নেপালে ১৭ বছরে ১৩ বার সরকার বদল
নতুন পয়গাম, ৯ সেপ্টেম্বর:
আবারও রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে হিমালয়-কন্যা নেপাল। টানা দুই দিনের জেন-জি আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে অন্তত ২৩ জন নিহত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কার, সিরিয়ার পর এবার একইধাঁচে নেপালেও নতুন সরকার গঠনের তোড়জোর শুরু হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৭ বছরে দেশটিতে ১৩ বার সরকার বদল হয়েছে।
নেপালের চলমান এই অস্থিরতা গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে সহিংস আকার নিয়েছে। এমনকি ২০০৬ সালের গণআন্দোলনের চেয়েও ভয়াবহ, যখন জনগণের তীব্র বিক্ষোভে নেপালের শেষ রাজা জ্ঞানেন্দ্র ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। সেই আন্দোলনে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছিলেন। এর দুই বছর পর ২০০৮ সালে পার্লামেন্ট ভোটে নেপালের রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হয় এবং নতুন প্রজাতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়। তবে প্রজাতন্ত্র ঘোষণার পরেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসেনি দেশটিতে। ২০০৮ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত গত ১৭ বছরে ১৩ বার সরকার বদলেছে। ফলে জনগণের মধ্যে হতাশা ক্রমেই বাড়ছে।
ভারতের নিকটতম পর্বতবেষ্ঠিত এই প্রতিবেশী দেশটির আম জনতা ভেবেছিল, রাজতন্ত্রের অবসানে প্রজাতন্ত্র চালু হলে দেশে স্থিতিশীলতা আসবে। কিন্তু দেড় দশক পরেও দেখা যায়, শুধু দুর্নীতি, দলবাজি আর ক্ষমতার লড়াই বেড়েছে। তাই আবার রাজতন্ত্র ফেরানোর দাবিতে মাঝেমধ্যে আন্দোলনও চলছে। চলতি বছরের মার্চে রাজধানী কাঠমান্ডুতে রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে দু-জন নিহত হন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী ওলি শর্মা পদত্যাগ করলেও রাজনৈতিক সমাধান এতটা সহজ নয়। বিক্ষোভকারীরা সরকারের বিলুপ্তি দাবি করে রাজতন্ত্র পুনর্বহালের দাবিতে অনড় থাকলে দেশটিকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে। দ্রুত নতুন নেতৃত্ব ও কার্যকর রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে নেপাল আবারও দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতার মুখে পড়তে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।








