সুন্দরবনে মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি
সুন্দরবনে মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি
বন দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন জেলেদের
নতুন পয়গাম, রায়দিঘি: সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ জলভাগে মাছ ধরা নিয়েই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জীবনযাপন করে আসছেন হাজার হাজার মৎস্যজীবী পরিবার। কিন্তু সম্প্রতি বন দপ্তরের এক নতুন নির্দেশিকায় সেই জীবনযাত্রাই মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। এই নির্দেশিকার প্রতিবাদে সোমবার রায়দিঘি বন দপ্তরের সামনে শতাধিক মৎস্যজীবী ভিড় জমান এবং প্রবল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ক্ষুব্ধ জনতা ইংরেজ আমলে চালু হওয়া এক পুরনো আইন হঠাৎ করে পুনরায় কার্যকর করার প্রতিবাদে বন দপ্তরের অর্ডার কপি প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে দেন।
মৎস্যজীবীদের অভিযোগ, এই আইন বর্তমান সময়ে একেবারেই অযৌক্তিক এবং অন্যায়। নতুন নিয়মে চুলকাটি ১ থেকে ৮ পয়েন্ট ও ডুলিভাসানি ১ থেকে ৮ পয়েন্টে মাছ ধরা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সুন্দরবনের কোর এরিয়াতেও মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ফলে বিশাল এলাকা মাছ ধরার বাইরে চলে যাওয়ায় হাজার হাজার পরিবার জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় ভুগছেন। তাদের দাবি, বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে এই ধরনের আইন চাপিয়ে দেওয়া অমানবিক সিদ্ধান্ত।
রায়দিঘি থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন আগামী দিনে আরও তীব্র আকার ধারণ করবে বলে মৎস্যজীবীরা জানিয়েছেন। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামীকাল থেকে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে নামখানা, পাথরপ্রতিমা ও ডায়মন্ড হারবারে, তারপর ক্রমে পুরো জেলাজুড়ে। সরকারের কাছে তাদের স্পষ্ট বার্তা— এই অন্যায় আইন প্রত্যাহার করতে হবে, না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তারা।
শুধু মাছ ধরা বন্ধই নয়, ফরেস্ট দপ্তরের নতুন নির্দেশিকায় নৌকা ও জাল ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা, নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশ নিষেধ, এবং অনুমতি ছাড়া সুন্দরবনের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এসব নিয়ম কার্যকর হলে মৎস্যজীবীদের আয় কমে যাবে এবং অনাহারের মুখে পড়তে হবে বহু পরিবারকে।
আজকের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে রায়দিঘি। মৎস্যজীবীদের দাবি, সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যত তাদের ভাত-কাপড়-চালের সংস্থান কেড়ে নেওয়ার শামিল। আন্দোলনের আগুন এখানেই থামবে না— ক্রমে তা সমগ্র জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।







