বীরভূমের আমোদপুরে মিলছে উটের দুধের চা
খান সাহিল মাজহার, নতুন পয়গাম, বীরভূম: চা ছাড়া সকাল যেন বাঙালির জীবনে কল্পনাই করা যায় না। সকালের শুরু হোক বা বিকেলের আড্ডা—এক কাপ গরম চা যেন প্রাণের খোরাক। রাস্তার ধারের চায়ের ভাঁড় থেকে শুরু করে বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ—সবখানেই চা-প্রেমীদের ভিড় লেগেই থাকে। কেউ পছন্দ করেন দুধ-চিনি মেশানো চা, কেউ লেমন টি, কেউ আবার গ্রিন টি বা মাসালা চায়ের স্বাদে অভ্যস্ত। কিন্তু চা-প্রেমীরা এবার সত্যিই চমকে উঠবেন। কারণ বীরভূমের মাটিতে এবার প্রথমবারের মতো মিলছে একেবারে নতুন এক অভিজ্ঞতা—উটের দুধের চা।
শুনেই মনে হতে পারে এ কেমন কথা! উটের দুধ আবার বীরভূমে কোথা থেকে আসবে? অথচ ঘটনাটি সত্যি। অনলাইন মাধ্যমের মাধ্যমে দুবাই থেকে আনা হচ্ছে উটের দুধের বিশেষ পাউডার, আর সেই দিয়েই বানানো হচ্ছে এই অচেনা অথচ আকর্ষণীয় স্বাদের চা। স্থান—বীরভূমের আমোদপুর। তারাপীঠ থেকে যদি বোলপুর যাওয়ার পথে কেউ গাড়ি নিয়ে যান, তবে আমোদপুর চৌরাস্তা মোড় পার হয়ে বোলপুর রোডে মাত্র এক মিনিট এগোতেই রাস্তার বাঁদিকে চোখে পড়বে এই চায়ের দোকান। আর সেখানেই মিলবে চায়ের কাপে চমক, উটের দুধের অনন্য স্বাদ।
দোকানের কর্ণধার বরুণ রায় জানালেন, “দুবাই থেকে আনা হয় এই উটের দুধের পাউডার। বাংলাদেশে যেখানে এক কাপ চা ৪০০ টাকা দামে বিক্রি হয়, সেখানে বীরভূমের সাধারণ মানুষ সেই দাম দিয়ে চা খেতে পারবেন না। তাই আমরা সবার নাগালের মধ্যে আনতে চেষ্টা করেছি। এক কিলো উটের দুধের পাউডারের দাম পড়ে প্রায় ৪৫০০ টাকা। কিন্তু আমাদের দোকানে এই চা এক কাপ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০ টাকায়।”
উটের দুধের চা শুধু কৌতূহল জাগানো নয়, বরং স্বাস্থ্যকরও বটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গরুর দুধের তুলনায় উটের দুধ তিন গুণ বেশি পুষ্টিকর। এর মধ্যে ফ্যাট অনেক কম থাকে, ফলে যাদের কোলেস্টেরল সমস্যা রয়েছে তারা নির্দ্বিধায় এই চা পান করতে পারেন। শুধু তাই নয়, শিশুদের উচ্চতা বৃদ্ধিতেও উটের দুধ বিশেষভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখে। ফলে স্বাদ এবং স্বাস্থ্য—দুটোরই সমন্বয় ঘটছে এই নতুন চায়ের কাপে।
স্থানীয় মানুষজনের পাশাপাশি আশেপাশের অঞ্চল থেকেও অনেকেই ইতিমধ্যেই এই দোকানে আসতে শুরু করেছেন। চায়ের কাপে উটের দুধের নাম শুনেই প্রথমে অবাক হলেও, একবার স্বাদ নেওয়ার পর কৌতূহল মিলছে প্রশংসায়। বরুণ রায়ের কথায়, “আমরা চাই মানুষ ভিন্ন স্বাদের অভিজ্ঞতা লাভ করুক, আর সেই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর এক বিকল্পও গ্রহণ করুক।”
চা-প্রেমীদের কাছে এক কাপ চা মানে শুধু স্বাদের তৃপ্তি নয়, অনেকটা আবেগও বটে। সেই আবেগের ভাঁড়ে এবার যুক্ত হয়েছে এক চমকপ্রদ অভিজ্ঞতা। বীরভূমের শান্ত, সরল গ্রামীণ পরিবেশে এমন এক অভিনব চায়ের দোকান শহরবাসী থেকে পর্যটকদেরও টেনে আনবে বলেই মনে করছেন সকলে।
চায়ের ধোঁয়াটে কাপে যখন উটের দুধের সুবাস ছড়িয়ে পড়ছে, তখন বীরভূমের মানুষ পাচ্ছেন একেবারে অন্য রকমের অভিজ্ঞতা। একসময় যা ছিল কেবল গল্পে শোনা, আজ তা বাস্তব হয়ে উঠেছে আমোদপুরের ছোট্ট এক দোকানে। বলা যায়, চায়ের ইতিহাসে বীরভূমে লেখা হয়ে গেল এক নতুন অধ্যায়।








