আরো এক ধাপ এগিয়ে মধ্যমগ্রামের প্রতিবিম্ব ফাউন্ডেশন
নতুন পয়গাম, হাসান লস্কর বাবলু, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা: স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, “যদি জন্মেছিস তবে একটা দাগ রেখে যা।” ভারি চমৎকার কথা। সকল স্তরের মানুষের সঙ্গে নিয়ে অসহায়ের পাশে থাকার মানবিকতা নিয়ে প্রতিবিম্ব ফাউন্ডেশন। তাদের চলার পথে সত্যিই ক্রমশ দাগ রেখে চলেছে। উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের এই প্রতিবিম্ব ফাউন্ডেশনের সদস্যরা দূর আকাশের নেশায় পাগল হয়ে কেবলই জনসেবা করে চলেছে এবং আনন্দিত হয়েছে। অপরের সুস্থতার আনন্দে যে এত সুখ হতে পারে, তা যেন ক্রমশ বেশি করে উপলব্ধি করতে পারছে তারা।
এবার তাদের গন্তব্য ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলির ভাষা চৌমাথা গ্রামের প্রান্তিক কৃষক, মৎস্যজীবী ও দুঃস্থ-অসহায়দের কাছে। বিশেষত তাদের পরিবারের মহিলাদের শারীরিক সুস্থতার দিকে লক্ষ্য রেখেই এই প্রকল্পটিকে বেছে নিয়েছিল। এদের ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার প্রতিও নজর ছিল এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের। এর আগে একাধিক জেলায় যেভাবে বসিরহাটের পিফা গ্রামের মহিলাদের সুস্থতার দিকে লক্ষ্য রেখে ওষুধ-পত্র, কোমরের বেল্ট, চলার জন্য হাতের লাঠি ইত্যাদি দিয়েছিল, ঠিক সেভাবেই কুলতলির মহিলাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রেসার মেপে, রক্ত পরীক্ষা করে, বুক পরীক্ষা করে বিভিন্ন রকমের ওষুধ-পত্র দিতে পেরেছে তারা। এদের জন্যও নানা রকমের জিনিস দিয়েছে। বিশেষত তাদের কৃতজ্ঞতা এবং আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করার ক্ষমতা দেখে এই সমস্ত কর্মব্যস্ত ডাক্তারদের চোখে জল এসে গিয়েছিল। সত্যিই যেন এক মহৎ কাজ করার স্বীকৃতি লাভ করেও নিজেরা ধন্য হয়েছে।
এই কাজে এবার যাঁরা ব্রতী হয়েছিলেন অর্থাৎ যাঁরা গিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন সেক্রেটারি দেবাশিস ঘোষ, মিনাক্ষী, শ্রীলেখা, সংকলন, বরুণ, অভিজিৎ (বাপি) এবং ডা. দেবাঞ্জন। প্রতিবিম্ব ফাউন্ডেশনে এই সব হীরক-রত্নদের পাওয়ায় খুশির সীমা নেই তাদের। এদের প্রত্যেকের প্রতি এই সংগঠন কৃতজ্ঞ। আগামী দিনে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত দ্বীপগুলিতে মানবিকতার নজির গড়ার পরিকল্পনা তাদের। এই সংগঠনের কর্মকর্তাদের কথায় গ্রামের সমস্ত অধিবাসীদের প্রতি তাদের খুশি আমাদের স্পর্শ করেছে।








