জলের দরেও নয়, বিপুল জমি মাত্র ১ টাকা লিজে বিহারে আদানিকে তোফা দিয়ে বিতর্কে কেন্দ্র সরকার
নতুন পয়গাম, পাটনা
১৬ সেপ্টেম্বর: জলের দরে বললেও কম বলা হয়। এক হাজার একর জমি মাত্র ১ টাকা বার্ষিক লিজে আদানি কোম্পানিকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে। পাওয়ার প্লান্ট তৈরির জন্য বিহারের ভাগলপুরে এই বিস্তীর্ণ এলাকার জমি কার্যত বিনে পয়সায় বন্ধুকে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। কয়েকশো কোটি টাকা দামের এই জমি কার্যত ফ্রিতে তুলে দেওয়া হচ্ছে পয়লা নম্বর কর্পোরেট বন্ধুকে। এই বিতর্কিত বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা পবন খেরা।
কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরা এদিন আরো অভিযোগ করেন, মাত্র ১ টাকা বার্ষিক লিজে ৩৩ বছরের জন্য এই জমি দেওয়া হচ্ছে। শুধু ১০৫০ একর জমিই নয়, ওইসব জমিতে থাকা আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, শাল, সেগুন ইত্যাদি মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার মূল্যবান গাছও মোদি তার কর্পোরেট বন্ধু আদানির হাতে তুলে দেওয়ার বন্দোবস্ত করেছেন। একরকম ফ্রিতে পাওয়া এই জমিতে গড়ে উঠবে পাওয়ার প্লান্ট বা বিদ্যুৎ কেন্দ্র। সেই বিদ্যুৎ বিহারবাসীকে বিক্রি করা হবে ৬ টাকা ৭৫ পয়সা প্রতি ইউনিট দরে। এই অভিযোগ করে পবন খেরা বলেন, এ তো ডাবল ইঞ্জিন সরকার নয়, এরা ডাবল ইঞ্জিন লুটের সরকার।
সামনেই বিহারে বিধানসভা ভোট, যাকে কেন্দ্র করে এসআইআর ইস্যুতে তোলপাড় হচ্ছে গোটা দেশ। এমতাবস্থায় কংগ্রেসের তরফে আনা মোদির বিরুদ্ধে এই জমি বিলির অভিযোগ বিহারের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যার পরিণতিতে বিহারে বিজেপি জোট বড় ধাক্কা খেতে পারে। অনেকে বলছেন, নির্বাচনে পরাজয় আঁচ করেই ভোটের আগে এভাবে ১০৫০ একর জমি পাইয়ে দেওয়া হল প্রধানমন্ত্রীর বন্ধুকে। কারণ, বিহারে পরবর্তী সরকারে যদি বিজেপি-জেডিইউ জোট ক্ষমতায় ফিরতে না পারে, তখন আর এটা করা সম্ভব হবে না।
কংগ্রেসের মিডিয়া ও আইটি সেলের নেতা পবন খেরা এদিন আরো বলেন, ভাগলপুরের বিস্তীর্ণ হাজার একর জমি মোদির যে কর্পোরেট বন্ধু আদানিকে দেওয়া হচ্ছে, তাঁর হাতেই এখন দেশের বেশিরভাগ বিমানবন্দর, সমুদ্র বন্দর, খনি ইত্যাদি তুলে দেওয়া হয়েছে। দেশে কি আর কোনও শিল্পগোষ্ঠী অথবা বিনিয়োগকারী নেই? কেন স্রেফ প্রধানমন্ত্রীর দুই বিশেষ বন্ধুকেই গত ১১ বছর ধরে যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে? গরিব মানুষদের জমি কেড়ে নিয়ে সেখানে ধনকুবেররা কেন ব্যবসা করবেন?
পবন খেরা এও বলেন, লিজের নামে ভাগলপুরে যে বিপুল পরিমাণ জমি দেওয়া হচ্ছে, সেখানে বিহারের বিখ্যাত গান্ধী ময়দানের মতো ১৬ টা মাঠ হয়ে যাবে। এই জায়গায় গড়ে উঠতে পারে অন্তত ২২৫ টা স্টেডিয়াম। ৭৭০ টি ফুটবল মাঠের সমান ওই জমি। কৃষকদের থেকে ওই জমি কেড়ে নিয়ে কেন তা মাত্র এক টাকায় দেওয়া হবে দেশের শীর্ষ ধনকুবের বন্ধুকে? জানা গিয়েছে, ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওই প্লান্ট তৈরি করতে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। পবনের কথায়, এ তো দিনের আলোয় ডাকাতি। বিহারে কংগ্রেস-আরজেডি জোট ক্ষমতায় এলে এই প্রকল্প বাতিল করা হবে বলেও হুমকি দেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা পবন খেরা।








