দুয়ারে ভোট, বিহারে বন্দর উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী
নতুন পয়গাম, পাটনা, ১৫ সেপ্টেম্বর:
বিহারে দুয়ারে ভোট। আর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই এই ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তাই বিজেপি থেকে কংগ্রেস সব দলই এখন বিহারকে পাখির চোখ করেছে। এসআইআর ইস্যুতে টানা ১৮দিন ধরে মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বিহারের প্রায় সব জেলা পরিক্রমা করেছেন রাহুল গান্ধী, তেজস্বী যাদবরা। এবার কলকাতা সফর সেরে বিহারের মাটিতে অবতরণ করল প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিমান। সোমবার বিহারের পূর্ণিয়ায় নতুন বিমানবন্দর উদ্বোধন করলেন নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে বিহারের জন্য ৩৫ হাজার কোটি টাকার বহুমুখী প্রকল্পের শিলান্যাস ও শুভ সূচনা করেন এদিন।
বিজেপির টার্গেট বিহারের সীমাঞ্চলে জেতা। সেজন্য পূর্ব বিহারের আরারিয়া, কিষানগঞ্জ, পূর্ণিয়া ও কাটিহার জেলাকে নিয়ে গড়ে ওঠা সীমাঞ্চলকে এবার পাখির চোখ করেছে। কারণ, এই অঞ্চল বিরোধী জোটের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি বলে পরিচিত। গত বছর ভোটে এখানকার চারটি লোকসভা আসনের মধ্যে দুটিতে কংগ্রেস জিতেছে। বিজেপি পেয়েছে একটি। আবার মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের জেডিইউ দলের গড় এই সীমাঞ্চল। কিন্তু বিতর্কিত ওয়াকফ সংশোধনী আইন এবং এসআইআর ইস্যুতে ওই অঞ্চলে জনসমর্থন কমেছে নীতীশ ও বিজেপির।
বিরোধীদের বক্তব্য, বিহারের এই অঞ্চলের মানুষ মূলত প্রান্তিক বা একেবারেই নিম্নবিত্ত। সেখানে পূর্ণিয়ায় বিমানবন্দর করে কাদের লাভ হবে? যদিও এই বন্দরের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। কারণ, বিহারের পূর্বাঞ্চল বা সীমাঞ্চলে কোনও বিমানবন্দর ছিল না। বিহারে দুটো বিমানবন্দর হল পাটনা ও গয়া। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, বিহারে মোদি ঘনিষ্ঠ দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীকে এর কাছাকাছি ১০৫০ একর জমি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এত বিপুল পরিমাণ জমি মাত্র ১ টাকায় বার্ষিক লিজে দিয়েছেন মোদি। সেখানে গড়ে উঠবে আদানি আম্বানিদের ২২ হাজার কোটি টাকার পাওয়ার প্লান্ট। তাদের যাতায়াতের সুবিধার জন্যই পূর্ণিয়ায় তড়িঘড়ি বিমানবন্দর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী।
জানা গিয়েছে, বিহারের সীমাঞ্চলের প্রধান কৃষিজ ফসল হল মাখানা ও ভুট্টা। বিজেপি এটাকে দেখিয়েই বলছে, আকাশপথে যোগাযোগের সুবিধা হওয়ায় এখানকার চাষিদের ফসল দেশের অন্যত্র পাঠানো সহজ হবে, এতে পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে। যদিও বিরোধীদের অভিযোগ, এসব কেবল ভাঁওতা বা জুমলা। গরিব মানুষেরা বিমানবন্দর চায় না, তারা কখনো বিমানে চড়ার স্বপ্নও দেখে না। কারণ, তাদের সমস্যা হল রোটি-কাপড়া-মাকান। ভোট এলেই এমনসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। ভোট পেরিয়ে গেলে জানা যায় সবটাই জুমলা। তখন আর মোদির দেখা মেলে না।








