দলিল নকল করে ৪০০ একর জমি জালিয়াতি ঝাড়গ্রামে অভিযোগ, কলকাতার তিন সংস্থা হাতিয়েছে ৫০০ কৃষকের জমি
নতুন পয়গাম, ঝাড়গ্রাম,
১৭ সেপ্টেম্বর: ঝাড়গ্রাম জেলার সাঁকরাইল ব্লকের পাথরা গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন চারটি মৌজার ৫০০-রও বেশি গরিব মানুষের ৪০০ একর জমি হাতিয়ে নিয়েছে কলকাতার তিনটি সংস্থা। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগে জানা গিয়েছে, দলিল নকল করে রাতারাতি মালিকানা বদল করে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সিপিএম নেতাদের অভিযোগ, তৃণমূলের মদতপুষ্ট জমি মাফিয়াদের যোগসাজশে এই বিপুল পরিমাণ জমি দখল করে নিয়েছে কলকাতার তিনটি অসাধু সংস্থা। ঘটনার জেরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এইসব জমি ফেরতের দাবিতে ঝাড়গ্রাম জেলা ভূমি দপ্তরের সামনে জনরোষ আছড়ে পড়ে।
এর প্রতিকার চেয়ে জেলাশাসককে ডেপুটেশনও দিয়েছেন জমিহারা কৃষকরা। ৫০০-রও বেশি গরিব কৃষকের জমি এভাবে দখল হয়ে যাওয়ার চক্রান্তের পিছনে স্থানীয় তৃণমূল নেতা এবং ভূমি দপ্তরের একাংশের হাত থাকার অভিযোগ করেছেন জমিহারা কৃষকরা। রাজ্যে ভূমি দপ্তরের দায়িত্বে রয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। তাই বিক্ষোভকারীরা মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দেন। বর্গাদার ও পাট্টাদারদের উচ্ছেদ করে ৪০০ একরেরও বেশি জমি হাতিয়ে নেওয়া হলেও প্রশাসন কেন নির্বিকার, সে প্রশ্নও তোলেন কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্গাদারদের কয়েকজনকে মৃত দেখিয়ে তাদের ওয়ারিশ ছেলের নাম দিয়ে জমি বিক্রি করার নকল দলিল করা হয়েছে। চোখ কপালে তোলা এহেন তথ্য উঠে এসেছে ভূমি দপ্তরে সার্চিং করে। অনেক জীবিত জমির মালিককে যেমন মৃত দেখানো হয়েছে, তেমনই বহু বছর আগে মারা যাওয়া মানুষকে জীবিত দেখিয়ে তাঁরা নাকি জমি বিক্রি করেছেন। এমন নকল দলিলও সার্চ করে পাওয়া গিয়েছে। পঞ্চায়েত প্রধানের প্যাড, সই ও স্ট্যাম্প নকল করে ভুয়ো ওয়ারিশন সার্টিফিকেট নিয়ে এসব কর্মকান্ড সবার চোখে ধুলো দিয়ে করা হয়েছে বলেও শোনা যাচ্ছে।
মানিকঝাটিয়া, বাকরা, আঙারনালি, চুনপাড়া মৌজার ৫ শতাধিক পাট্টাদার, বর্গাদার-সহ চাষের জমি ও বাস্তু ভিটে মিলিয়ে ৪০০ একরেরও বেশি জমিজমা নকল দলিল করে বেহাত হয়ে যাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। তাই পুরো ঘটনার ঘটনার পুংখানুপুঙ্খ তদন্ত চেয়ে জেলা ভূমি দপ্তরে বিক্ষোভ হলে মঙ্গলবার হুলুস্থুল কাণ্ড বেধে যায়।
সার্চিং করে জানা গিয়েছে, ম্যাক্স ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সুজিত কুনগার, ইকো স্পেস ডিলট্রেড প্রাইভেট লিমিটেডের নামে জমি কেনার ভুয়ো দলিল করা হয়েছে। পঞ্চায়েতের তরফে ফেক ওয়ারিশন সার্টিফিকেটে কাউকে নাতি, কাউকে ভাইপো সাজিয়ে জীবিত মানুষকে মৃত, আবার মৃত মানুষকে জীবিত দেখিয়ে এসব জমি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। এমনকি ৭৫টি পরিবারের জমিও ওই তিন সংস্থার নামে মিউটেশন পর্যন্ত হয়ে গিয়েছে।
জমিহারা কৃষকদের দাবি, সব ভুয়ো দলিল বাতিল করে প্রকৃত মালিকদের কাছে জমি ফিরিয়ে দিতে হবে। দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। পাশাপাশি এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে জমি রেজিস্ট্রিকরণ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করতে হবে।
সারা ভারত কৃষকসভার জেলা সম্পাদক দিবাকর হাঁসদা বলেন, দলিল লেখক সঞ্জয় দাসের নামে সাঁকরাইল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একে ধরলেই মূল পান্ডাদের হদিশ পাওয়া যাবে। জেলা প্রশাসন ও ভূমি দপ্তরে বাস্তুঘুঘুর বাসা ভাঙতে এর শেষ না দেখে ছাড়ব না বলে হুমকি দেন দিবাকরবাবু।







