শান্তি ফেরানোর দাবি মোদির
নতুন পয়গাম, ইম্ফল, ১৩ সেপ্টেম্বর:
মণিপুরে ২০২৩ সালের ৩ মে থেকে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা। তারপর দেখতে দেখতে দীর্ঘ ২৭ মাস হয়ে গিয়েছে। কুকি বনাম মেইতেই জনগোষ্ঠীর মধ্যে চলা জাতিদাঙ্গা আজো পুরোপুরি থামেনি। ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, হিংসা, প্রাণহানিতে মণিপুরে এখনও ছাইচাপা আগুন ধিকিধিকি জ্বলেছে। ইতিমধ্যেই অন্তত ২৬০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এখনও কয়েক হাজার মানুষ ঘরছাড়া বলে অভিযোগ।
নারী নির্যাতন থেকে শুরু করে ধর্ষণ করে প্রকাশ্য রাস্তায় নগ্ন করে ধর্ষিতা মহিলাদের ঘোরানো হয়েছে। এসব দেখে শিউরে উঠেছে গোটা দেশ তথা বিশ্ব। এমতাবস্থায় অবশেষে শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মণিপুর সফরে গেলেন। সেখানে গিয়ে দাবি করলেন, ‘অশান্তির আগুন আমরাই নিভিয়েছি। মণিপুরে আমরাই শান্তি ফিরিয়েছি। মণিপুর নামের সঙ্গে মণি শব্দ আছে। যার মানে হল রত্ন। উত্তর-পূর্ব ভারতের মাথার উজ্জ্বল মণি হবে মণিপুর।’ যদিও ২০২৩ সালের মে মাস থেকে চলমান নৃশংসতা ও রক্তক্ষয়ী জাতিদাঙ্গা কিংবা এত মানুষের প্রাণহানি নিয়ে দুঃখ প্রকাশের মতো কিছু শোনা যায়নি তাঁর মুখে।
সংঘর্ষের অন্যতম কেন্দ্র চূড়াচাঁদপুরের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী দাবি করলেন, ‘অতীতে উত্তর-পূর্ব ভারত ছিল অশান্ত এবং হিংসায় পরিপূর্ণ। গত ১১ বছরে আমরা মণিপুরের সব রকমের সংঘাত ও সমস্যা দূর করে শান্তি ফিরিয়ে এনেছি। আমরা মণিপুরকে শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীকে পরিণত করেছি। মণিপুরের উন্নয়নে আমরা যা করেছি, স্বাধীনতার পর থেকে আর কোনও সরকার করেনি।’ এদিন কুকি জনজাতি অধ্যুষিত চূড়াচাঁদপুর গিয়ে গৃহহীনদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি জানান, ‘ গৃহহীনদের জন্য আমরা ৭ হাজার পাকা বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছি।’ ৫০০ কোটি টাকা এজন্য বরাদ্দ করেছে তাঁর সরকার। এছাড়াও দেওয়া হবে স্পেশাল ৩ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ। কিন্তু এতদিনেও এসব কেন করা হয়নি? আজ কেন গালভরা ঘোষণা করা হচ্ছে? কবে এসব বাস্তবায়িত হবে, তা কেউ জানে না। সে প্রশ্নের জবাব দিতে পারেনি গেরুয়া শিবির।
এদিন প্রথমে চূড়াচাঁদপুর এবং তারপর মেইতেই প্রভাবিত ইম্ফলে যান মোদি। বলেন, পাহাড় এবং উপত্যকাকে শান্তির বন্ধনে যুক্ত করতে হবে। শান্তি ফেরাতে আমি এবং আমার সরকার সবরকম সহায়তা করে যাব। আরো বলেন, আজ খুব বৃষ্টি হচ্ছিল। তাই আমার হেলিকপ্টার উড়তে পারেনি। পরমাত্মার হয়ত এটাই ইচ্ছা ছিল। তাই আমি সড়কপথে আপনাদের কাছে এসেছি। আপনারা যেভাবে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে রাস্তার দু-পাশে দাঁড়িয়ে আমাকে স্বাগত জানিয়েছে, তাতে আমি আপ্লুত।








