ওষুধে জিএসটি বাতিল করে দাম কমাতে হবে: সেলিম
নতুন পয়গাম, বহরমপুর, ১২ সেপ্টেম্বর:
ওষুধের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি বন্ধ করতে হবে। বন্ধ করতে হবে ওষুধ বিপণন কর্মীদের উপর শোষণ। সর্বোপরি ওষুধের উপর থেকে জিএসটি পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে। শুক্রবার বহরমপুরে জনসভায় এই দাবিতে সরব হন সিপিআই (এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। এদিন ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল অ্যান্ড সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভস ইউনিয়ন’-এর ২০তম রাজ্য সম্মেলন ও প্রকাশ্য সমাবেশ হয় বহরমপুরে। সেখানে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি শুভ্রাংশু ভট্টাচার্য, অভ্যর্থনা সমিতির পক্ষে সুপ্রিয় চন্দ্র-সহ নেতৃবৃন্দ।
মাত্র ক’দিন আগেই জিএসটি হারে রদবদল করেছে কেন্দ্র। জীবনদায়ী কয়েকটি ওষুধের ওপর কর শূন্য করেছে জিএসটি কাউন্সিল। কিন্তু আগে থেকেই বহু ওষুধের ওপর চাপানো রয়েছে জিএসটি। ফলে ওষুধের দাম চড়েই রয়েছে। এদিন ওষুধের ওপর জিএসটি চাপানোর তীব্র বিরোধিতা করে ওষুধের দাম কমানোর দাবিতে সরব হন সেলিম। তিনি আরো বলেন, “স্বাস্থ্য পরিষেবা খাত, হসপাতাল ও চিকিকিৎসকদের আন্দোলনের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা এবং শিল্পায়নের আন্দোলন, শ্রমজীবী মানুষের লড়াইকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। রাজ্য তথা দেশকে বাঁচাতে বামপন্থীদের পুনর্জাগরণ ও পুনর্নিমাণের প্রয়োজন।
মহম্মদ সেলিমের কথায়, “যখন থেকে জিএসটি লাগু হয়েছে, তখন থেকেই মেডিক্যাল সেলস রিপ্রেজেন্টিটিভরা প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন। শুধু ওষুধ নয়। স্বাস্থ্য বীমা, জীবন বীমার উপরেও জিএসটি চাপানো হয়েছিল। উল্লেখ্য, এখন বহু দাবি-দাওয়া ও আন্দোলনের পর বিমা থেকে জিএসটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্র সরকার। সেলিম আরো বলেন, বামপন্থীরা মনে করে রুটি-রুজি ও শিক্ষার মতো স্বাস্থ্যও প্রাথমিক ও মৌলিক অধিকার। স্বাস্থ্যকে অধিকার হিসেবে মেনে নিতে হবে। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বাস্থ্যের অধিকারের বাস্তব রূপায়ণ দেখা গিয়েছে। আর পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় দেখা গিয়েছে স্বাস্থ্য নীতি মানুষ মারার নীতি হয়ে গিয়েছে। মুনাফার পাহাড় জমেছে।
তাঁর কথায়, মানুষের জীবন নিয়ে স্বাস্থ্য ব্যবসার নমে ছিনিমিনি খেলা ও মুনাফার পাহাড় গড়া কাম্য নয়। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সবকিছুর ওপর থেকে জিএসটি বা কর প্রত্যাহার করতে হবে। গত ৯ জুলাই দেশজুড়ে কোটি কোটি খেটে খাওয়া মানুষ লুটেরাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছিলেন। সব মিডিয়ায় যখন হিন্দু-মুসলিম, ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ দেখানো হচ্ছিল, তখনই খেটে খাওয়া মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে মেডিক্যাল সেলস কর্মীরা সত্যিকার লড়াই লড়েন। বেঁচে থাকার অধিকার, বেকারদের করমসংস্থান ও কাজের নিরাপত্তার দাবিতে রাস্তায় লড়াই করেছেন বামপন্থীরা।
এদিনের প্রকাশ্য সমাবেশে সেলিম বলেন, “মানুষের রাস্তার লড়াই, কোটি কোটি মানুষের ধর্মঘট সরকারকে জিএসটি কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। যেমন কৃষকদের আপসহীন লড়াই কেন্দ্র সরকারকে বাধ্য করেছিল কৃষি আইন বা কালাকানুন প্রত্যাহার করতে। স্মার্ট মিটারের বিরুদ্ধে তীব্র লড়াইয়ের ফলে সরকার বলতে বাধ্য হয়েছে, এখন স্মার্ট মিটার লাগানো হবে না।
তাই সব অংশের শ্রমজীবী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। বিভিন্ন লড়াইকে এক সূত্রে গাঁথতে হবে। স্কুল-কলেজ ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার অধিকারকে সংকুচিত করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সবাইকে লড়তে হবে বলে মন্তব্য করেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক।








