চরম অর্থ সংকটে ডাক বিভাগ
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি, ১৭ আগস্ট: ভারতীয় ডাকবিভাগ এখন তীব্র আর্থিক সঙ্কটের সামনে দাঁড়িয়ে। সম্প্রতি প্রকাশিত তাদেরই বার্ষিক রিপোর্টে দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ডাক বিভাগের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা। ডাক বিভাগ বর্তমানে মূলত পার্সেল ব্যবসার ওপরেই নির্ভর করে চলছে।ডিজিটাল যুগে চিঠি-পত্রের আদান-প্রদান শিকেয় উঠেছে। স্বভাবতই বাড়ি বাড়ি চিঠি পৌঁছে দেওয়ার প্রচলিত ব্যবসা একরকম লাটে উঠেছে। এখন ডাক বিভাগের প্রধান আয়ের উৎসই হয়ে উঠেছে সরকারি সঞ্চয় প্রকল্পের কমিশন এবং পোস্টাল জীবন বীমা। গ্রাহকরাও ডাক পরিষেবায় সন্তুষ্ট নয়। গ্রাহকদের অভিযোগ, অনেক ডাকঘরে কর্মী সঙ্কট, অপর্যাপ্ত ফর্ম ও চেকবই, খারাপ বা অভাবপূর্ণ প্রিন্টিং মেশিন — এ সবই পোস্টাল বা ডাক সংক্রান্ত পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ফলে ডাকঘরে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন পড়ছে। দেরিতে মিলছে পরিষেবা। বাড়ছে ভোগান্তি। একইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ক্ষোভ বিক্ষোভ।
এদিকে, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্র সরকার ক্ষমতায় আসার পর আধার কার্ড করার জন্য যে সেন্টারগুলিকে বেছে নিয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম হল এই পোস্ট অফিস। কিন্তু প্রিন্ট মেশিন থেকে শুরু করে আঙুলের ছাপ নেওয়ার মেশিনগুলি বেশিরভাগ পোস্ট অফিসেই খারাপ হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ ভীষণভাবে হয়রান হচ্ছে, চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এককথায়, পরিষেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত এই ডাকবিভাগ। দেশের একাধিক আর্থিক সংস্থা যখন ধুঁকছে, সেই আবহে এবার জিএসটি সংস্কারের পথে হাঁটছে কেন্দ্র সরকার।
জানা গিয়েছে, বর্তমানে প্রচলিত জিএসটি’তে যে ১২ শতাংশ ও ২৮ শতাংশ কর চালু রয়েছে, তা তুলে দিয়ে শুধুমাত্র ৫ শতাংশ ও ১৮ শতাংশ স্ল্যাব রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি সিগারেট, গুটকা ও পান মশলার জন্য নতুন ৪০ শতাংশ করের স্ল্যাব চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে সিগারেটের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা অমূলক নয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২৮ শতাংশ করের আওতায় থাকা প্রায় ৯০ শতাংশ পণ্যের কর-হার কমিয়ে ১৮ শতাংশে আনা হোক। অন্যদিকে, ১২ শতাংশ স্ল্যাবের পণ্য সরিয়ে আনা হবে ৫ শতাংশ স্ল্যাবে। তবে তামাক, পান মশলা-সহ সাতটি পণ্য যাবে নতুন ৪০ শতাংশ করের আওতায়। এগুলিকে ‘সিন গুডস’ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠক হওয়ার কথা। ইতিমধ্যেই এই সংস্কারের খসড়া প্রস্তাব কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় পাঠানো হয়েছে।








