বিধানসভায় নেতিবাচক রেকর্ড শুভেন্দুর সাড়ে চার বছরে একটাও প্রশ্ন করেননি বিরোধী দলনেতা
নতুন পয়গাম, কলকাতা, ১০ সেপ্টেম্বর: রাজ্য বিধানসভায় নেতিবাচক ও নজিরবিহীন রেকর্ড করেছেন বিরোধী দলনেতা। বিধানসভার রেকর্ড বা পুরনো নথিপত্র থেকে জানা গিয়েছে, গত সাড়ে চার বছরে কোনো অধিবেশনে কোনো বিষয়ে একটিও প্রশ্ন করেননি শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য সরকারের নীতি, কাজকর্ম থেকে শুরু করে সরকারের ব্যর্থতা কিংবা কোনও মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, শাসকদল অথবা সরকারি পরিষেবা নিয়েও কোনো প্রশ্ন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে করেননি তিনি। তাঁর নেতৃত্বে কেবলই হইচই বা হট্টগোল হয়েছে গত সাড়ে চার বছর ধরে। তৃণমূলের এক মন্ত্রীর ভাষায়, প্রধান বিরোধীদল বিধানসভায় গঠনমূলক ভূমিকা নেয়নি। কারণ, জনগণের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। জনগণের ভোটে নির্বাচনে জিতে বিধানসভায় এসে জনগণের প্রতিনিধিত্ব না করে এরা কেবল হাঙ্গামা করে। এটাই এদের আসল ছবি। বিরোধী দলনেতা হিসেবে এটাই শুভেন্দু অধিকারীর অবদান!
বিধানসভার সরকারি নথিতেই এই তথ্য পাওয়া গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনগণের স্বার্থে, জনতার ভোটে নির্বাচিত হয়ে গণতন্ত্রের পীঠস্থানে যাবেন বিরোধী জনপ্রতিনিধিরা। সেখানে দাঁড়িয়েই সরকার পক্ষকে প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করবেন, সরকারের ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে সরকারপক্ষকে সমঝে দেবেন, সরকারের নীতি ও কাজকর্ম এবং ব্যর্থতা তুলে ধরবেন – এটাই দায়িত্বশীল বিরোধীদের ভূমিকা হওয়া উচিত। কিন্তু গত সাড়ে চার বছরে সেসবের ধারেকাছেও যাননি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। ২০২১ সাল থেকে বিধানসভায় শুভেন্দুর নেতৃত্বে তার দলের বিধায়করা কেবলই হট্টগোল বা গোলমাল পাকিয়ে সংবাদের শিরোনামে এসেছেন।
এও জানা গিয়েছে যে, বিরোধী দলনেতা কোনওদিন বিধানসভার প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেননি, বা নিজে কোনো প্রশ্ন করেননি। তবে হ্যাঁ, বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্ক, মুলতুবি প্রস্তাব এবং উল্লেখ পর্বে তিনি সর্বদা অতিসক্রিয় ছিলেন। চলতি বিধানসভায় বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ছিল ৭৭। গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকজন দল বদল করে ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখানোয় বিজেপির বিধায়ক কমে হয়েছে ৬৫। সিপিএমের প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, এই প্রবণতা অত্যন্ত দুভার্গ্যজনক। আমরা সব সময়ই বলে আসছি, তৃণমূল-বিজেপির বোঝাপড়া রয়েছে। যিনি নিজে একাধিক দুর্নীতিতে অভিযুক্ত, তিনি বিধানসভায় শাসক দলকে প্রশ্নবাণে জেরবার করতে পারবেন না। পাছে নিজে অস্বস্তিতে পড়েন!’
অন্যদিকে, বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নিয়ে কম কথা বলাই শ্রেয়।’ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম অভিযোগ করেন, ‘শুভেন্দুবাবু বিধানসভার ভিতরে সস্তা ও চমকের রাজনীতি আর হাঙ্গামায় বিশ্বাসী। অথচ সরকার পক্ষের বিরুদ্ধে গঠনমূলক সমালোচনা করাই বিরোধী দলনেতার ভূমিকা হওয়া উচিত। কিন্তু উনি স্রেফ কুৎসা ও নিম্ন রুচির ব্যক্তি আক্রমণ করেই প্রচারে থাকতে বেশি আগ্রহী।’ রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এ বিষয়ে বলেন, ‘২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২১ সালে আক্ষরিক অর্থে প্রার্থী একজনই ছিলেন। সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে বিরোধী দলনেতার কাছেই পরাজিত হয়েছিলেন। তাই বিধানসভার ভিতরে বিরোধী দলনেতা তার প্রাপ্য সম্মান পাননি। তাঁকে পাঁচবার সাসপেন্ড করা হয়েছে।’








