ভোট প্রচার ছেড়ে দ্রুত রক্তদানের ব্যবস্থা করলেন বড়জোড়ার সিপিআইএম প্রার্থী
নতুন পয়গাম, সঞ্জয় মন্ডল, বাঁকুড়া: ভোট বঙ্গে নানা রঙ্গ দেখতে দেখতে ক্লান্ত ও বিরক্ত হয়ে উঠেছে বাংলার মানুষ। নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নেমে প্রচারের আলোয় উঠে আসার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির প্রার্থীরা মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। গত লোকসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডা: সুভাষ সরকারের মতন একজন শিক্ষিত ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ শুধুমাত্র ভোটে জেতার জন্য ভোট প্রচারে বেরিয়ে একজন সাধারণ মানুষকে সাবান মাখিয়ে স্নান করিয়ে দিচ্ছেন , এই দৃশ্য দেখে বাঁকুড়ার মানুষ অবাক হয়ে গেছিল। সুভাষ সরকারের মতন একজন মানুষের কাছ থেকে এই ধরনের বালখিল্য আচরণ মানুষ মোটেই পছন্দ করেনি।
এত কিছুর পরেও কিন্তু সুভাষ বাবু আর ভোটে জিততে পারেননি। যদিও তার ভোটে জিততে না পারার জন্য কাউকে সাবান দিয়ে স্নান করিয়ে দেওয়াটা যেমন কোন কারণ না হলেও রাজ্য রাজনীতিতে তার ওজন যে অনেকটাই হালকা হয়ে গেছে তা বলাই বাহুল্য। গত লোকসভা নির্বাচনে যে দৃশ্য দেখে বাঁকুড়ার মানুষ অবাক ও বিরক্ত হয়ে উঠেছিল , এবারের বিধানসভা নির্বাচনে সেই একই ধরনের ছবি বারবার সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসছে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ও বিজেপির বেশ কিছু প্রার্থী নিজের আচরণকে এমন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন যাতে করে তাদেরকে মনে হচ্ছে তারা যেন সার্কাসের জোকার। কোন প্রার্থী প্রচারে বেরিয়ে আটা মেখে রুটি করে দিচ্ছে, কেউ দাড়ি কামিয়ে দিচ্ছে, কেউ মাছের ঝোল ভাত রান্না করে খাইয়ে নিজে খেয়ে বাসন মেজে দিচ্ছে, কেউ আবার ঘুঁটে দিয়ে দিচ্ছে, কেউ জমিতে ঘাস নিড়িয়ে দিচ্ছে তো কেউ আবার রাজমিস্ত্রির সাথে দেওয়াল গেঁথে দিচ্ছে। প্রার্থীরা এই ধরনের কাজ যে আবেগ দিয়ে করছে তা নয়, খুব সহজে প্রচারে আসার এই মরিয়া চেষ্টা কিন্তু বাংলার মানুষ মোটেই ভালো চোখে দেখছে না।
ব্যতিক্রমী মানুষ, ব্যতিক্রমী চিন্তা সমাজে কম থাকলেও এখনো তা সমাজ থেকে হারিয়ে যায়নি। সারা বাংলার মানুষ নির্বাচনী প্রচারের সার্কাসের মাঝে এমন এক ঘটনার সাক্ষী হয়ে রইল যা সত্যিই তাদের মনের মনিকোঠায় তোলা থাকবে। ঘটনাটি ঘটেছে বড়জোড়া বিধানসভায়। গত দুদিন আগে বড়জোড়া বিধানসভার বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআইএম প্রার্থী সুজিত চক্রবর্তী এক রোগীর রক্তের ব্যাপারে বড়জোড়া সুপার স্পেশালিটি হসপিটালের ব্লাড ব্যাঙ্কে ফোন করেন। ব্লাড ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানান রক্তের চরম সংকট চলছে, তাই রক্ত পাওয়া যাবে না।
এই কথা শুনে সিপিআইএম প্রার্থী সুজিত চক্রবর্তী তৎক্ষণাৎ সিপিআইএমের। ছাত্র ও যুবদের যে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলি আছে তাতে সমস্যার কথাটি লেখেন। ছাত্র যুব কর্মীরা সিদ্ধান্ত নেন রক্তের সংকট কাটাতে তারা বর্জড়া সুপার স্পেশালিটি হসপিটালের ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তদান করবেন। সেই মোতাবেক আজ এসএফআই ও ডি ওয়াই এফ আই এর কর্মীরা বড়জোড়া সুপার স্পেশালিটি হসপিটালের ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তদান করেন। নির্বাচনী প্রচার ছেড়ে রক্তের সংকট মেটাতে তৎপর বড়জোড়া বিধানসভার সিপিআইএম প্রার্থী সুজিত চক্রবর্তী ও তাদের দলের ছাত্র ও যুব সংগঠনের কর্মীরা নিঃসন্দেহে নিজেদের কাজ দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। সিপিআইএমের ছাত্র ও যুব সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে জীবনের প্রয়োজনে রক্তদান তাদের রাজনৈতিক আদর্শেরই একটা অঙ্গ। এই কাজ করার মধ্যে দিয়ে তারা তাদের আদর্শের প্রতি আদর্শের প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছে এর থেকে বেশি কিছু তারা মনে করছেন না। বিগত বিধানসভা নির্বাচনে বিধানসভায় সিপিআইএম শুন্য হলেও আদর্শগতভাবে তারা যে এখনো ১০০% পরিপূর্ন তা নিয়ে কোন প্রশ্নই নেই।








