রতুয়ায় নদি ভাঙন ও বন্যা অব্যাহত আতঙ্ক-কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা
রতুয়ায় নদি ভাঙন ও বন্যা অব্যাহত
আতঙ্ক-কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা
গোলাম আহম্মেদ চিশতী
নতুন পয়গাম, মালদা, ২০ আগস্ট: উভয় সঙ্কট! জেলার প্রধান ৩ নদীর জল কমার সাথে শুরু গেল ভয়াবহ ভাঙন। গঙ্গার ভয়াল ছোবলে গত দুদিনে রতুয়া ১ ব্লকের মহানন্দাতলা গ্রামপঞ্চায়েতের মুলিরামটোলা ও জিতুটোলায় ২০ বিঘারও বেশী জমি তলিয়ে গেল গঙ্গারগর্ভে। কৃষিজমি সহ জলের তলায় চলে যায় একাধিক ঘরবাড়ি। এদিকে, নদীর কোপে ঘরছাড়া মানুষজন অপর্যাপ্ত ত্রাণ নিয়ে অভিযোগ করতে শুরু করেছেন৷ তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনের দেওয়া ত্রাণ সবার কাছে পৌঁছোচ্ছে না৷ একই কথা শোনা যাচ্ছে বৈষ্ণবনগরের বানভাসি গ্রামগুলিতেও৷ যদিও যে কোনও ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন তৈরি রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে৷
বুধবার বেলা ১২টা পর্যন্ত মানিকচক ঘাটে গঙ্গার জলস্তর ছিল ২৪.৮৫ মিটার৷ চূড়ান্ত বিপদসীমা ২৫.৩০ মিটার থেকে ৪৫ সেন্টিমিটার নীচে থাকলেও এখনও বিপদসীমা ২৪.৬৯ মিটার থেকে ১৬ সেন্টিমিটার উঁচুতে রয়েছে গঙ্গা৷ একই সময় হরিশ্চন্দ্রপুরের তেলজন্নায় ফুলহরের জলস্তর ছিল ২৬.৮৭ মিটার৷ মহানন্দার জলস্তরও কমতে শুরু করেছে। ভূতনির দক্ষিণ চণ্ডীপুর, হীরানন্দপুর ও উত্তর চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও বইছে গঙ্গার জল৷ বানভাসি মানুষজনের কেউ প্রশাসনের ফ্লাড শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছেন৷ বেশিরভাগই রয়েছেন উঁচু এলাকায়৷ বাঁধের উপর থাকা মানুষজনের একাংশের অভিযোগ, তাঁরা প্রশাসনের তরফে পর্যাপ্ত ত্রাণ পাচ্ছেন না৷ সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়েছে গোখাদ্যের অভাব৷ নদীর জল গ্রামে ঢুকে পড়ায় প্রায় সমস্ত মাঠ এখন জলের তলায়৷ গৃহপালিত গরু-ছাগল মাঠ থেকে ঘাস খেতে পারছে না৷ গোখাদ্য যতটুকু মজুত ছিল তা শেষ হয়ে গিয়েছে৷ একপ্রকার অভুক্ত অবস্থায় রয়েছে গৃহপালিত পশুরা৷ দ্রুত তাদের খাবারের ব্যবস্থা না করা গেলে সমস্যা আরও বাড়বে৷
নরেশ মণ্ডল নামে একবানভাসী জানান, “খুব কষ্টে দিন যাপন করছি৷ ঘরে জল ঢুকে যাওয়ার পর যেটুকু খাবার নিয়ে আসতে পেরেছিলাম, তা শেষ৷ এদিকে প্রশাসনের দেওয়া ত্রাণও এখানে পৌঁছোচ্ছে না৷ আপাতত বাঁধে আশ্রয় নিয়েছি৷ পঞ্চায়েতের তরফে একটা প্লাস্টিক দেওয়া হয়েছে৷ তার নীচেই পরিবার নিয়ে রয়েছি৷ দিনে-রাতে বিষধর সাপ এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে৷ এটাও বড় আতঙ্কের বিষয়৷” বাঁধে আশ্রয় নেওয়া গ্রামবাসী ইদ্রিস আলি নামে এক ব্যক্তি বলেন, “ধীরগতিতে হলেও ফুলহরের জল নামতে শুরু করেছে৷ সেটাও আতঙ্কের আরেক কারণ৷ জল কমলে গঙ্গা আর ফুলহরের ভাঙন বেড়ে যায়৷ এতদিন সেটাই দেখে এসেছি৷ কখন সেই ভাঙন শুরু হবে সেই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি৷ দেখা যাক, এবার কী হয়!” জিতুটোলার রাধেশ্যাম সাহা জানালেন, “আজ ভোর চারটে নাগাদ ভাঙন শুরু হয়৷ ভাঙনের তীব্রতা সকাল ছ’টা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ছিল৷ প্রায় দু’কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন হয়েছে৷ আমার বাড়ি নদীতে তলিয়ে গিয়েছে৷ তখন ঘরে ঘুমিয়েছিলাম৷ ভাঙন যে শুরু হয়ে গিয়েছে বুঝতে পারিনি৷ হঠাৎ পড়শিরা আমাদের ডেকে তোলে৷ আমাদের এখন একটাই দাবি, প্রশাসনকে আমাদের জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে৷”
জেলাশাসক নিতীন সিংহানিয়া জানিয়েছেন, “প্রশাসন পুরো বিষয়ের উপর নজর রেখে চলেছে৷ ভাঙন আটকাতে সেচ দফতর তৎপর রয়েছে৷ দুর্গতদের ত্রাণের কোনও অভাব নেই৷ প্রতিটি জায়গায় ত্রাণ বিলি করা হচ্ছে৷ দুর্গত মানুষের চাহিদা যতটা সম্ভব পূরণ করার চেষ্টা করা হবে৷ জল নামলে রাস্তাঘাটের মেরামতিতেও হাত দেওয়া হবে৷ আজ থেকে তিন নদীরই জল নামতে শুরু করেছে৷ আশা করা হচ্ছে, আর দু’একদিনের মধ্যে পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হবে৷”
আরও পড়ুন







