সিউড়ি রেল স্টেশনে বাংলা পক্ষের ডেপুটশন
খান সাহিল মাজহার, সিউড়ি, নতুন পয়গাম– বাংলা ভাষা নিয়ে ফের উত্তাল হল সিউড়ি রেল স্টেশন চত্বর। অভিযোগ, সংরক্ষিত টিকিট কাউন্টারে ফর্ম জমা দেওয়ার সময় এক রেলকর্মী বাংলায় কথা বলতে অস্বীকার করেন। তিনি জানান, তিনি বাংলায় কথা বলবেন না। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন সিউড়ীর ছোট আলুন্দা গ্রামের বাসিন্দা নুর আলম, যিনি বাংলা পক্ষের সদস্য। বিষয়টি দ্রুতই সংগঠনের শীর্ষ মহলের নজরে আসে।
শনিবার বাংলা পক্ষের পক্ষ থেকে সিউড়ি রেল স্টেশনে ডেপুটশন জমা দেওয়া হয়। এদিন উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায়। তিনি সরাসরি ওই রেলকর্মী রবিপ্রাসাদ বর্মাকে ভাষাগত অসম্মান দেখানোর অভিযোগে তিরস্কার করেন এবং বাংলায় কথা বলার শিক্ষা দিয়ে শেষমেশ তাঁকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন। তবে এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি রেলকর্মী নিজে।
এই ঘটনার শিকার নুর আলম বলেন – “আমি বাংলায় কথা বলতেই চাইছিলাম। অথচ রেল কর্মী আমাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি বাংলায় কথা বলবেন না। বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে এটা আমি মেনে নিতে পারিনি।”
গর্গ চট্টোপাধ্যায়, বাংলা পক্ষের রাজ্য সম্পাদক, বলেন – “বাংলার মাটিতে বাংলা ভাষাকে অস্বীকার করা চলবে না। এটা শুধু ভাষার প্রশ্ন নয়, এটা আমাদের আত্মসম্মানের প্রশ্ন। তাই আমরা রেল কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।”
ঘটনার খবর পেয়ে স্টেশন ম্যানেজার ডি. অধিকারী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন – “এই ঘটনার বিষয়ে আমরা তদন্ত করব। কোনও যাত্রীকে কোনও অসুবিধায় পড়তে দেওয়া হবে না। রেলের পক্ষ থেকে সবসময় যাত্রীদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে সম্মান জানানো হয়।”
এদিকে স্থানীয় বিধায়ক বিকাশ রায় চৌধুরী এই প্রসঙ্গে বলেন – “বাংলা ভাষার সম্মান রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য। যদি কোনও রেলকর্মী বাংলা ভাষাকে অবমাননা করে থাকেন, তবে অবশ্যই উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
বাংলা পক্ষের দাবি, বাংলার মাটিতে বাংলাকেই প্রাধান্য দিতে হবে। অন্যথায় তারা আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।








