তেল কিনে রাশিয়াকে শক্তিশালী করছে ভারত তীব্র সমালোচনা মার্কিন উপদেষ্টার
তেল কিনে রাশিয়াকে শক্তিশালী করছে ভারত
তীব্র সমালোচনা মার্কিন উপদেষ্টার
নতুন পয়গাম, ১৮ আগস্ট: রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা বা আমদানি করা প্রসঙ্গে আমেরিকা আবারও ভারতের কড়া সমালোচনা করল। মার্কিন বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো স্পষ্ট বলেছেন, ভারতকে অবিলম্বে রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করতে হবে। তাঁর অভিযোগ, এভাবে তেল কিনে ভারত সরাসরি পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে অর্থায়ন করছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা দুর্বল করে দিচ্ছে।
নাভারোর মতে, ভারতের এই নীতি কেবল আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য হুমকি নয়; বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভারত যদি অবস্থান না বদলায়, তবে ওয়াশিংটনের পক্ষে নয়াদিল্লিকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখা কঠিন হবে।
আরও বলেন, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা ক্রমে বাড়ছে, যা মার্কিন প্রশাসনের জন্য উদ্বেগজনক। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভারতের সঙ্গে উন্নত মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি লেনদেন করা ঝুঁকিপূর্ণ হবে।
একদিকে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখার দাবি এবং অন্যদিকে রাশিয়া থেকে রেকর্ড পরিমাণ তেল কিনে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করায় ভারতের অবস্থানকে দ্বিচারিতা বলছে মার্কিন বিশ্লেষকরা। এতে ভারত স্বল্পমূল্যে জ্বালানি নিশ্চিত করতে পারলেও পশ্চিমা চাপের মুখে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে অস্বস্তিকর অবস্থানে ঠেলে দিচ্ছে বলে তাদের অভিমত। ভারতের এই নীতি শেষ পর্যন্ত আমেরিকা ও ইউরোপের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
ভারত সরকার অবশ্য শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, জাতীয় স্বার্থে রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল কেনা হচ্ছে, হবে। নয়াদিল্লির মতে, উন্নয়নশীল দেশের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের অগ্রাধিকার। তবে ক্রমাগত মার্কিন চাপ ও সমালোচনার মুখে ভবিষ্যতে ভারত কী অবস্থান নেবে, সেটা এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয়। এই আবহে ২৫ আগস্ট মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লি সফরে এসে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও, শনিবার মধ্যরাতে আচমকা সেই বৈঠক স্থগিতের ঘোষণা করে ওয়াশিংটন।








