সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ সুবিধা পুনর্বিবেচনা
সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ সুবিধা
পুরনো রায় পুনর্বিবেচনা চায় শীর্ষ কোর্ট
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি, ২ সেপ্টেম্বর:
সংবিধান প্রদত্ত অধিকারের বলে ধর্মীয় ও ভাষাগত সংখ্যালঘুরা নিজেদের জন্য পৃথক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গঠন ও পরিচালনা করে থাকেন। ২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে বলেছিল, ধর্মীয় ও ভাষাগত সংখ্যালঘু সংস্থা শিক্ষার অধিকার আইনের আওতায় থাকবে না। সংবিধানের ৩০ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংখ্যালঘুরা স্বাধীনভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে পারবে। ১১ বছর আগে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ ওই রায় দিয়েছিলেন।
এখন বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি মনমোহন সেই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য বর্তমান প্রধান বিচারপতি বি.আর গাভাইয়ের কাছে পাঠিয়েছেন। তাঁদের পর্যবেক্ষণ, ২০০৯-এর শিক্ষার অধিকার আইনের সঙ্গে সংবিধানের ৩০ (১) অনুচ্ছেদের কোনও সংঘাত নেই। ওই আইন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তাই সংখ্যালঘু পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন শিক্ষার অধিকার আইনের বাইরে থাকবে, এদিন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সর্বোচ্চ আদালত।
উল্লেখ্য, কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তাদের পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এই আইনের আওতার বাইরে রাখার আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলে মঙ্গলবার বিষয়টি পুনর্বিবেনার কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতির কাছে বিষয়টি পাঠিয়েছেন। কিন্তু এক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সমাজের বক্তব্য হল, সংবিধান প্রদত্ত অধিকারে কেন বারবার কাঁচি চালানো হবে। এ তো সাংবিধানিক অধিকার হরণের নামান্তর। ২০১৪ সালে শীর্ষ আদালতই তাদের রায়ে স্পষ্ট বলেছিল, ধর্মীয় ও ভাষাগত সংখ্যালঘুদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয় শিক্ষার অধিকার আইনের অধীনে থাকবে না। তারা সংবিধানের ৩০ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্বাধীনভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে পারবে। তাহলে নতুন করে এখন আবার পুনর্বিবেচনার কথা বলা হচ্ছে। ওয়াকফের মতোই এর পিছনেও অন্য কোন অভিসন্ধি নেই তো, এই প্রমাদ গুণছে সংখ্যালঘু সমাজ। কারণ, মুসলিমদের মক্তব, মাদ্রাসা ছাড়াও খ্রিস্টান বৌদ্ধ, পারসি, জৈন, শিখ সবারই এ ধরনের পৃথক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাই তাদেরকে আবার নতুন আতঙ্ক তাড়া করছে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে মনমোহন সিংয়ের ইউপিএ সরকার শিক্ষার সুযোগ সর্বজনীন করতে শিক্ষার অধিকার আইন (আরটিএ) প্রণয়ন করেছিল। তাতে বলা হয়, দেশের সমস্ত শিশুকে শিক্ষার সুযোগ দিতে সরকার বাধ্য। তাই স্কুলে ভর্তির ব্যাপারে আইন ও সরকারি নিয়ম মানতে বাধ্য থাকবে সরকারি ও বেসরকারি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু বর্তমান কেন্দ্র সরকার নতুন করে জাতীয় শিক্ষানীতি চালু করায় এ নিয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলে অভিমত শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের।








