জনজোয়ারে ভাসল ফরাক্কা, ইমরানের নিশানায় বিজেপি-তৃণমূল
নতুন পয়গাম, অসিম আক্রাম, ফরাক্কা: মুর্শিদাবাদের ফারাক্কা বিধানসভায় নির্বাচনী আবহ ক্রমশই তপ্ত হয়ে উঠছে। রবিবার কংগ্রেসের ডাকে নুরুল হাসান কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভা যেন রূপ নিল জনস্রোতে। মাঠ উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ দিল আসন্ন নির্বাচনে কংগ্রেস শিবিরের শক্তি প্রদর্শনের। কংগ্রেস প্রার্থী মাহতাব শেখ-এর সমর্থনে এই সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ ইমরান প্রতাপগারী। তাঁর ভাষণ শোনার জন্য ফারাক্কা বিধানসভার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক ভিড় জমান। সভামঞ্চ থেকে কবিত্বময় ভঙ্গিতে ও সাইরির ছলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান।গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি থেকে শুরু করে SIR ইস্যু— একাধিক বিষয়ে বিজেপিকে নিশানা করে ইমরান বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে, অথচ সরকার সেই দিক থেকে নজর সরিয়ে রাখতে ব্যস্ত। একই সঙ্গে তিনি কংগ্রেস প্রার্থী মাহতাব শেখের মনোনয়ন বাতিল হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
এদিনের জনসভায় উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ মালদার সাংসদ ইশা খান চৌধুরী। তিনি তাঁর বক্তব্যে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি দুই দলকেই একযোগে আক্রমণ করে বলেন, “তৃণমূল ভয় দেখানোর রাজনীতি করে, আর বিজেপি বিভেদের রাজনীতি করে। নির্বাচন এলেই এই দুই দল মানুষকে ভয়ের মধ্যে রেখে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের চেষ্টা করে।”তিনি আরও দাবি করেন, ফারাক্কায় কংগ্রেস প্রার্থী মাহতাব শেখের জয় নিশ্চিত “এটা শুধু সময়ের অপেক্ষা। আজকের এই জনসমাগমই তার প্রমাণ।”সভাস্থলে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উচ্ছ্বাস। তাঁদের দাবি, ফরাক্কায় কংগ্রেসের জয়ের পথে তেমন কোনো বাধা নেই এবং বড় ব্যবধানে জয়ী হবেন মাহতাব শেখ। একজন সমাজসেবী ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থী হিসেবে এলাকার মানুষের পাশে থাকার জন্য তাঁর গ্রহণযোগ্যতাও ক্রমশ বাড়ছে বলে মত তাঁদের।সভা শেষে কংগ্রেস নেতৃত্বের তরফে জানানো হয়, ২৩ এপ্রিলের নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে এই ধরনের জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। পাশাপাশি বিরোধীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ জোরদার করার বার্তাও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে এই মঞ্চ থেকে।ফরাক্কার রাজনৈতিক মহলের মতে, এদিনের জনসভা শুধু ভিড়ের নিরিখেই নয়, রাজনৈতিক বার্তার দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। ভোটের আগে এই শক্তি প্রদর্শন কংগ্রেস শিবিরকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।








