রাবার স্ট্যাম্প নই আমরা, চাপিয়ে দেওয়া মানব না জিএসটি ইস্যুতে এককাট্টা বিরোধী রাজ্যগুলি
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি, ২৯ আগস্ট: জিএসটি-র স্ল্যাব কমিয়ে দুই ধাপে নতুন করে লাগু করার ব্যাপারে কেন্দ্রের চাপিয়ে দেওয়া নীতির বিরুদ্ধে এককাট্টা হল বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলো। শুক্রবার এইসব রাজ্য সরকার ও তাদের মুখ্যমন্ত্রীরা একযোগে রীতিমতো হুমকির সুরে বলেন, আমরাও নির্বাচিত সরকার। আমরা রাবার স্ট্যাম্প নই। কেন্দ্র জোরপূর্বক কোনকিছু চাপিয়ে দিলে তা মানব না।
তাদের অভিযোগ, জিএসটি-র ধাপ কমানোয় রাজ্যের আর্থিক ক্ষতি হবে। আগামী ৩ এবং ৪ সেপ্টেম্বর জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকের আগে তাই একজোট হল পশ্চিমবঙ্গ, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, ঝাড়খণ্ড, হিমাচল প্রদেশ, কেরল, পাঞ্জাব এবং তেলেঙ্গানার মতো আট বিজেপি বিরোধী রাজ্য। শুক্রবার নয়াদিল্লির কর্ণাটক ভবনে এই আট রাজ্যের অর্থমন্ত্রী ও প্রতিনিধিরা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। তাঁরা জানান, আসন্ন জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে তাঁরা মোদি সরকারকে চেপে ধরবেন। নিজ নিজ রাজ্যের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করেই ছাড়বেন তারা। কোনওভাবেই কেন্দ্র সরকার নতুন করে কোনকিছু চাপিয়ে দিলে তা কখনোই মেনে নেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, জিএসটি-র ধাপ কমানোর কেন্দ্রীয় প্রস্তাবে কোনও রাজ্যেরই আপত্তি নেই। তবে তার জন্য রাজ্যগুলির রাজস্ব ক্ষতির দিকটি বিবেচনা করে কেন্দ্রকে বিকল্প পথ খুঁজতে হবে বলে সাফ জানান তাঁরা। এই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে অন্তত পাঁচ বছর। বৈঠকে উপস্থিত পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধি রেসিডেন্ট কমিশনার উজ্জয়িনী দত্ত জানিয়েছেন, জিএসটি-র দুই ধাপ কমে সাধারণ ক্রেতাদের সুরাহার পক্ষে রাজ্য। কিন্তু আমচকা জিএসটি-র ধাপ কমে গেলে বছরে রাজ্যের আনুমানিক ১০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হবে। এতে রাজ্যের নানা উন্নয়ন প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা করেন তিনি। ফলে কেন্দ্রকে এমন কোনও বিকল্প রাস্তা বের করতে হবে, যাতে রাজ্যের রাজস্ব ক্ষতি না হয়। আর ক্ষতি হলে, তা পূরণ করতে হবে কেন্দ্রকেই।
হিমাচল প্রদেশের অর্থমন্ত্রী রাজেশ ধারমানি বলেন, মোদি সরকার ক্রটিপূর্ণ জিএসটি চালু করায় ২০১৭-২২ — পাঁচ বছরে তাদের রাজ্যে ১৭ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। এবার দুই ধানে নতুন জিএসটি কার্যকর হলে বছরে গড়ে এক হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হবে। যা পূরণ করতে হবে কেন্দ্রকে। নাহলে পথেও নামার হুমকি দেয় বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলো।
উল্লেখ্য, ২ সেপ্টেম্বর সব রাজ্যের অর্থসচিব ও সংশ্লিষ্ট অধিকর্তাদের নিয়ে বৈঠক রয়েছে। তারপর বিরোধী আট রাজ্যের অর্থমন্ত্রী ও কর্মকর্তারা ৩ সেপ্টেম্বর সকালে তামিলনাড়ু ভবনে বৈঠকে বসবেন। সেখানেই তারা পরবর্তী রণকৌশল ঠিক করবেন এবং কেন্দ্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন এদিন বৈঠকের উদ্যোক্তারা।








