গাজায় ত্রাণ পাঠাতে জগৎবল্লভপুরে অভিনব উদ্যোগ
নিজস্ব প্রতিবেদন
নতুন পয়গাম: ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার আকাশে যখন ধোঁয়ার কুণ্ডলী, বাতাস ভারী হচ্ছে আহাজারি ও আর্তনাদে, মধ্যপ্রাচ্যের এই বিবদমান ভূখণ্ড যখন ভিজে যাচ্ছে রক্ত ও অশ্রুতে — তখন হাওড়ার জগৎবল্লভপুর থেকে উঠছে সহানুভূতি ও সহমর্মিতার নিঃশব্দ আহ্বান। এলাকার একদল মানবিক ও উদ্যমী যুবক নিজেদের সীমিত সামর্থ্য নিয়েই লড়ছেন বিশ্ব মানবতার পক্ষে।
সামাজিক দায়িত্ববোধ আর সহানুভূতির চেতনায় ভর করে তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে একের পর এক উদ্যোগ নিচ্ছে গাজার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। সম্প্রতি, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে তাদের পাঠানো বিশাল জলের ট্যাঙ্কের ভিডিও — যা শুধু জল নয়, গাজাবাসীর প্রতি হাওড়ার মানুষের নিখাদ ও আত্মিক ভালবাসা বয়ে নিয়ে গেছে।
এবার তাদের লক্ষ্য আরও বড়। তারা চায় ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার ক্ষুধার্ত, বুভুক্ষু মুখগুলোয় একটুকরো স্বস্তি এনে দিতে। সেই উদ্দেশ্যে এদিন সকাল থেকে মুন্সিরহাট ও বড়গাছিয়া অঞ্চলের বাজার ও জনবহুল এলাকাগুলিতে তারা ঘুরে ঘুরে চাঁদা সংগ্রহ করে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা নির্বিশেষে এলাকার সব মানুষজন শামিল হয়েছেন এই মহৎ মানবিক উদ্যোগে।
সংগৃহীত অর্থ দিয়ে খুব শীঘ্রই চাল, ডাল, তেল, বিস্কুট-সহ নানা ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হবে গাজার উদ্দেশ্যে। এজন্য তারা একটি স্বীকৃত ও বিশ্বস্ত এনজিও-র মাধ্যমে সরবরাহের ব্যবস্থাপনা করেছে, যাতে সাহায্য সঠিক জায়গায় নিরাপদে পৌঁছে যায়।
গ্রুপের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, “এই কাজে কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, কিংবা অনলাইনে QR কোড স্ক্যান করেও সাহায্য পাঠাতে পারেন। এটি শুধু দান নয় — মানবতার এক দৃঢ় ঘোষণা।”
তাদের এই প্রয়াস শুধুমাত্র স্থানীয় নয় — সোশ্যাল মিডিয়ায় দৌলতে এখন দেশজুড়ে প্রশংসিত। এই যুবকরা প্রমাণ করেছে, মানবতা ও জাগ্রত বিবেক থাকলে দূরদেশের অজানা মানুষের জন্য ভালবাসা দেখানো যায়, তাদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া যায়।
হাওড়ার কতিপয় যুবকের হাত ধরে সুদূর গাজা উপত্যকার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে একটুকরো আশার আলো। এটাই আমাদের বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রয়োজন – একে অপরের পাশে দাঁড়ানো। কারণ, সত্যিই পৃথিবী গ্রহ এখন অন্তত গাজাবাসীর জন্য বাসযোগ্য নয়। পৃথিবীর আজ গভীর অসুখ।
এমতাবস্থায় সচেতন নাগরিক হিসেবে তারা মনে করে, “মানবতার কোন কাঁটাতারের সীমান্ত হয় না – আজ যদি আমরা গাজার মজলুম, নির্যাতিত, নিপীড়িত, অসহায় ও যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষদের পাশে না দাঁড়াই, তাহলে মানবতা ব্যর্থ হবে।” হাওড়ার এই যুবকদের নিরলস পরিশ্রম ও উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবে, এটাই সবার আশা।








