রাষ্ট্রসংঘে ‘নিউইয়র্ক রেজোলিউশন’: ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন হবে, নাকি পুরোটাই মরিচিকা?
আসাদ আলি
শনিবার ১৩ সেপ্টেম্বর দৈনিক ‘নতুন পয়গাম’ সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর ‘স্বাধীন ফিলিস্তিন: ফের প্রস্তাব পাস রাষ্ট্রসংঘে’। এই সংবাদে জানা যায়, রাষ্ট্রসংঘে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে রেজোলিউশন বা প্রস্তাব পাশ হয়েছে। অনেকেই তা নিয়ে খুব উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। হাততালি পড়ছে। স্বাভাবিক। মিডিয়াও ফলাও করে দারুন চমকপ্রদ হেডলাইন দিচ্ছে। শোনার পর মনে হয়, বাহ! এতদিনে বোধহয় ন্যায়বিচার এল বলে! কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন।
১৯৪৭ সালের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পাশ হয়েছিল UN Partition Plan – দুটি রাষ্ট্রের পরিকল্পনা। যার ফলাফল ছিল ‘নাকাবা’। লাখো ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তু হয়, অবৈধ ইসরাইল রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এরপর ১৯৬৭, ১৯৭৩-সহ বহুবার রাষ্ট্রসংঘে রেজোলিউশন গৃহীত বা পাস হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের বড় সদস্য দেশগুলো বলল, ইসরাইল যেন জবরদখল করা ফিলিস্তিনি ভূমি ছেড়ে দেয়। কিন্তু, আজও কি তারা ছেড়েছে? না। বরং আরও গিলে খাচ্ছে ওয়েস্ট ব্যাংক, চারিদিক থেকে ঘিরে অবরুদ্ধ করে ফেলেছে গাজা উপত্যকাকে। ২০০৭ সাল থেকে দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে গাজাকে অবরোধ করে রেখেছে ইসরাইল, আর এখন ঘোষণা দিয়ে গাজা দখল করতে কোমর বেঁধে লেগেছে।
এবারের রেজোলিউশনও একদম একই খেলা। রাষ্ট্রসংঘের জেনারেল অ্যাসেম্বলি বা সাধারণ সভার ৮০তম বার্ষিক অধিবেশনে এই প্রস্তাবের পক্ষে ১৪০ দেশ ‘হ্যাঁ’ বলল। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদে পৌঁছালে? যায়োনিস্ট রেজিমের পিতা ‘মার্কিন ভেটো’ নামক হাতুড়ি দিয়ে সব গুঁড়িয়ে দেবে। একতরফাভাবে এতগুলো দেশের মতামত খারিজ হয়ে যাবে — এটাই রাষ্ট্রসংঘের বাস্তবতা। করুণ না? হাস্যকর না?
ভাবুন তো একবার, ইসরাইল ঘোষণা দিচ্ছে, ‘আমরা গাজা দখল করছি’। ওদিকে নিউইয়র্কে করতালি পড়ছে, ‘আমরা একটি রেজোলিউশন পাস করেছি!’ এটা অনেকটা এরকম যেন, আপনার ঘরে ডাকাত ঢুকেছে, সব নিয়ে পালাচ্ছে। আর আপনি বাইরে দাঁড়িয়ে প্রতিবেশীকে বলছেন, ‘চিন্তা করবেন না, আমি থানায় চিঠি পাঠিয়েছি।’ তার মধ্যে ডাকাতদল আপনার বাড়ির ফ্রিজটাও নিয়ে চম্পট দিল। আর আপনি ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে কয়েক ঘণ্টা বসে রইলেন।
আসলে ফিলিস্তিনিরা এই রেজোলিউশন পাশে কি আদৌ কিছু পেল? বা কিছু পাবে? উত্তর হল না, তারা না পাবে রাষ্ট্র, না পাবে নিরাপত্তা। তাদের প্রতিদিনের জীবন এখনও চেকপোস্ট, প্রাচীর, সেটলারদের হামলা, ড্রোন আর এয়ার স্ট্রাইকের নীচেই ধুঁকে ধুঁকে শেষ হবে। রাষ্ট্রসংঘের এই রেজোলিউশন হল আসলে মরিচিকা। দূর থেকে জলের মতো চকচক করে। কাছাকাছি গেলে দেখা যায় শুধুই ধূ ধূ শূন্য মরুভূমি। অতএব, বাস্তবতা বুঝুন। লাফান কম, উল্লাস কম করুন। ইসরাইল কিছুই মানবে না। ‘মার্কিন ভেটো’ সবকিছু খারিজ করে দেবে। আর একটা কথা হল, রাষ্ট্রসংঘের কাগজ গাজা-যুদ্ধ থামাবে না। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র শুধু সংগ্রামের ভেতরেই বেঁচে থাকতে চেষ্টা করবে। কোনো কনফারেন্স রুমের হাততালি এই বাস্তবতা বদলাতে পারবে না।
ঘিদাহ, নীলগঞ্জ বাজার, ব্যারাকপুর, উত্তর ২৪ পরগণা








