শারদীয়ার প্রাক্কালে জীবন্ত দুর্গাদের দেখা মিললো বাঁকুড়ার ইন্দাসে
তৌসিফ আহম্মেদ
নতুন পয়গাম, ইন্দাস, বাঁকুড়া:
বাঁকুড়া জেলার ইন্দাস ব্লকের প্রত্যন্ত একটি গ্রাম সাহসপুর দাসপাড়া । এখানে লতা, অনিমা, অসীমা সহ মোট ১০ জন দশভূজাদের বসবাস। তাদের দশভুজা বলার একটাই কারণ এই মহিলারা বাড়ির পুরুষদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংসার চালানোর জন্য একটি ঢাকির দল তৈরি করে ফেলেছেন। এই মহিলা ঢাকী টিমের সদস্যরা সকালে ঘুম থেকে উঠে সংসারের যাবতীয় কাজ যেমন উঠোনে ঝাড়ু দেওয়া, রান্না করা, বাসন মাজা, ছেলেমেয়েদের বই পড়ানো তাদের চুল বেঁধে দেওয়া, পরিবারের সদস্যদের খেতে দেওয়া সমস্ত কাজ তাদের করতে হয়। এরপর একটু বেলা হলেই সংসারের খরচ চালানোর জন্য অন্যের জমিতে শ্রমিকের কাজ করে তারা। সারা বছরটা তাদের এভাবে চললেও তারা অধীর আগ্রহে বসে থাকে দুর্গাপূজার জন্য। কারণ দুর্গাপূজায় তাদের এই মহিলা ঢাকী টিমের বায়না হয় দূর-দূরান্তে। সেখানে একটানা বেশ কয়েকদিন ঢাক বাজিয়ে মোটা টাকা ইনকাম করে এই মহিলা ঢাকী টিমের সদস্যরা। সেই টাকা তারা বাড়ির পুরুষদের হাতে তুলে দেয় সংসার চালানোর জন্য। তাই দূর্গা পূজার প্রাক্কালে সকাল সন্ধ্যা সাহসপুর দাসপাড়ায় কান পাতলে শোনা যায় ঢাকের শব্দ। কারণ পুজোর আগে এই মহিলা ঢাকি টিম প্রায় প্রতিদিনই মহড়া দিয়ে চলেছে। চলছে ঢাক মোছার কাজ, যাতে পুজোয় কোন বিঘ্ন না ঘটে। ঢাক বাজানোর পাশাপাশি রয়েছে ঢাকের সাথে বিভিন্ন ধরনের বিনোদনের খেলা। এই মহিলা ঢাকী টিমের ঢাক বাজানোর উপস্থাপন আপনারও মন ভরাবে। কখনো ঢাকের ওপর চড়ে মাথায় ঢাক নিয়ে ঢাক বাজাচ্ছে। আবার কখনো মুখে কামড়ে ধরে ঢাকের তাল তুলছে। এমনকি এক মহিলা একসঙ্গে বেশ কয়েকটি ঢাক নিয়েও বাজিয়ে চলেছে।
তবে এই মহিলা ঢাকীদের এই সঙ্ঘবদ্ধ দল তৈরি করার পেছনে রয়েছে জেদ এবং বেদনাদায়ক ঘটনা। মহিলা ঢাকীদের দাবি কিছু বছর পূর্বে গ্রামের এক অনুষ্ঠানে বাইরে থেকে ঢাক বাজাতে আসে কিছু মহিলা। যাবে তখন গ্রামেরই এক ভাবেন বাইরের মহিলারা ঢাক বাজিয়ে টাকা নিয়ে গেলে তার গ্রামের মহিলারা কেন ঢাক বাজাতে পারবে না। শুরু হয় মহিলা জোগাড়ের কাজ। পরিবারের সম্মতি পেয়ে দাস পাড়ার লতা, অনিমা, অসীমা সহ মোট ১০ জন মহিলা ও পাঁচজন পুরুষ মিলে তৈরি হয় একটি মহিলা ঢাকির টিম। গ্রামের লোক অবশ্য মহিলা ঢাকির এই টিমটিকে ভালো চোখে দেখেনি কেউ। গ্রামে ঢাক বাজাতেও বাধা দিত তাদের। অনেক বাধা বিপত্তি আসলেও সমস্ত বাধা বিপত্তি কাটিয়ে ওঠে আড়ালে আবডালে ঢাক বাজিয়ে তারা আজ পারদর্শী। এখন তাদের ঢাক বাজানোর দক্ষতা দেখে মুগ্ধ সমগ্র ইন্দাসবাসী। এখন তাদের দূরদূরান্ত থেকে বায়না আসে। এবারের দূর্গা পুজোতেও এই মহিলা ঢাকির টিম ঢাক বাজাতে যাবে ইন্দাস থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূর নৈহাটিতে।







