শুরু হল ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্প
শুরু হল ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্প
তিন জেলায় পরিযায়ী শ্রমিকদের তথ্য নথিভুক্তি
- নথিভুক্ত পরিযায়ী শ্রমিক ২২ লক্ষ ৪০ হাজার
- সম্প্রতি ফিরে এসেছেন ২৭০০ পরিবার
- রাজ্য সরকার ফিরিয়ে এনেছে ১০ হাজারের বেশি লোককে
- রাজ্যে মোট জবকার্ড হোল্ডার ৭৮ লক্ষ
নতুন পয়গাম, কলকাতা, ২১ আগস্ট: বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হয়ে গেল ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্পের কাজ। সোমবার নবান্নে এই প্রকল্প ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানান। উল্লেখ্য, ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে বাংলাভাষায় কথা বলার অপরাধে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন, ধরপাকড় ইত্যাদি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ফিরে আসা শ্রমিকদের জন্য এই মানবিক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বাংলায় ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকরা এই প্রকল্পে মাসিক ৫ হাজার টাকা ভাতা এবং অন্যান্য কর্মমুখী প্রকল্পের প্রশিক্ষণ, লোন ইত্যাদি পাবেন। তাদের সন্তানরা এখানে পড়াশোনার যাবতীয় সুযোগ-সুবিধাও পাবে।
রাজ্য সরকারের নির্দেশ মেনে বৃহস্পতিবার থেকেই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হল তিনটি জেলায়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য অনুসন্ধানের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও শ্রমশ্রী পোর্টাল চালু হতে এখনও দু-তিনদিন সময় লাগবে। রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক জানিয়েছেন, পোর্টাল চালু হলে পরিযায়ী শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্তির কাজ অনলাইনে শুরু হবে। কিন্তু তার আগে যে সব পরিযায়ী শ্রমিক ইতিমধ্যে ফিরে এসেছেন, তাঁদের অফলাইনে এই প্রকল্পের অধীনে আনার কাজ শুরু হল। শ্রম দফতরের প্রতিনিধি ও অফিসাররা জেলায় জেলায় শিবির করে প্রাথমিক ভাবে এই কাজ করবেন। আপাতত মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং উত্তর দিনাজপুরে এই কাজ শুরু হয়েছে।
আক্রান্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা নিয়েছিল রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদ। বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশন শেষ হলে এই পর্ষদের চেয়ারম্যান সাংসদ সামিরুল ইসলামের কলকাতা ফেরার কথা। তারপর রাজ্য শ্রম দফতর পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদকে সঙ্গে নিয়ে শ্রমশ্রী প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তৈরি করবে।
সামিরুল ইসলাম জানান, বেশ কিছু দিন ধরেই ‘কর্মসাথী’ প্রকল্পে পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছিল। তার জন্য চালু আছে একটি পোর্টাল। এই দুই পোর্টালের মধ্যে সেতুবন্ধন করে তথ্য ও নথিপত্র মেলানো হবে। ‘কর্মসাথী’ প্রকল্প অনুযায়ী, রাজ্যে নথিভুক্ত পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা ২২ লক্ষ ৪০ হাজার। যদিও বিভিন্ন মহলের মতে, নাম লেখানো নেই, এমন লোকদের ধরলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেড়ে ২৫ লক্ষ বা তারও বেশি হতে পারে।
সোমবার মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, আমাদের ‘উৎকর্ষ বাংলা’ আছে। সেখানে ‘স্কিল ট্রেনিং’ দেওয়া হয়। ফিরে আসা শ্রমিকদের দক্ষতা থাকলে প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া ‘জব কার্ড’ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই কর্মশ্রী প্রকল্পে ৭৮ লক্ষ জব কার্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া লোনের ব্যবস্থা রয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের খাদ্যসাথী কার্ড-এর পাশাপাশি স্বাস্থ্যসাথীও থাকবে। বাড়ি না থাকলে কমিউনিটি সেন্টারে থাকার ব্যবস্থা করা হবে। বাচ্চাদের স্কুলে ভর্তির ব্যবস্থা করা হবে। কন্যাশ্রী, শিক্ষাশ্রীর সুবিধাও পাবেন। এছাড়া শ্রমশ্রী পোর্টালে নাম তুললে তাঁদের বিশেষ আই কার্ড দেওয়া হবে। ফলে রাজ্য সরকারের নানারকম প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধাও পাবেন তাঁরা।
মমতা আগেই জানান, অত্যাচারিত হয়ে অল্প কিছু দিনের মধ্যে ২৭০০ পরিবার রাজ্যে ফিরে এসেছেন। আর ১০ হাজারেরও বেশি লোককে রাজ্য সরকার ও পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদ ফিরিয়ে এনেছে। আবার অনেকে নিজেরাই ফিরে আসছেন বা এসেছেন।








