‘ক্ষুদ্র শিল্পে আত্মনির্ভর’ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে মাত্র সিকিভাগ
‘ক্ষুদ্র শিল্পে আত্মনির্ভর’ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে মাত্র সিকিভাগ
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি, ১৭ আগস্ট: জুমলা কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। বিরোধীরা একের পর এক জুমলাবাজির পর্দা ফাঁস করেই চলেছে। কিন্তু তাতে সরকারের কোন হেলদোল নেই। উল্টে কার ঘাড়ে দায় চাপানো যায়, সেই গবেষণায় রত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিগত ১১ বছরে এসব গা-সওয়া হয়ে গিয়েছে জনতা থেকে জননেতাদের। এবার ‘আত্মনির্ভরশীল ভারত’ ইস্যুতেও কথার সঙ্গে কাজের মিল পাওয়া গেল না। উল্লেখ্য, কোভিড অতিমারীর সময় দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা করতে একগুচ্ছ প্রকল্প ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র সরকার। তার গালভরা নাম দেওয়া হয়েছিল ‘আত্মনির্ভরশীল ভারত’।
বিপুল কর্মসংস্থানের ফানুস উড়িয়ে ২০২০ সালের মে মাসে ঘোষিত সেই প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম ছিল ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পের বিস্তার বা সম্প্রসারণ ঘটানো। কেন্দ্র সরকার জানিয়েছিল, এই খাতে ৫০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হচ্ছে। সেখান থেকে ঋণ নিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা করতে পারবে যে কোনও সংস্থা। এই প্রকল্প যত বাস্তবায়িত হবে, তত বেশি খুলবে কর্মসংস্থানের পথ এবং সর্বোপরি কপাল খুলবে মধ্যবিত্তদের। এই ছিল আসল কাহিনি।
এই প্রকল্পে ৫০ হাজার কোটি টাকার তহবিলের মধ্যে ১০ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রের। বাকি ৪০ হাজার কোটি আসবে বেসরকারি বিনিয়োগ থেকে। তাহলে প্রশ্ন উঠছে, আত্মনির্ভরশীল প্রকল্প বাস্তবায়নে কেন্দ্র কেন পরনির্ভরশীলতার পথে পা রাখছে? যাহোক, সেই ঘোষণার পাঁচ বছর পর গঙ্গা-যমুনা দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গেছে। এখন দেখা যাচ্ছে ১০ হাজার কোটির মধ্যে মাত্র ১৪৩৫ কোটি টাকা বা ১৫ শতাংশ খরচ হয়েছে। আর ৪০ হাজার কোটি টাকা লগ্নিকারী বেসরকারি সংস্থার তরফে খরচ হয়েছে ১১,১৪১ কোটি টাকা। অর্থাৎ, ৫০ হাজার কোটির তহবিলে ৫ বছরে কাজে লেগেছে মাত্র ১২ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা বা এক-চতুর্থাংশ মাত্র।
সূত্রের খবর, সারা দেশে যখন ৬০৯টি সংস্থা এই সরকারি সুবিধা পেয়েছে, সেখানে পশ্চিম বাংলায় উপকৃত হয়েছে মাত্র ছ’টি সংস্থা। কর্মসংস্থানের ব্যাপারে ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার আগে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে মোদি বলেছিলন, বছরে ২ কোটি চাকরি দেবেন। এখন গত ১১ বছরে দেখা যাচ্ছে, তার দশ ভাগের একভাগও কর্মসংস্থান হয়নি। উল্টে বিগত ৫০ বছরে রেকর্ড বেকারত্ব দেখা যাচ্ছে। তারওপর ছাঁটাই, স্বেচ্ছা অবসরের হিড়িক চলছে। দেশের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীনে সেনাবাহিনীতে চলছে ‘অগ্নিবীর’ নামে সিভিক জওয়ান নিয়োগ। এসব নিয়ে বিরোধী দলের নেতারা প্রায়ই সরব হলেও কর্ণপাত করে না সরকার।
সূত্রের খবর, ছোট ও মাঝারি শিল্পের বেসরকারি লোন বা পুঁজি জোগাতে গত ৫ বছরে কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেছে ৬৪টি মূলধন সরবরাহকারী সংস্থা। তারা এই তহবিলে লগ্নিও করেছে, যাতে নতুন উদ্যোগ বা ব্যবসা শুরু করতে পুঁজির সমস্যা না হয়। তারপরেও কেন সেইসব টাকার সুষম বণ্টন হয়নি — সে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। সরকারি কর্মকর্তাদের সাফাই হল, এই প্রকল্পের জোরালো প্রচার হয়নি। তাছাড়া নিয়মাবলী বা শর্তের গেরোয় লাল ফিতের ফাঁস খোলায় দীর্ঘসূত্রিতা এবং প্রশাসনিক জটিলতায় বিষয়টা একশ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়নি। যদিও এই ব্যর্থতার জন্য সরকারের সদিচ্ছার অভাবকে দায়ী করছে বিরোধীরা।








