মোদি-শাহের কেন্দ্রেও ভোট চুরি? তথ্য সংগ্রহে কংগ্রেস
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি, ৯ সেপ্টেম্বর: গত সপ্তাহে গুজরাটের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অমিত চাভদা নথিপত্র তুলে ধরে বিজেপির ভোট চুরির তথ্য পরিসংখ্যান দিয়েছিলেন। এবার সেই অভিযোগকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর লোকসভা কেন্দ্রে কীভাবে ভোট চুরি হয়েছিল, সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করছে কংগ্রেস। মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, বিহার, উত্তর প্রদেশ সহ বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে কীভাবে ‘চুপি চুপি কারচুপি’ করে গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ও তাদের জোট সঙ্গীরা জয় পেয়েছে, সে সম্পর্কে ইতিমধ্যেই অ্যাটম বোমা ফাটিয়েছেন কংগ্রেসের অন্যতম শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী। এবার তিনি অন্যান্য রাজ্যে ‘হাইড্রোজেন বোমা’ ফাটানোর হুমকি দিয়েছেন।
ভোট চুরির অভিযোগ নিয়ে রাহুল বিজেপি দল তথা মোদি সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে একযোগে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। কমিশনকে বিজেপি-র বি-টিম বলে অভিযুক্ত করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এসব ভোট চুরির বিস্ফোরক প্রমাণ সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন রাহুলের অভিযোগের কোন তদন্ত করেনি। উল্টে রাহুলের মুখ বন্ধ করতে তাকেই হলফনামা জমা দিয়ে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার রাহুলের চোখ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লোকসভা কেন্দ্র উত্তর প্রদেশের বারাণসী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের লোকসভা কেন্দ্র গুজরাটের গান্ধীনগর।
এবার এই দুই হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে ভুয়ো ভোটার ধরতে দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন রাহুল। সেই নির্দেশ মতো দলের এক্সপার্ট টিম কাজ করছে। সেই কাজ শেষ হলে বারাণসী এবং গান্ধীনগর নিয়ে হাইড্রোজেন বোমা ফাটাবেন ‘পাপ্পু’ রাহুল।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বারাণসীতে ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। কংগ্রেসের অজয় রাইকে ৫ লক্ষ ২২ হাজার ১১৬ ভোটে হারিয়ে জয়ী হন তিনি। কিন্তু সর্বশেষ ২০২৪-এর ভোটে সেই ব্যবধান ৪ গুণ কমে হয় ১ লক্ষ ৫২ হাজার ৫১৩। অতএব কংগ্রেসের অনুমান, নিশ্চিত বারাণসীতে মোদির জয়ের পিছনেও ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। সেই রহস্য উদঘাটনে এবার নির্বাচন কমিশনের নথি, ভোটার তালিকা দেখে তথ্য বিশ্লেষণের কাজ শুরু করেছে কংগ্রেস।
তবে মোদি-শাহের কেন্দ্রকে পাখির চোখ করার পাশাপাশি দেশজুড়ে ‘স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন’ বা এসআইআর হলে কীভাবে আসল ভোটাদাতাদের নাম যাতে বাদ না পড়ে, দলীয় স্তরে সেই প্রশিক্ষণও শুরু করেছে কংগ্রেস। ইতিমধ্যেই ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিশেষ সমীক্ষার কাজ করছে কংগ্রেস কর্মীরা।








