নেপালে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে কে?
নতুন পয়গাম, কাঠমান্ডু, ৯ সেপ্টেম্বর:
নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালানোর পরই নতুন অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর নাম নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ। ইতিমধ্যেই ৩৫ বছর বয়সি এই যুবনেতাকে প্রধানমন্ত্রী করার দাবি ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
বালেন্দ্র শাহ পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। একই সঙ্গে তিনি একজন র্যা পার, গীতিকার, কবি ও রাজনীতিক। ২০২২ সালের নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হন। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি নেপালের হিপহপ ঘরানার সংগীতশিল্পী হিসেবে জনপ্রিয় ছিলেন। রাজনীতিতে এসে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন।
জেন-জি প্রজন্মের চলমান বিক্ষোভ আন্দোলনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন মেয়র বালেন্দ্র শাহ। পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সরকার পদত্যাগ করেছে, আপনাদের দাবি অনেকটা পূরণ হয়েছে। এখন সংযত হওয়ার সময়। দেশের সম্পদ নষ্ট হওয়া মানে আমাদেরই ক্ষতি। নতুন প্রজন্মের দায়িত্ব নেপালের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠন করা।
প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পর দেশজুড়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব কে দেবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আস্থাহীন তরুণ প্রজন্ম এখন বিকল্প নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে বালেন্দ্র শাহকে সামনে আনছে।
এমন প্রশ্নও উঠছে যে, বাংলাদেশের মতো অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে, নাকি সংসদ ভেঙে দিয়ে রাষ্ট্রপতির তদারিকে ভোটে যাবে নেপাল! অধিকাংশ মন্ত্রী ইস্তফা দিলেও গাঢাকা দিয়ে রয়েছেন। বিরোধী দলের সাংসদরাও গণইস্তফা দেন মঙ্গলবার। দুই বিরোধী দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (২০ জন) ও রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির (৪২ জন) সমস্ত এমপি পদত্যাগ করেছেন। এই অবস্থায় সংসদ ভেঙে দেওয়া ছাড়া রাষ্ট্রপতির সামনে বিকল্প নেই।
মঙ্গলবার দুপুরে অভ্যুত্থানকারীরা রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির সভাপতি রবি লামিছানে-কে জেল ভেঙে মুক্ত করে আনে। তাঁকে মিথ্যা দুর্নীতির অভিযোগে জেলে পাঠিয়েছিল বিদায়ী সরকার। এখন বালেন্দ্র শাহের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সদ্য জেলমুক্ত রবি লামিছানের নামও উঠে আসছে।








