অন্যের বিপদে হাজির করিমপুরের দুই বোন
রেবাউল মণ্ডল, নতুন পয়গাম, নদিয়া: মানুষ মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্যে। সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে — ভূপেন হাজারিকার গানের কলি এবং কামিনি রায়ের কবিতার এই লাইন, সবাই জানে। কিন্তু বাস্তবে মেনে চলা খুবই কঠিন। কিন্তু সবকিছুরই যেমন ব্যতিক্রম থাকে, তেমনি এক্ষেত্রেও নদিয়ার দুই বোন প্রিয়াঙ্কা ও পিয়ালী ব্যতিক্রমী চরিত্র। ওরা দুই বোন। দেখতেও অনেকখানি একই রকম। রক্তের সম্পর্কে ওরা দু’জন বোন হলেও একেবারে বন্ধুর মতো। নানান সমাজসেবামূলক কাজে এক সঙ্গে দেখা যায় ওদের।
নদিয়া জেলার করিমপুরের প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাস ও পিয়ালী চক্রবর্তীকে আবারো দেখা গেল একসঙ্গে স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরে। শুধু রক্তদান শিবিরেই নয়, বি-নেগেটিভ রক্ত দিতে প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাস ছুটে যান বিভিন্ন ব্লাড ব্যাংকেও। অসহায় মুমূর্ষু মানুষ তথা রোগীদের বিপদে বন্ধু হয়ে দাঁড়ান দুই বোন।
রবিবার করিমপুরের বাথানপাড়ায় আয়োজিত ১০১ জনের রক্তদান শিবিরে পাশাপাশি বেডে শুয়ে রক্ত দেন দুই বোন প্রিয়াঙ্কা-পিয়ালী। যে বাংলায় দিনদিন সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে মানুষে মানুষে ভেদাভেদের চেষ্টা চালাচ্ছে একটি শ্রেণী, ঠিক সেখান থেকেই ভালোবাসার দিশা দেখালো এই দুই বোন, যা দেখে বিভেদকামীদের দেখা শিক্ষা নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
উল্লেখ্য, এই রক্তদানের সঙ্গে যুক্ত সমাজকর্মী তিন বন্ধু রাজীব, হিরো, সোহেল। তাদের সন্তানদের জন্মদিন ছিল চলতি মাসে। কিন্তু প্রচলিত নিয়ম, প্রথা বা রেওয়াজের বাইরে গিয়ে জাঁকজমক বা আড়ম্বরপূর্ণ ভোজসভার আয়োজন না করে সন্তানদের জন্মদিনটিকে রক্তদান তথা সমাজসেবার মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখলেন তারা। বার্তা একটাই, আজকে যে শিশু, আগামীতে সে হয়ে উঠুক একজন রক্তদাতা। বাবাদের সাথে সাথে তারাও দাঁড়াক মানুষের পাশে, তবেই তো রক্তসংকট মিটবে রাজ্যের ব্লাড ব্যাংক গুলিতে।







