BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

দেশভাগ: দায়ী কে বা কারা

প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২৫, দুপুর ১২:১১ | আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০২৫, দুপুর ১২:১১

মাসুদুর আলি, নতুন পয়গাম 

আরও পড়ুন:

ভারতবর্ষের ইতিহাসে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ নিঃসন্দেহে অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি। হাজার বছরের সহাবস্থানের ঐতিহ্য, মিলনমেলার সংস্কৃতি, পারস্পরিক মত ও ভাব বিনিময়, আর আন্তঃসম্পর্কের শিকড় ছিন্নভিন্ন করে ভারতবর্ষ দ্বিখণ্ডিত হয়ে এক রাতে দুটি পৃথক রাষ্ট্র তৈরি হল — ভারত ও পাকিস্তান। দেশভাগ শুধু ভৌগোলিক সীমারেখার বিভাজনই নয়, এটি ছিল মানুষের হৃদয়, বিশ্বাস, সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের বিভাজন। অগণিত মানুষ বাস্তুচ্যুত হল, কয়েক লক্ষ মানুষ প্রাণ হারাল, আর যে ক্ষত তৈরি হল — তা আজও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ও সমাজে দগদগে ক্ষতচিহ্ন হিসেবে রয়ে গেছে।
প্রশ্ন হলো, এই দেশভাগের জন্য দায়ী কে বা কারা? দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত বয়ানে বলা হয়েছে, মুসলিম লীগই দেশভাগের মূল কারিগর। জিন্নাহর পাকিস্তান দাবিকেই সবসময় আলাদা রাষ্ট্র সৃষ্টির জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু যদি ইতিহাসকে গভীরভাবে দেখা যায়, দলিল-দস্তাবেজ অধ্যয়ন করা হয় এবং নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ করা হয়, তবে স্পষ্ট বোঝা যায়, দেশভাগের জন্য মুসলিম লীগ একাই নয়, কংগ্রেস তথা হিন্দু নেতৃত্বের একগুঁয়ে মনোভাব, রাজনৈতিক আধিপত্যবাদ এবং হিন্দু মহাসভার সাম্প্রদায়িক রাজনীতিও ছিল সমান দায়ী। যদি কংগ্রেস কিছুটা নমনীয় হত, মুসলিমদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিত, সাম্য ও মৈত্রীর নীতিকে প্রাধান্য দিত এবং ক্ষমতার সুষম বণ্টনে আন্তরিক হত, তবে পাকিস্তান আন্দোলন হয়ত এত ব্যাপক সমর্থন পেত না, এবং দেশ ভাগও হত না।
কংগ্রেসের ব্যর্থতা যেখানে: কংগ্রেস দাবি করত, তারা আসমুদ্র হিমাচল পরিবেষ্ঠিত ভারতবাসীর প্রতিনিধি। কিন্তু বাস্তবে কংগ্রেসের রাজনৈতিক পলিসি, এজেন্ডা ও কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হত কেবল সংখ্যাগুরু সমাজের কল্যাণের দিকটাই। ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনেই এর প্রমাণ মেলে। মুসলিম লীগ তখন তুলনামূলক দুর্বল ছিল এবং মুসলমানদের ভোট ব্যাপকভাবে বিভক্ত হয়। কিন্তু নির্বাচনের পর কংগ্রেস যখন সরকার গঠন করল, তখন আনুপাতিক হারে মুসলমানদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করার পরিবর্তে তাদেরকে প্রশাসন ও সরকার থেকে বঞ্চিত করা হল।
উত্তর প্রদেশে মুসলিম লীগ কংগ্রেসের মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে চেয়েছিল, কিন্তু কংগ্রেস স্পষ্ট জানিয়ে দিল তাদের প্রয়োজন নেই। ফলে মুসলমানদের মনে ভয় তৈরি হল যে, স্বাধীন ভারতে তারা রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক হয়ে পড়বে। তাছাড়া কংগ্রেসি শাসনে নানা সিদ্ধান্ত মুসলমানদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে, যেমন স্কুল-কলেজে ‘বন্দে মাতরম’ গান বাধ্যতামূলক করা, যা মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। হিন্দিকে রাষ্ট্রভাষা করার চেষ্টা, যা উর্দুভাষী মুসলমানদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে। গোমাংস ভক্ষণ নিয়ে উগ্র হিন্দু ভাবাবেগকে প্রশ্রয় দেওয়া, যা মুসলমানদের প্রতি অবমাননাকর আচরণ হিসেবে দেখা দেয়। এসব অভিজ্ঞতা মুসলমানদের কাছে বার্তা এই দিল যে, স্বাধীন ভারতে কংগ্রেসের নেতৃত্বে সংখ্যাগুরু সমাজের আধিপত্যই প্রতিষ্ঠিত হবে, সংখ্যালঘুরা ন্যায্য বা প্রাপ্য অধিকার পাবে না।
গান্ধী-নেহরু ও জিন্নাহ: মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রথম জীবনে জাতিগত ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসী নেতা ছিলেন। তিনি কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে গান্ধী-নেহরুর সঙ্গে একই মঞ্চে কাজ করেছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে কংগ্রেস তাকে প্রান্তিক করে তোলে। জিন্নাহ যখন মুসলমানদের অধিকার রক্ষার্থে আলাদা কণ্ঠস্বর তুলতে শুরু করেন, তখন কংগ্রেস নেতৃত্ব সেই দাবিকে গুরুত্ব দেয়নি। ১৯৪৬ সালের ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা ছিল দেশভাগ রোধ করার সর্বশেষ বড় সুযোগ। পরিকল্পনায় বলা হয়েছিল, ভারত একটি ফেডারেল রাষ্ট্র থাকবে, যেখানে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলোকে আলাদা গ্রুপে স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হবে। এতে পাকিস্তান না গড়েই মুসলমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেত। কিন্তু জওহরলাল নেহরু প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন, কংগ্রেস এই পরিকল্পনার কোনো বাধ্যবাধকতা মানবে না। এই ঘোষণাই মুসলিম লীগকে চূড়ান্তভাবে পাকিস্তানের দাবির দিকে ঠেলে দেয়।
