চের প্রতিটি দৃশ্য যেন দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলে; মুহূর্তের জন্য হলেও মানবতা, দয়া ও মূল্যবোধের আলো বাস্তবের অন্ধকারকে সরিয়ে দেয়।
উদযাপন কমিটির সম্পাদক অধ্যাপক ইমন কল্যাণ মিশ্র বলেন, “আজকের সমাজজীবনে মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়, অপসংস্কৃতির স্রোতে মনীষাদের সৃষ্টি বিস্মৃতির অন্তরালে চলে যাচ্ছে। অসহায় মানুষের হাহাকার, নারীর লাঞ্ছনা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, জাতপাতের গোঁড়ামি, সাম্প্রদায়িক হানাহানির বিষবাষ্প আকাশ-বাতাস ভারী করে তুলেছে। এই সর্বাত্মক সংকটের সময়ে মানবতাবাদী সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মনীষা ও সাহিত্যের যথাযথ চর্চাই আমাদের পথ দেখাতে পারে। তাই তাঁর ১৫০তম জন্মদিন যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে আমরা সেই আলোকে আরও একবার ছড়িয়ে দিতে চাই।”







