রাজ্যে ইডি-র চিরুনি তল্লাশি
নতুন পয়গাম, কলকাতা, ৯ সেপ্টেম্বর:
বালি খাদান কেলেঙ্কারি ও বেআইনি বালি পাচারের তদন্তে রাজ্যজুড়ে চিরুনি তল্লাশি চালাল ইডি। কয়লা ও গরু পাচারের তদন্ত ইতিমধ্যেই চার্জ গঠন হয়েছে, বিচার পর্ব বাকি। সিপিএম-এর অভিযোগ, এসব আইওয়াশ মাত্র। দিনি-মোদি সব সেটিং আছে। ইডি, সিবিআই-রা তদন্তের শিকড়ে যাচ্ছে না। মাথা সুরক্ষিত রেখে কানের আশপাশেই ঘুরেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলো।
জানা গিয়েছে, সোমবার ভোর থেকে রাজ্যের ২২টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযান ও জেরা করে ইডির অফিসাররা। ইদানীংকালে একদিনে রাজ্যজুড়ে এমন অভিযান হয়নি। বেহালা থেকে রিজেন্ট কলোনি, সল্টলেক থেকে নিউটাউন, কল্যাণী থেকে মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম থেকে বাঁকুড়া – সোম ও মঙ্গলবার একযোগে চলে তল্লাশি এবং জেরা।
সূত্রের খবর, এই তল্লাশি অভিযানের ভরকেন্দ্রে রয়েছে জিডি মাইনিং প্রাইভেট লিমিটেড। ২০১১ সালে এই কোম্পানি তৈরি হয়। ধীমান চক্রবর্তী ও মনস্বীতা ঘোষ বর্তমানে বোর্ড অব ডিরেক্টরসে রয়েছে। বালি কারবারিদের অন্যতম মুখ অরুণ সরাফ আগে এই সংস্থার ডিরক্টর ছিলেন। এছাড়াও অরুণ সরাফ আরও ১৫টি সংস্থাটির ডিরেক্টর পদে রয়েছেন। এইসব সংস্থাই তৈরি হয়েছে ২০১১-র পর তৃণমূল আমলে। ইডি-র দাবি, মূলত টেন্ডারে বেনিময়, বালি ঘাট থেকে বালি তুলে পাচার, ভুয়ো প্যাড ব্যবহার করে বিপুল অংকের রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগের তদন্তে তারা এই অভিযান চালাচ্ছে। তবে এই পাচার চক্রের শিকড় অনেক গভীরে। কোটি কোটি টাকার কারবার। কয়েকশো ভুয়ো ও শিখণ্ডী সংস্থা খুলে টাকা পাচারের সিন্ডিকেটও চলছে রমরমিয়ে। হাওলার মাধ্যমেও বালি পাচারের টাকায় কয়লা-গোরুর মডেলেই বিদেশে পাচার হয়েছে।
ইডি সূত্রে জানা গেছে, বালি পাচার চক্রের সঙ্গে সরকারি যোগসাজশও রয়েছে। ওয়েস্ট বেঙ্গল মিনারেল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেড এর ভূমিকাও সন্দেহজনক। পরিকল্পতিভাবে ভুয়ো টেন্ডারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু সংস্থার হাতে বালি পাচারের কারবার তুলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। সরকারি নজরদারির পরিবর্তে আনা হয়েছে বেসরকারি হস্তক্ষেপ। রাজস্বে ঘাটতি হচ্ছে জেনেও কীভাবে এবং কেন চলছে এই কারবার? সে প্রশ্ন তুলেছেন ইডি কর্তারা। কেলেঘাই-সুবর্ণরেখা থেকে দামোদর-অজয়ের বালিঘাট, নদীর পাড় দেখলেই বোঝা যায় বালি পাচারের পরিনাম কী ভয়াবহ আকার নিয়েছে? একাধিক জায়গায় রাত পর্যন্ত অভিযান চলছে। তবে কী কী বাজেয়াপ্ত হয়েছে, তা জানায়নি ইডি।








