বিজেপির যোগ দান কর্মসূচি কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা
নতুন পয়গাম, সঞ্জয় মন্ডল, বাঁকুড়া: রাজ্যের বিধান সভা নির্বাচনের প্রথম দফা আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকী। স্বাভাবিক ভাবেই রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার কর্মসূচি এখন তুঙ্গে।কোনো দলই শেষ মুহূর্তের প্রচার কর্মসূচিতে কোনো ঘাটতি রাখতে রাজী নয়।এমনি একটি পরিস্থিতে বাঁকুড়া জেলার বড়জোড়া বিধানসভায় বিজেপির যোগদান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে । বিভিন্ন সূত্র মাধ্যমে জানা গেছে গত কয়েকদিন আগে খাঁড়ারি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পাঁবয়া গ্রামের ডাকাই শিনি বুথের ৬০ টি ৬০ টি পরিবার তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে তে যোগ দেন। এই যোগ দান কর্মসূচি তে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির বড়জোড়া মন্ডল ৩ এর সভাপতি ধনঞ্জয় গড়াই , বিজেপির বড়জোড়া বিধানসভার প্রার্থী অ্যাডভোকেট বিল্লেশ্বর সিংহ, সোমনাথ কর সহ বিজেপির বহু নেতাও কর্মী।
বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয় বড়জোড়া বিধানসভার খাঁড়ারি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পাঁবয়া গ্রামের ডাকাই শিনি বুথের ৬০ টি পরিবার বড়জোড়া লক তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি সুখেন সিংহের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বিজেপিতে যোগদান করলো। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য পাঁবয়া গ্রামের ডাকাই শিনি বুথের বাসিন্দা। বিজেপির এই যোগদান কর্মসূচির খবর সম্মান মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করে। বড়জোড়া ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি সুখেন সিংহ্ সংবাদ মাধ্যমকে জানান তার বুথে ৪০টি পরিবার বসবাস করে। অথচ বিজেপি নাকি সংশ্লিষ্ট বুথের ৬০ টি পরিবারকে তাদের দলে যোগদান করিয়েছে। বিজেপির এই বক্তব্য সর্বৈব মিথ্যা। সুখেন সিংহ আরো বলেন যারা অভিযোগ করেছেন যে আমার অত্যাচারে অত্যাচারিত হয়ে তারা বিজেপিতে যোগদান করেছে , তাদের উদ্দেশ্যে আমার একটাই বক্তব্য তারা এতদিন কেন আমার অত্যাচারের কথা প্রশাসন অথবা থানায় জানাননি।
ভোট আসার সাথে সাথেই হঠাৎ তাদের মনে হলো আমি অত্যাচারী। সুখেন সিং সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশ্যে জানান সাংবাদিকরা বুথে আসুন , নিজেরা এসে দেখে যান এই বুথে কতজন পরিবার বসবাস করে। বিজেপির উদ্দেশ্যে সুখেন সিংহ জানান বড়জোড়া বিধানসভার বিজেপির প্রার্থী বিল্লেশ্বর সিংহ পেশায় একজন আইনজীবী। একজন আইনজীবী হিসাবে রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বেও তার একটা সামাজিক দায়িত্ব থেকেই যায়। একজন শিক্ষিত মানুষ সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য এভাবে মিথ্যা অপপ্রচার করবেন এটা ভেবে তিনি খুবই মর্মাহত। সুখেন সিংহ আরো জানান একজন আইনজীবী হিসেবে বিল্লেশ্বর সিংহ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন, দেশের সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবেন এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু সাময়িক রাজনৈতিক চমক সৃষ্টির জন্য এরকম মিথ্যা ও প্ররোচনামূলক বক্তব্য রেখেছেন যা তার কাছে তিনি ও গোটা বড়জোড়া এলাকার মানুষ কোনভাবেই প্রত্যাশা করে না। বিজেপির উদ্দেশ্যে সুখেন সিংহ বলেন নির্বাচন একটি রাজনৈতিক লড়াই। রাজনৈতিকভাবেই এই লড়াইয়ের মোকাবিলা করা উচিত। বিজেপির যদি ক্ষমতা থাকে প্রকৃত সত্যকে সামনে নিয়ে এসে অন্যায় স্বীকার করুক। তিনি আরো বলেন যতদিন যাচ্ছে বিজেপি বুঝতে পারছে বড়্যরা বিধানসভায় তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই। তাদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে এখন তারা বিভিন্ন প্ররোচনা এবং অসত্য বক্তব্য রেখে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে। বিজেপি যত এই ধরনের ঘটনা ঘটাবে তৃণমূলের ততই লাভ। কারণ সত্য কখনো চাপা থাকে না। সুখেন সিং বলেন বড়জোড়ার গণতন্ত্র প্রিয় মানুষ বিগত দিনে যেভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে ছিল , বর্তমানে আছে এবং আগামী দিনেও থাকবে।








