শর্ত সাপেক্ষে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের অনুমতি
নতুন পয়গাম, হাসান লস্কর, কুলতলী: সোমবার থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে শুরু হয়েছে মধু সংগ্রহের কাজ। তবে এই বিপদসংকুল পেশায় শুধুমাত্র সেই সকল মৌলেদেরই অনুমতি দিয়েছে বনদপ্তর, যাদের বিগত দিনের মধু সংগ্রহের অভিজ্ঞতা আছে এবং যারা বনদপ্তরের নির্ধারিত কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে পারেন।
কারা পেলেন অনুমতি?
বনদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, যাদের বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, যাদের কাছে জেনারেল ইন্সুরেন্স আছে এবং বিগত বছরগুলিতে বৈধ অনুমতিপত্রের জেরক্স কপি ও হাট কপি রয়েছে, কেবল তারাই এ বছর সুন্দরবনের জঙ্গল থেকে মধু সংগ্রহের বৈধ অনুমতি পাবেন। এক কথায়, অতীতের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মৌলেরাই শুধু এই অনুমতি পাচ্ছেন।
কী কী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হল?
মধু সংগ্রহ একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। বাঘ ও কুমিরের আক্রমণ তো আছেই, সঙ্গে রয়েছে জঙ্গলের প্রতিকূল আবহাওয়া। তাই এ বছর মৌলেদের সুরক্ষায় একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা বনদপ্তর। বনদপ্তরের পক্ষ থেকে মৌলেদের দেওয়া হয়েছে প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, মধু রাখার পাত্র, মুখোশ, ম্যাক্সসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। এছাড়া মৌলেদের হাতে দেওয়া হয়েছে অত্যাধুনিক ডিভাইস ও মুঠোফোন, যাতে জঙ্গলে কোনো সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে বনদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। নিরাপত্তার জন্য ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স ও সশস্ত্র বনকর্মী মোতায়েন রাখা হয়েছে। বনদপ্তরের পেট্রোল বোর্ডের পাশাপাশি ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়ার (ডব্লিউটিআই) সদস্যরাও মৌলেদের সহায়তা করবেন। সুন্দরবন বিশেষজ্ঞ প্রতাপ প্রামাণিক, সৌমিত্র মন্ডল, সুব্রত চক্রবর্তী ও ওমর মামুনরা জানান, এই সময় শুষ্ক আবহাওয়া থাকলে খলিশা ফুলের সবচেয়ে গুণসম্পন্ন ফ্রেশ মধু পাওয়া যেতে পারে, যা মৌলেদের জন্য লাভজনক হবে।
কয়টি দল অনুমতি পেল?
দক্ষিণ ২৪ পরগনা বনদপ্তর জানিয়েছে, কুলতলি বিট অফিস, নলগোড়া, ঝড়খালি ও রামগঙ্গা বিট অফিস থেকে মৌলেদের বৈধ পাস দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিগত বছরে কুলতলি বিট অফিস থেকে ৫৫টি দলকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এ বছর দুই শতাধিক দলকে মধু সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হবে। প্রতিটি দল এক পক্ষকাল (১৫ দিন) জঙ্গলে মধু সংগ্রহ করবে এবং সেই মধু বনদপ্তরকে দিতে বাধ্য থাকবে।
মধুর মূল্য কত নির্ধারিত হল?
বনদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর মধুর দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ গ্রেডের মধু ২৭৫ টাকা এবং বি গ্রেডের মধু ২৩৫ টাকা দরে ক্রয় করবে বনদপ্তর। উল্লেখ্য, বিগত বছরে বনদপ্তরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহ, যা সফল হয়েছিল। তবে এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ মেট্রিক টন।
জীবন বীমার ব্যবস্থা:
যেহেতু এটি একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ, তাই বনদপ্তরের পক্ষ থেকে মৌলেদের জন্য বিশেষ জীবন বীমার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সংরক্ষিত বনাঞ্চল বা ‘কোর এরিয়া’তে ঢোকা আইনত নিষিদ্ধ; মৌলেরা শুধু ‘বাফার জোনে’ মধু সংগ্রহ করতে পারবেন। ভবিষ্যতে জঙ্গলে না গিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বক্সের মাধ্যমে মধু চাষে (‘এপিয়ারি’) মৌলেদের উৎসাহিত করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বন আধিকারিক নিশা গোস্বামী।








