ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু
নতুন পয়গাম, বাগদাদ, ১৯ আগস্ট: ইরাক থেকে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের অংশ হিসেবে আমেরিকা ইরাকের আনবার প্রদেশের আইন আল-আসাদ বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা তাদের সেনা জওয়ানদেরকে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। ইরাকি সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, সামরিক যানবাহন বহনকারী মার্কিন সেনা কনভয় ইতিমধ্যেই সিরিয়া সীমান্তের দিকে রওনা দিয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ দুই দশকের সামরিক উপস্থিতি কমানোর প্রক্রিয়া নতুন মাত্রা পেল। অর্থাৎ ইরাকের ভূখণ্ড থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন ও ন্যাটো সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হল মঙ্গলবার থেকে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে ইরাকের বেশ কয়েকটি ঘাঁটি, যার মধ্যে ব্যাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও রয়েছে, সেগুলোকে মার্কিন সেনা-শূন্য হবে। তবে ইরাকের কুর্দিস্তানে থাকা শেষ ধাপের সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে।
প্রসঙ্গত, কথিত সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধের অংশ হিসেবে ২০০৩ সালে ইরাকে সামরিক অভিযান বা একতরফা যুদ্ধ চালিয়ে সাদ্দাম হুসেনের দেশকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করে। তার থেকেও বলা ভাল, কার্যত দেশটিকে গোরস্থান ও ইয়াতিমের দেশে পরিণত করা হয়। পরে সন্ত্রাস-বিরোধী যুদ্ধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে মার্কিন সেনারা দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থান করেছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরাকি সরকার দেশটির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে মার্কিন সহ সমস্ত বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানাতে থাকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে শেষ হলে ইরাকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভার সম্পূর্ণরূপে দেশীয় বাহিনীর হাতে ন্যস্ত হবে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। ইরাকবাসী দ্বিতীয় স্বাধীনতার স্বাদ পাবে।