১৯৪৬ সালের নির্বাচন; বিভাজনের ইঙ্গিত: দেশভাগের আগে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা ছিল ১৯৪৬ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন। এই নির্বাচনে মুসলমানরা প্রায় সর্বসম্মতভাবে কংগ্রেসকে প্রত্যাখ্যান করে মুসলিম লীগের দিকে ঝুঁকে পড়ে। মুসলমানদের জন্য নির্দিষ্ট ৪৯৬টি আসনের মধ্যে মুসলিম লীগ জেতে ৪২৯টি আসন (৮৭%)। কংগ্রেস ব্যর্থ হয় মুসলমানদের আসনে। অন্যদিকে, হিন্দুপ্রধান আসনে কংগ্রেস কার্যত একাধিপত্য কায়েম করে। এই ফলাফল স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয়, ভারতীয় সমাজ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গেছে। হিন্দুরা কংগ্রেসে, আর মুসলমানরা মুসলিম লীগে। এটাই মূলত দেশভাগের গণভিত্তি তৈরি করে দেয়।
হিন্দু মহাসভা ও কট্টরপন্থী রাজনীতি: মুসলিম লীগের পাশাপাশি হিন্দু মহাসভা এবং আরএসএস-এর ভূমিকা দেশভাগকে আরও ত্বরান্বিত করে। এই সংগঠনগুলো স্পষ্টভাবে মুসলমানদের ‘বিদেশি’ আখ্যা দিয়ে ভারতকে কেবল হিন্দুদের রাষ্ট্র করার দাবি তোলে। ভি.ডি. সাভারকার তার গ্রন্থ Hindutva: Who is a Hindu? (১৯২৩)-তে লেখেন, “ভারত হিন্দুদের ভূমি, মুসলমানরা এখানে বহিরাগত।” বাংলায় শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী মুসলিম-বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। মহারাষ্ট্রে আরএসএস ও মহাসভা মুসলিমবিরোধী প্রচার চালিয়ে মুসলিমদের আতঙ্কিত করে তোলে। এহেন উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিতে মুসলমানদের মধ্যে বিশ্বাস জন্মায় যে, স্বাধীন ভারতে তারা কোনোদিনই নিরাপদ হবে না। জিন্নাহ এবং মুসলিম লীগ এই ভয়কে কাজে লাগিয়েই পাকিস্তান আন্দোলনকে সর্বজনীন রূপ দেয়।
দেশভাগের ভোটাভুটি ও চূড়ান্ত রায়: ১৯৪৭ সালে দেশভাগ কার্যকর করার আগে বিভিন্ন প্রদেশের আইনসভায় ভোটাভুটি হয়। পাঞ্জাবে মুসলিম সদস্যরা পাকিস্তানের পক্ষে ভোট দেয়, হিন্দু ও শিখরা ভারতের পক্ষে। পূর্ববঙ্গের মুসলমানরা পাকিস্তানের পক্ষে, পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা ভারতের পক্ষে ভোট দেয়। সিন্ধ ও সীমান্ত প্রদেশে মুসলিম লীগ পাকিস্তানের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পায়। ভোটাভুটিতে এই আড়াআড়ি বিভাজন দেশভাগকে আনুষ্ঠানিক সিলমোহর দেয়। কিন্তু এর নেপথ্য কারণ ছিল ১৯৩৭ ও ১৯৪৬ সালের অভিজ্ঞতা, কংগ্রেসের একগুঁয়ে নীতি এবং হিন্দু মহাসভার উগ্র রাজনীতি।
কংগ্রেসের একক আধিপত্যবাদ: কংগ্রেস সবসময় নিজেকে ভারতের একমাত্র রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইত। যদিও মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মতো সর্বজনীন নেতারা কংগ্রেসের ভিতরে মুসলমানদের প্রতি ইনসাফের দাবিতে সরব হতেন, কিন্তু তাদের মতামত প্রায়শই উপেক্ষিত হত। স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী মাওলানা আজাদ তাঁর আত্মজীবনীতে (India Wins Freedom) লিখেছেন, “যদি কংগ্রেস ১৯৩৭ সালে মুসলিম লীগকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করত, বা ১৯৪৬ সালের ‘ক্যাবিনেট মিশন’ পরিকল্পনাকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করত, তবে পাকিস্তান সৃষ্টি হত না।”
নিরপেক্ষভাবে ইতিহাস পরিক্রমা করলে দেখা যায়, দেশভাগের জন্য কেবল মুসলিম লীগকে দোষারোপ করা অযৌক্তিক। মুসলমানদের ভয়, অবিশ্বাস ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছিল মূলত কংগ্রেসের একগুঁয়ে মনোভাব, ক্ষমতার একচেটিয়া দখলদারি এবং হিন্দু মহাসভার উগ্র রাজনীতির কারণে। মুসলিম লীগ এই অবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানের দাবিকে শক্তিশালী করেছিল। সুতরাং, দোষের পাল্লা ভারি করলে বলতে হয়, দেশভাগের জন্য কংগ্রেস তথা তদানীন্তন হিন্দু নেতৃত্ব কোন অংশে কম দায়ী নয়। তাদের ব্যর্থ নেতৃত্ব, সংকীর্ণ মানসিকতা এবং মুসলিমদের প্রতি অবজ্ঞা-অবহেলাই পাকিস্তান সৃষ্টির পথ প্রশস্ত করেছিল।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder