ভাঙড়ে শাসকদলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তীব্র আরাবুল ইসলাম বনাম সওকত মোল্লা
নতুন পয়গাম, ভাঙড়:
ভাঙড়ে ফের প্রকাশ্যে এল শাসকদলের অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। বহুদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের এই এলাকায় প্রভাবশালী দুই নেতা—আরাবুল ইসলাম ও সওকত মোল্লা—একই দলের হলেও একে অপরের বিরোধী শিবিরে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি সংঘর্ষ তীব্র হয়ে ওঠায় পরিস্থিতি নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
আরাবুল ইসলামের অভিযোগ, সওকত মোল্লা ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা সাধারণ তৃণমূল কর্মীদের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, “সিপিএমের হার্মাদরা যেমন ৩৪ বছর ধরে লাল সন্ত্রাস চালিয়েছিল, সৈকত মোল্লারা এখন সেই একইভাবে দমননীতি চালাচ্ছেন।” শুধু তাই নয়, আরাবুল দাবি করেন তাঁর অফিসে সৈকত অনুগামীরা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভাঙড় সবসময়ই দক্ষিণ ২৪ পরগনার একটি স্পর্শকাতর এলাকা। জমি আন্দোলন থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ প্রকল্প বিরোধী আন্দোলন—সবকিছুতেই ভাঙড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন কিছু নয়। তবে এবার সংঘর্ষ শাসকদলের ভেতরেই, যা দলের ভাবমূর্তির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কর্মীদের একাংশ বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ আরাবুলের পাশে, কেউ বা সওকতের অনুগামী। ফলে সংগঠনের ভিতরে অস্বস্তি বেড়েছে।
যদিও অভিযোগের জবাবে সওকত মোল্লার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের ভেতরের এই বিরোধ যদি দ্রুত মিটমাট না করা যায়, তবে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচন ও লোকসভা ভোটে এর বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে।







